বিমানবাহী জাহাজ “বিক্রমাদিত্য” (প্রাক্তন “অ্যাডমিরাল গর্শকভ”), যা ভারতের নৌবাহিনীর বরাতে রাশিয়াতে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, তার প্রধান পরীক্ষা গুলি সাফল্যের সঙ্গেই শেষ হয়েছে, এই কথা ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন. তাঁর কথামতো, “এই জাহাজের বয়লার গুলির তাপ বিকীরণ বন্ধ করার ব্যবস্থা বদল করার পরে এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য এক শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হবে”. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

শ্বেত ও ব্যারেন্ট সাগরে চলাচল পরীক্ষার হয়েছে এই জাহাজের পরীক্ষা. কম ও মাঝারি গতিতে সব কিছুই ঠিক ছিল. সবচেয়ে বেশী গতি যা এই বিমান বাহী জাহাজ অর্জন করতে পেরেছে, তা ছিল ঘন্টায় ২৭, ৯ ন্যটিক্যাল মাইল. জাহাজের সমস্ত ব্যবস্থা ও যন্ত্রপাতি, জাহাজের বিমান ওঠা নামার সমস্ত ব্যবস্থা ও আরও অনেক কিছুই পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে. মিগ – ২৯ কেউবে ধরনের বিমান, হেলিকপ্টার কা- ২৭ ও কা- ৩১ এই বিমান বাহী জাহাজের উপরে স্বচ্ছন্দে ওঠা নামা করে দেখেছে.

কিন্তু যখন সবচেয়ে বেশী গতি বৃদ্ধি করে দেখার চেষ্টা করা হয়েছিল ও জাহাজের সমস্ত ইঞ্জিন গুলিকেই সম্পূর্ণ শক্তিতে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখনই সমস্যার শুরু হয়েছিল. কিছু বয়লারের তাপ থেকে রক্ষা করার আস্তরণ ফেটে গিয়েছিল, আর কয়েকটিতে একেবারেই ভেঙে পড়েছিল, যার ফলে যত দূর পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়তে দেওয়া যেতে পারে, তার উপরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছিল. পরীক্ষা বন্ধ করতে হয়েছিল. এই জাহাজকে জাহাজ নির্মাণ কারখানা “সেভমাশ” নিয়ে আসা হয়েছে ও এই সমস্ত জিনিষের মেরামত শুরু হয়েছে.

এই পরিস্থিতি খুব বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয় নি. কিন্তু রাশিয়ার জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মর্যাদা কলঙ্কিত হয়েছে. এই রকম উল্লেখ করে ভারতের রাজনীতিবিদ ভিনয় শুক্লা বলেছেন:

“ভারতে খুবই হতাশার সঙ্গে “বিক্রমাদিত্য” জাহাজের পরীক্ষার কথা শোনা হয়েছে. এই জাহাজ দেওয়ার বিষয়ে দেরী হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে দেরী হবে ও পুরনো ভারতীয় বিমানবাহী জাহাজ “বিরাটকে” সচল অবস্থায় রাখতে বাড়তি খরচ করতে হবে, এটা একটা বাড়তি খরচ হয়ে দাঁড়াবে, কিন্তু তা করতেও হবে. তাছাড়া “বিক্রমাদিত্য” জাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি আবার ভারতে কিছু মহলে রাশিয়ার সামরিক উত্পাদন শিল্প নিয়ে সন্দেহের অবকাশ দিয়েছে. তা স্বত্ত্বেও আমরা আশা করব যে, সমস্ত ত্রুটি সারিয়ে আগামী বছরেই এই জাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হবে, আমাদের সামরিক নৌবাহিনীর সবচেয়ে বেশী যুদ্ধ করার ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ হবে”.

এই সব খারাপ হয়ে যাওয়া নিয়ে তদন্তের ফলে দেখা গিয়েছে যে, এই বাষ্পীয় বয়লার গুলির তাপ বিকীরণ ব্যবস্থার আস্তরণ খারাপ হওয়ার পিছনে ভারতীয় পক্ষের পছন্দ রয়েছে. জাহাজটির নবীকরণের প্রকল্পের সময়ে এই আস্তরণ রাশিয়ার অন্য সমস্ত জাহাজের মতই দেওয়ার কথা ছিল অ্যাসবেস্টস দিয়ে, কিন্তু ভারতীয় পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছিল যে, এই আস্তরণ জাহাজের নাবিকদের শারীরিক ক্ষতির কারণ হলেও হতে পারে, বলে এটিকে চিনের থেকে আনা তাপ সহ্য করতে পারে এমন ইঁট দিয়ে আস্তরণ দিতে হবে, যে সাধারণ আস্তরণে ইঁট জাহাজের সবচেয়ে বেশী গতিতে চলার সময়ে উত্পন্ন তাপ সহ্য করতে না পেরে গুঁড়ো হয়ে ভেঙে গিয়েছে, দ্বিতীয় আরও একটি কারণ ছিল ঠাণ্ডা করার জন্য ভারতীয় তরফ থেকে বাধ্যতা মূলক ভাবে কিছু ন্যাটো গোষ্ঠীর দেশ থেকে নিয়ে আসা যন্ত্রপাতি লাগাতে বলা হয়েছিল, যা প্রথমেই খারাপ হয়ে গিয়েছে.

রাশিয়ার নৌবাহিনীতে যে বয়লার ব্যবহার করা হয়, তা চলে অশুদ্ধ তেল (ক্রুড অয়েল) দিয়ে, আর ভারতীয় পক্ষের বরাত অনুযায়ী এই জাহাজে লাগানো হয়েছে ডিজেল চালিত বয়লার, তাই এই সমস্ত প্রযুক্তি গত পরিবর্তনের ফলেই বর্তমানে যান্ত্রিক ত্রুটির উদয় হয়েছে.

রাশিয়া- ভারত সামরিক- প্রযুক্তি সহযোগিতা সংক্রান্ত আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদের আসন্ন অক্টোবর মাসের শুরুতে হতে যাওয়া বৈঠকে এই “বিক্রমাদিত্য” জাহাজকে ভারতকে দেওয়া নিয়ে সময় সীমা নির্ধারণ করা হবে. এই বিষয়ে সাংবাদিকদের খবর দিয়েছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি সেরদ্যুকোভ. রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধানের কথামতো, এই ঘটনার ফলে কতটা ক্ষতি হয়েছে তার মূল্যায়ণ এখনও করা হয় নি. তাঁর মতে, ভারতীয় পক্ষকে এই জাহাজ দেওয়া নিয়ে সময় সীমা সম্ভবতঃ এই বারে বদলাবে, তবে নতুন করে কবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও মন্তব্য করার সময় আসে নি.