মুসলমানদের আমেরিকা বিরোধী ও ফরাসী বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে উঠছে. ইন্টারনেটে দেওয়া “মুসলমানরা নির্দোষ” নামে সিনেমার ট্রেলার যে বিরোধের ঝড় তুলেছে, তা ফ্রান্সের “শার্লি এডবো” জার্নালে হজরত মহম্মদের ন্যক্কার জনক ব্যঙ্গচিত্র আরও জোরালো করে দিয়েছে. ফলে বিভিন্ন দেশে বিশ্বাসী মানুষের অনুভূতি রক্ষার জন্য করা প্রতিবাদের মিছিলে নিহতদের সংখ্যা বর্তমানে দশক ছাড়িয়েছে. বিশ্বে এখন একটা বিরাট বিতর্ক হচ্ছে যে, কাকে বলা হবে বাক্ স্বাধীনতা.

এই সব মিছিল, যা প্রায়ই শেষ হয়েছে কূটনৈতিক সংস্থা গুলির দপ্তর আক্রমণ এবং ধ্বংস ও পুলিশের সঙ্গে লড়াই, তা হয়েছে, এশিয়া, আফ্রিকা, নিকট প্রাচ্য ও ইউরোপে. বিগত রবিবারে গ্রীসের এথেন্সে শান্তি রক্ষা বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হয়েছে বহু মিছিলের লোককে শুধু কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে তবেই তাড়িয়ে দেওয়ার. সংঘর্ষের ফলে কিছু লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে. একই ধরনের পরিস্থিতি হয়েছে নাইজিরিয়া ও বাংলাদেশেও.

পাকিস্তানে, যেখানে এর আগেই ১৬ জন নিহত হয়েছেন, সেখানের রেলমন্ত্রী গুলাম আহমাদ বিলুর প্রস্তাব করেছেন যে, “মুসলমানরা নির্দোষ” এই সিনেমার স্রষ্টার মাথার জন্য ১ লক্ষ ডলার দাম দিতে. প্রসঙ্গতঃ, পাকিস্তানের মন্ত্রীসভা অবশ্য এই প্রস্তাবের থেকে নিজেদের দ্রুত দূরে সরিয়ে নিয়েছে, বিশেষ করে উল্লেখ করে যে, এটা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মতামত, প্রশাসনের নয়.

এখানে বলার দরকার রয়েছে যে, এই রকমের আরও অনেক ঐস্লামিক ও ধর্ম নিরপেক্ষ নেতাও এই বিগত কিছু দিনের মধ্যে মুসলমানদের এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া অহিংস ভাবেই করার আহ্বান করেছেন. রাশিয়ার মুসলমানদের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় নিয়ন্ত্রক সভার উপসভাপতি আলবের্ত ক্রগানভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“বিখ্যাত মুসলিম ধর্ম প্রধানরা বিশ্বাসীদের শান্ত হতে আহ্বান করেছেন. অন্য দিক থেকে, আমরা বিভিন্ন দেশের প্রশাসনের দপ্তর গুলিকেও আহ্বান করেছি প্রতিক্রিয়া দেখাতে. কারণ সেই সব দেশে, যেখানে প্রশাসন এই ধরনের প্ররোচনায় কোনও প্রতিক্রিয়া করছে না, সেখানে বিরোধীরাই এর মধ্যে জনগনকে রাস্তায় টেনে নামিয়েছে”.

বেশ কিছু পশ্চিমের রাষ্ট্র যদিও স্ক্যান্ডাল সৃষ্টি করা সিনেমার স্রষ্টাদের সমালোচনা করেছেন, কিন্তু এটাকেই তারা “বাক্ স্বাধীনতা” বলে চালানোর চেষ্টা করছেন. অংশতঃ, এই ধরনের অবস্থান নিয়েছে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর. একই সঙ্গে জার্মানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রী গিদো ওয়েস্টারভেল্লে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জার্মানীর সংবিধান এই স্বাধীনতাকে খর্ব করে, যখন তা অন্যের মর্যাদা হানীর কারণ হয়.

রাশিয়াতে কেন্দ্রীয় অভিশংসক দপ্তর এই “মুসলমানরা নির্দোষ” নামের সিনেমাকে চরমপন্থী বলে উল্লেখ করার জন্য মামলা করেছে. এই প্রসঙ্গে আদালতে শুনানী হবে ১৭ই অক্টোবর. এই মামলার রায় ইতিবাচক হলে, দেশের আইন রক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে ক্ষমতা আসবে, সেই সমস্ত ব্যক্তিকে দায়বদ্ধ হিসাবে অভিযুক্ত করার, যারা এই ফিল্মকে রাশিয়াতে ও রাশিয়ার ইন্টারনেট ক্ষেত্রে সম্প্রচারের জন্য কাজ করছে. এই মামলার রায় বের হওয়া পর্যন্ত যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় পরিষেবা দপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে এই সিনেমার বিষয়বস্তু প্রচার যাতে না হয়, তার ব্যবস্থা করার.