বিশ্ব নতুন বিনিময় যোগ্য মুদ্রা নিয়ে যুদ্ধের সামনে উপনীত হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্থির করেছে কোন রকমের মূল্যবান সঞ্চয়ের বিনিময় ব্যতিরেকেই আরও বেশী করে ডলার ছাপার বন্দোবস্ত করার. এই “ছোঁয়াচে রোগ” ধরেছে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ও জাপানের ব্যাঙ্কেরও. “মূল্যহীণ” ব্যাঙ্ক নোট ছাপার বিষয়ে নিয়ন্ত্রণকারীদের দলে যোগ দিয়েছে ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডও.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওঠা বিনিময় যোগ্য মুদ্রার ঢেউ ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে, যদিও এই ধরনের মুদ্রা ছাড়া হবে নভেম্বরে বলে কথা হয়েছে. ব্রাজিলের রিয়্যালের দাম বেড়েছে, মেক্সিকোর পেসো, পোল্যান্ডের জ্লোতী, কোরিয়ার ভন সব কিছুরই দাম বেড়েছে. চিনের ইউয়ান যদিও বাজারে ছড়ানো আতঙ্কে প্রভাবিত হয় নি, তবুও খুব সম্ভবতঃ চিনের জাতীয় ব্যাঙ্ক বিনিময় হারের উপরে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে বলেই মনে হয়েছে. কিন্তু ডলারের দাম পড়লে, আগে বা পরে যখনই হোক না কেন, ইউয়ানের দাম বাড়তে বাধ্য.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বৃষ্টি ডলারেরই দাম কমাবে প্রায় শতকরা ২০ ভাগ, বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা. এর অর্থ হল যে, ইউয়ানের দাম বাড়া মনে হচ্ছে এড়ানো যাবে না. ইউয়ানের দাম বাড়ার পেছনে ইউরো আর ইয়েনের দাম কমাও প্রভাব ফেলবে. বিশ্বায়নের সমস্যা নিয়ে গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর মিখাইল দেলিয়াগিন দেখতে পাচ্ছেন এই কারণে দেশ গুলির মধ্যে বাড়তি রকমের সম্পর্কে সমস্যা উদয় ও বিশ্ব জুড়েই সমস্যার সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা, তাই তিনি বলেছেন:

“সেই সব দেশ যেগুলি আপাততঃ এই ধরনের বিনিময় যোগ্য মুদ্রায় নিজেদের সঞ্চয় জমা করেছে, তারা রীতিমত চমকে উঠেছে. এটা সত্যই বিনিময় যোগ্য মুদ্রা নিয়ে যুদ্ধ. সেই যুদ্ধ গুলি আরও ভারী রকমের ও গভীর আরও এই কারণে হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ নিজেদের উত্পাদনকে সহায়তা করার জন্য নিয়মিত ভাবেই নিজেদের মুদ্রার দাম কমাচ্ছে”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঋণ পত্রের বোঝা রয়েছে চিনের হাতে. তাদের রাষ্ট্রীয় ঋণপত্রে তারা প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে. তার মধ্যে আবার গত সাত মাসে চিন এই বিনিয়োগ আরও বাড়িয়েছে. জুলাই মাসে যেমন, তারা আমেরিকার ঋণ আবার করে কিনেছে প্রায় ২০৪ কোটি ডলারের. নিজেদের ঋণ কৃত্রিম ভাবে শুধু নতুন করে ডলার ছাপিয়ে যে চেষ্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করতে চলেছে, তা আপনা হতেই সেই সমস্ত মূল্যবান ঋণপত্রের দাম, যা তারা চিনকে বিক্রী করেছে, তা কমিয়ে দেবে. কারণ এই পত্র বিক্রী করার সময়ে চিন এই গুলি কেনার জন্য যত অর্থ ব্যয় করেছে, তার থেকে কমই পাবে. এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ ইয়ারোস্লাভ লিসোভোলিক বলেছেন:

“উন্নত বাজার গুলিতে নিজেদের সঞ্চয় রাখার ফলে চিনের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে. তাই চিন, অবশ্যই নিজেদের সঞ্চয় বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে রাখার পথে চলবে. আমি মনে করি যে, তারা এই পথে খুবই পরম্পরা মেনে চলতে বাধ্য আমেরিকার ঋণ পত্রে সঞ্চয় করা থেকে খুব দ্রুত এই অর্থ সরিয়ে নেওয়া হলে, তা ডলারকেই পতনে সাহায্য করবে. আর এটা চিনেরই সঞ্চয়ের উপরে আঘাত হানবে. তাই চিন কাজ করবে খুবই সন্তর্পণে ও আস্তে ধীরে, যা সাধারণত তারা করেই থাকে”.

আজ চিন বিশ্বের প্রায় তিরিশটি দেশের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় নিয়ে চুক্তি করে রেখেছে. তার মধ্যে রয়েছে রাশিয়াও. এছাড়া রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া. তার ফলে এই দেশ গুলির মধ্যে বাণিজ্যে ক্ষেত্রে হিসাব নিকাশ করা সম্ভব হয় জাতীয় মুদ্রাতেই, ডলার ও ইউরো মুদ্রাকে হিসাবের মধ্যে না নিয়ে. এই ধরনের বাণিজ্য থেকে রপ্তানী কারক কোম্পানী গুলি দ্বিগুণ ফল খুব শীঘ্রই দেখতে পাবে, যখন সস্তা ইউরো ও ডলারে বাজার ছেয়ে যাবে.

এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, আসন্ন ডলারের ত্সুনামি ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাধ্য করবে খুবই সক্রিয় ভাবে পারস্পরিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় মুদ্রাকেই ব্যবহার করতে. এই বছরের বসন্তে নয়া দিল্লী শহরে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রিকস দেশ গুলির নিজেদের উন্নয়ন ব্যাঙ্ক তৈরী খুবই দ্রুত করলে, এই দেশ গুলির জাতীয় মুদ্রাই বেশী করে স্থিতিশীল ও বাড়তি রকমের মজবুত হতে পারবে.