আরব লীগ ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ সিরিয়া সঙ্কট সংক্রান্ত প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি মস্কো ও বেজিং সফরে আসছেন. এই প্রসঙ্গে তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পরে সদর দপ্তরে জানিয়েছেন. এই প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, সিরিয়াতে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে ও এই সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক শক্তি প্রয়োগ এখন কানা গলিতে গিয়ে আটকেছে.

সমর্থনের জন্যই লাখদার ব্রাহিমি মস্কো ও বেজিং আসছেন. আজকের দিনে বিশেষ প্রতিনিধির একটি মূল কাজই হল – সেই পরিস্থিতি দূর করা, যখন সিরিয়ার সমস্যায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে. এই দৃষ্টিকোণ থেকে মস্কো ও বেজিং যাত্রা তাঁকে বিশ্বের অন্যান্য রাজধানী গুলিতে বাড়তি যুক্তির উপকরণ দিতে পারে, আগামী আলোচনার জন্য, এই কথাই উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ নেল্লি কুশকোভা বলেছেন:

“ব্রাহিমি চেষ্টা করছেন কোন একটা মধ্যপন্থা খুঁজে বের করতে, যা সিরিয়াতে হিংসার অবসান করতে পারে ও পক্ষ গুলিকে আলোচনার টেবিলে বসাতে সমর্থ হয়. এই অবস্থান রাশিয়া ও চিনের অবস্থানের খুবই কাছাকাছি, যারা নিজেরাও বলছে যে, সমস্ত পক্ষই কোন রকমের প্রাথমিক শর্ত ছাড়াই আলোচনা শুরু করতে বাধ্য ও হিংসা পরিহার করতে বাধ্য. ব্রাহিমি চাইছেন সমর্থন পেতে ও আরও একবার ভরসা পেতে যে, রাশিয়া ও চিনের অবস্থান – এই সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানেরই পক্ষে. তিনি চাইছেন এই বিষয়ে তাঁদের সমর্থন পেতে ও সন্দেহ নেই যে, তিনি তা পাবেনও”.

এই প্রসঙ্গে মস্কো থেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি সেই বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নিতেই পারেন, যাতে শেষ অবধি দামাস্কাস ও বিপক্ষদের আলোচনার টেবিলে বসানো সম্ভব হয়. রাশিয়ার নিকটপ্রাচ্য সংক্রান্ত পররাষ্ট্র নীতি দপ্তরের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা গেন্নাদি গাতিলভ মনে করেন যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ তাদের দেশে পরিস্থিতিকে বর্তমানে আবার করে ভেবে দেখতে শুরু করেছে. কূটনীতিবিদের কথা অনুযায়ী যারা বাশার আসাদের আজ যুদ্ধ করছে, তাদের অনেকেই বুঝতে পেরেছে যে, বাইরের দেশ থেকে দেশে পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়া যাবে না. এখন এই বোধকেই সরকারি দামাস্কাস ও বিপক্ষের মধ্যে আলোচনায় পরিবর্তিত করতে হবে.

রাশিয়ার কূটনীতিবিদের এই মত তিনি সিরিয়ার বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সম্মেলনের পরেই দিয়েছেন. দেশের রাজধানীতে তা হয়েছিল ১৫টি দলের অংশগ্রহণে. এই সম্মেলনে অতিথি হিসাবে বেশ কিছু দেশের কূটনীতিবিদেরা ছিলেন, তাঁদের মধ্য রাশিয়া থেকেও প্রতিনিধি ছিলেন. এই সম্মেলনের আয়োজনের জন্য সক্রিয় এক অংশগ্রহণকারী সিরিয়ার “শ্রমিক কমিউনিস্ট পার্টির” নেতা ফাতেহ ঝামুস সম্মেলনের ফলাফল নিয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” বলেছেন:

“আমাদের জন্য প্রধান লক্ষ্য ছিল এই বিরোধের অবসানের জন্য পথ খুঁজে বের করা, যা সিরিয়ার জনগনকে বন্দুকের গুলির থেকে রক্ষা করবে, বিস্ফোরণ ও রক্তক্ষয় থেকেও. আমরা সকলেই ইরাকের কথা মনে করতে পারি, যখন “স্বৈরতন্ত্রীর পতনের” পরিকল্পনা শুধু ধ্বংস ও মাত্স্যন্যায়ই নিয়ে এসেছিল. সিরিয়াতে কিছুতেই বাইরে থেকে সামরিক অনুপ্রবেশ হতে দেওয়া যেতে পারে না. এখানে অস্ত্র সমস্ত সমস্যার সমাধান করবে না, এটা সেই রকমের ঘটনাই নয়. যদি কোন ধারণা থাকে, তবে আলোচনার জন্য রয়েছে টেবিল ও প্রস্তাব সমস্তই গৃহীত হতে পারে. আমরা, দেশের ভিতরের বিরোধী পক্ষ, আমরা দেশে শান্তিপূর্ণ পথেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলছি”.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরে যেমন ঘোষণা করা হয়েছে যে, মস্কো এই সম্মেলনের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে ও তাদের কার্যকরী পরিষদের সঙ্গেও. তার ওপরে এই সম্মেলনে যারা সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছিলেন, তারা সকলেই আগে মস্কো এসেছেন ও নিজেদের অবস্থান রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সিরিয়ার সঙ্কট অবসানের পথের সঙ্গে মিলিয়েও নিয়েছেন.