রাশিয়ার যুদ্ধবিমান টি – ৫০ এর ভিত্তিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য যৌথ ভাবে তৈরী করা পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফজিএফএ তৈরীর চুক্তি এই বছরের শেষের আগেই স্বাক্ষরিত হতে পারে. ভারত রাশিয়ার জন্য যুদ্ধ বিমান নির্মাণের বিষয়ে এক স্বাভাবিক সহকর্মী দেশে পরিণত হয়েছে, - এই রকম মনে করে স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন বলেছেন যে, আশা করা হচ্ছে যে, এই ধরনের বিমান নির্মাণের জন্য চুক্তি হবে আগামী ২০ বছরের জন্য, যে সময়ের মধ্যে ভারত কিনবে ২০০টি যুদ্ধ বিমান. এই সংখ্যার মধ্যে তিন ধরনের বিমান, যা ভারতে পাঠানো হবে যথাক্রমে ২০১৪, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে. এই ধরনের বিমান গুলি ভারতীয় বিমান চালকরা পরীক্ষা করে দেখবেন, যাতে ভারত এই ধরনের বিমানের প্রতি নিজেদের প্রয়োজন সম্বন্ধে সঠিক করে নির্ণয় করতে পারে.

সুতরাং দুই বছরের মধ্যেই ভারত পরীক্ষা করে দেখার জন্য পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পেতে চলেছে. এই ধরনের বিমান ভারতের জন্য বহুল পরিমানে তৈরী করার সময় সীমা রাশিয়ার বিমানবাহিনীর জন্য এই বিমানের উত্পাদনের সময়কাল হিসেব করে দেখা গিয়েছে যে, এই দশক শেষের আগেই হতে পারে.

বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন “রেডিও রাশিয়াকে” আরও ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, এই ধরনের সংখ্যায় যুদ্ধ বিমান ক্রয়ের অর্থ হল যে, এই বিমান ভারতীয় বিমান বাহিনীর এক বিরাট অংশে থাকবে, যেখানে একই সঙ্গে থাকবে সু- ৩০ এমকাই ও ফরাসী রাফালে বিমান, তারই সঙ্গে যোগ করা হবে ভারতে উত্পাদিত এলসিএ বিমানও. ভাসিলি কাশিনের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে পঞ্চম প্রজন্মের বিমান উত্পাদনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি – এটা ভারতের তরফ থেকে চিনে যে দুই ধরনের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরীর পরিকল্পনা হয়েছে, তারই উত্তর.

ভারতের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিনের সামরিক বিমান বাহিনী বিগত বছর গুলিতে যুদ্ধের প্রস্তুতি সক্রিয় করেছে বিশেষত উঁচু পাহাড়ী জায়গায় এবং তিব্বতে. তাছাড়া এই এলাকায় চিন সক্রিয় ভাবে সামরিক বিমান ঘাঁটি বানাচ্ছে. যদিও এই দুই দেশের মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে কথা বলা এখনও তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে, তবুও ভারত চায় না নিজেদের বিমান বাহিনীর ক্ষেত্রে চিনের চেয়ে প্রযুক্তিগত ভাবে বেশী রকমের পিছিয়ে পড়তে.

রাশিয়ার জন্য ভারত সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সবচেয়ে কাছের সহকর্মী দেশ. এমনকি ঠাণ্ডা যুদ্ধের বছর গুলিতেও ভারত সোভিয়েত দেশের কাছ থেকে বেশী আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ পেয়ে এসেছে, যখন ওয়ারশ চুক্তি বদ্ধ দেশ গুলিতেও তত আধুনিক অস্ত্র রপ্তানী করা হত না. যদিও বিভিন্ন সময়ে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে মতের অমিল দেখতে পাওয়া গিয়েছে, যা সাধারণত নির্দিষ্ট প্রকল্প গুলির প্রযুক্তি অথবা আর্থিক দিক নিয়ে, তবুও দুই দেশের মধ্যে রাশিয়ার বুদ্ধিজাত সম্পদ অপহরণ নিয়ে বড় ধরনের কোনও স্ক্যান্ডাল হয় নি.

তাই ভারত রাশিয়ার জন্য যৌথ ভাবে যুদ্ধ বিমান নির্মাণের বিষয়ে স্বাভাবিক সহকর্মী দেশই হয়েছে. এই ক্ষেত্রে খুবই বড় অভিজ্ঞতা রয়েছে. আগে সোভিয়েত দেশ ও রাশিয়া ভারতে বেশ কয়েকটি ধরনের নিজেদের যুদ্ধ বিমানের লাইসেন্স সহ উত্পাদনের ব্যবস্থা করেছে – তার মধ্যে আছে মিগ – ২১, মিগ- ২৭, সু- ৩০ এমকাই ইত্যাদি. ১৯৬৬ সালেই ভারতে প্রথম লাইসেন্স প্রাপ্ত মিগ – ২১ বিমান বানানো হয়েছিল, আর সু- ৩০ এমকাই এখনও অবধি বানানো হচ্ছে. ভারত সেই সব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে খুবই বড় ধরনের সুযোগ পেয়েছে ও তার মধ্যে ইঞ্জিন বানানোর লাইসেন্স রয়েছে, কিন্তু কখনোই ভারত রাশিয়াকে এড়িয়ে বা ক্ষতি হতে পারে এমন ধরনের কোনও কাজ করে নি.

রাশিয়ার অন্য এক সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগী দেশ চিনের সঙ্গে ১৯৯০ ২০০০ এর দশকে কিছু যৌথ কাজ করা হয়েছে. এর উদাহরণ হতে পারে চিনের প্রশিক্ষণ ও পরিবহনের বিমান এল – ১৫, যা রাশিয়ার ইয়াক – ১৩০ প্রকল্পের অনুকরণে তৈরী করা হয়েছে. তা স্বত্ত্বেও, ভাসিলি কাশিন মনে করেন যে, ভারতের মতো চিনের সঙ্গে এই ধরনের সহযোগিতার পথ ততটা প্রশস্ত নয়. চিনের কাছে রয়েছে ভারতের চেয়ে আরও বেশী শক্তিশালী শিল্প, আর অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বের অস্ত্র বাজারে তারাই রাশিয়ার অন্যতম প্রতিযোগী. চিনে লাইসেন্স দিয়ে সু – ২৭ বিমান তৈরী করার ইতিহাস দেখিয়েছে যে, চিন চেষ্টা করে বিদেশী সহকর্মীর প্রযুক্তির সম্পূর্ণ রকমের নকল করে, নিজেরাই পরে তা তৈরী করতে ও বিদেশে রপ্তানী করতে. তাই চিনের সঙ্গে যৌথভাবে জটিল ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সামরিক দ্রব্যের প্রকল্প ও উত্পাদনে ঝুঁকি অনেকটাই বেশী.