২০১৪ সালের পরে আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যত নিয়ে স্পষ্ট করে জানতে মস্কো থেকে স্থির করা হয়েছে. এই জোটের নেতৃত্ব একাধিকবার ঘোষণা করেছে যে, এই সময়ের মধ্যেই এই দেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার কাজ শেষ হয়ে যাবে. কিন্তু বর্তমানে পাওয়া খবর থেকে দেখা যাচ্ছে যে, আফগানিস্তানে বিদেশী ঘাঁটি তাও থেকেই যাবে. এই প্রশ্নে শেষ অবধি স্বচ্ছ উত্তর পাওয়ার জন্য রাশিয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় ন্যাটো জোটের সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুস্সেনের সঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাক্ষাত্কারের সময়ে প্রসঙ্গের উত্থাপন করবে.

ইউরোপে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা ইউরোপ্রো সংক্রান্ত বিষয়ে ন্যাটো জোটের সঙ্গে কোন রকমের ফল দায়ক আলোচনা সম্ভব হচ্ছে না বলেই মস্কো আফগানিস্তানে পশ্চিমের পরিকল্পনা নিয়ে খুবই জেদি অবস্থান নিয়েছে. দুটি ক্ষেত্রেই কথা হচ্ছে রাশিয়া নিরাপত্তা নিয়ে ও সেই এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও যা রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ গুলিতে হতে পারে, আর তাই রাশিয়ার কূটনীতিবিদদের সক্রিয়তা সম্পূর্ণ ভাবেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে. রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিনের মতে আফগানিস্তান রাষ্ট্রে সামরিক ঘাঁটি রেখে দেওয়া অনেক প্রশ্নের উত্থাপন করে. কারণ যদি ২০১৪ সালে ন্যাটো তাদের সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনের শেষ বলে ঘোষণা করে, তবে ন্যাটো জোটের সৈন্য দলের সেখানে থেকে যাওয়ার অর্থ হবে, তারা অন্য কোনও ধান্ধায় থেকে গেছে, যার সম্বন্ধে এখনও কোনও রকমের স্পষ্ট কথা শোনা যায় নি.

রাশিয়া ঠিক করেছে নিজেদের অবস্থানকে খুবই নির্দিষ্ট করে রূপ দিতে: যদি সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই করার আরও প্রয়োজন হয়, তবে এর জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনী রাখার জন্য মিশনের সময়সীমা বাড়াতে হবে. রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো মনে করেন যে, আফগানিস্তানের দিকে ন্যাটো জোটের সঙ্গে বর্তমানের কার্যকারণ সম্বন্ধ রেখে রাশিয়া সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, আর তা করা দরকার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই. তিনি বলেছেন:

“আমরা সেই কারণেই চিন্তিত যে, ২০১৪ সালের পরে আন্তর্জাতিক ভাবে আফগানিস্তানে উপস্থিতি কি রকমের হবে, আর আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে সেই বিষয়, যে, যে সমস্ত তথ্য আমাদের কাছে এসেছে, তার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, সেখানে বড় ঘাঁটি তৈরী করা হচ্ছে, যেগুলিতে এমনকি বহু সহস্র সৈন্য মোতায়েন করে রাখা সম্ভব. এই সবই আফগানিস্তানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার বিপক্ষে যাচ্ছে. আমরা সেই অবস্থান থেকেই কথা বলছি যে, কোন রকমের বাড়তি সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই”.

আলেকজান্ডার গ্রুশকো যোগ করেছেন যে, রাশিয়ার আফগানিস্তানে সামরিক প্রশিক্ষকদের রেখে দেওয়ার বিষয়ে বোধ রয়েছে, যারা আফগানিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষী কর্মী ও সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন. অন্য কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে, তা এমনিতেই রাশিয়া ও জোটের মধ্যে যথেষ্ট জটিল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় রাশিয়া একই সঙ্গে পরিকল্পনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানের মিশন নিয়ে মন্তব্য করতে আহ্বান করার. আর এখানেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে. জানাই রয়েছে যে, বিশেষ কোন রকমের সাফল্য তারা সেখানে পায় নি. সন্ত্রাসবাদ, বা বিশাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা, যা আফগানিস্তানে ছিল, তা ন্যাটো জোটের অনুপ্রবেশের পরে কেন ভাবেই কমে নি, বরং আরও বেড়েছে. তাই এই মিশন অসফল হয়েছে বলা হলে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ কখনোই এর সময়সীমা বাড়াতে চাইবে না. আর যদি বলা হয়েছে যে, সফল হয়েছে, তবে এই যুক্তি মেনেই আফগানিস্তানে কোন রকমের ঘাঁটি রাখারই কোনও দরকার নেই, স্রেফ সেনাবাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার. এই প্রসঙ্গে নিজের মত নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ পাভেল জোলোতারিয়েভ বলেছেন:

“এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে, যখন স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যে আমেরিকার লোকরা তাদের অপারেশন শেষ করে ফেলেছে অথবা এর আরও সময় বাড়বে, তা অবোধ্য. যদি বাড়ে, তবে এটা করা দরকার হবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের উপরেই ভিত্তি করে. শুধু আমেরিকার প্রশাসনের মতের উপরে ভিত্তি করে এই ধরনের কাজ চালিয়ে যাওয়া একেবারেই ঠিক হবে না, তাই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রশ্নের উত্থাপন খুবই আইন সঙ্গত”.

বোঝাই যাচ্ছে যে, ওয়াশিংটনের এখনও মত পরিবর্তনের সময় রয়েছে. যেমন, রাশিয়ার অনুরোধ উপেক্ষা করা অথবা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এড়িয়ে কাজ করা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধারণাকে সমর্থন করে প্রায়ই আরও বেশী করে নানা ভাষণ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে. শুধু মস্কোরও এই ক্ষেত্রে প্রত্যুত্তরে দেওয়ার মতো নানা উপায় থেকে যাবে.