দামাস্কাসে বিরোধী পক্ষ “সিরিয়ার ত্রাণের জন্য” এক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল. এর আয়োজক ছিল ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি, যেখানে অনেক গুলি মধ্যপন্থী বিরোধী সংস্থাও যোগ দিয়েছিল.

এই বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য কোন রকম হিংসার প্রয়োগ না করার সমর্থনে ঘোষণা করেছে. তাদের লক্ষ্য হল বর্তমানের প্রশাসনের বদলে গণতান্ত্রিক ও সংবিধান সম্মত রাষ্ট্র গঠন. এঁরা এমনকি শান্তি প্রস্তাবে অনিচ্ছুক সশস্ত্র জঙ্গীদের – এমনকি সিরিয়ার স্বাধীন সেনাবাহিনীকেও বর্তমানের পরিস্থিতিকে এই ভাবে গ্রহণ করতেই আহ্বান করেছেন.

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে মনে তো হয় না যে, যারা “শান্তি প্রস্তাবে অনিচ্ছুক”, তারা মধ্যপন্থী বিরোধী পক্ষের মতকে গ্রহণ করবে. বিরোধী পক্ষের মধ্যে ঐক্যের অভাবের কারণ হল, তাদের মধ্যেই চরমপন্থী লোকদের উপস্থিতি, যারা আরও বেশী করেই লক্ষ্যনীয় ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে.

স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমি এখানে একেবারেই বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোন রকমের ঐক্যমতে আসার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না. ঐস্লামিক গোষ্ঠী গুলি একেবারেই তৈরী নয় কোন রকমের সংগঠিত আন্দোলনে কম বেশী কোন ভাবেই যোগ দিতে, কারণ তাদের নিজেদের আন্দোলনের ধারাই এই ধরনের. তারা সাধারনত কোন একজন নেতার চারপাশে জড়ো হয়, অন্য কোন গোষ্ঠীর সঙ্গেই তারা যোগ দিতে রাজী নয়, কারণ তারা নিজেদের মনে করে বিশ্বাসের জন্য সবচেয়ে বড় যোদ্ধা বলেই. এই প্রক্রিয়া আমরা ইরাকেও দেখেছি, আলজিরিয়াতেও. একই সঙ্গে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, কোন না কোন সংগঠন বিভিন্ন রকমের অর্থ সাহায্য যারা দিচ্ছে, তাদের উপরেও এরা নির্ভরশীল. কেউ সৌদি আরবের অর্থে কাজ করছে, কেউ করছে কাতারের অর্থ সাহায্যে. কিছু গোষ্ঠী তৈরী হয়েছে সিরিয়ার সামাজিক ভূমিতে, আবার কেউ আসছে বিদেশ থেকে, ফলে স্থানীয় লোকরা বিদেশীদের মনে করছে আগ্রাসক ও অনুপ্রবেশকারী বলেই”.

সিরিয়াতে গরমকাল থেকেই বেশ কয়েকবার সেই সমস্ত গোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে, যারা সম্পূর্ণ ভাবেই বিদেশী লোক দিয়ে তৈরী: লিবিয়া, আফগানিস্তান, আলজিরিয়া ও ইরাকের থেকে আসা লোক. পশ্চিমে এটা স্বীকার করা হয়েছে যে, এই পরিস্থিতিতে বিরোধী পক্ষকে আধুনিক অস্ত্র দেওয়া বিপজ্জনক. কিন্তু অস্ত্র ব্যবসায়ী ও বিদেশী স্পনসরদের কাছে এটা কোন যুক্তি নয়. তাদের জন্য লক্ষ্য – বাশার আসাদের পতন – যা তাদের খরচের জন্য যুক্তি সঙ্গত বলে মনে হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, এই কারণে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হবে না. আর আধুনিক অস্ত্র ছাড়া এই রকমের বহু ধরনের লোকের গোষ্ঠীর পক্ষে, যারা সশস্ত্র জঙ্গী গোষ্ঠী গুলিতে রয়েছে, তাদের জন্য সিরিয়াতে বাশার আসাদের প্রশাসনকে সামরিক ভাবে পদচ্যূত করা সম্ভব হবে না - অন্ততঃ আমার তাই মনে হয়”.

সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ দ্বন্দ্বে জীর্ণ. আদর্শ, ধর্মীয় মতবাদ ও প্রজাতিগত বিভেদের কারণেই বিভিন্ন গোষ্ঠী যারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের মধ্যে পার্থক্য অনেক. বিরোধী পক্ষের প্রয়োজন এক শক্তিশালী নেতার, যিনি বর্তমানে অনুপস্থিত. আর এর অর্থ হল যে, সেই রকমের কোন ঐক্যবদ্ধ বিরোধী সরকার গঠন, যাকে পশ্চিমের পক্ষ থেকে সমর্থন করা সম্ভব হত, তা আপাততঃ করার মতো সময় আসে নি.