চিন আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য খুবই সংজ্ঞাবহ এক কাজ করেছে. বিগত সপ্তাহান্তের দিন গুলিতে কাবুল শহরে, এক আগে থেকে না জানানো সফরে এসেছিলেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতা চ্ঝোউ ইউনকান. এটি ১৯৬৬ সালের পর থেকে চিনের এত উচ্চ পর্যায়ের কোনও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির আফগানিস্তানে প্রথম সফর.

এই সফরের কথা গোপন করেই রাখা হয়েছিল, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, নিরাপত্তারই কারণে. ন্যাটো জোটের সেই সমস্ত দেশের নেতৃস্থানীয় লোকরাও, যাদের সেনাবাহিনী আজ আফগানিস্তানে রয়েছে, তারাও কখনই আগে থেকে নিজেদের এই দেশে আসার কথা ঘোষণা করেন না. এই সফরের সময় বাছা হয়েছে একেবারেই সঠিক সময়ে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“এই দেশ থেকে আমেরিকার সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের প্রাক্কালে, বেজিং চেষ্টা করছে নিজেদের পক্ষে লাভজনক ভাবে পরিস্থিতিকে পরিবর্তনের পথে চালনা করতে. এই রকমের একটা অন্তর্বর্তী কালীণ অবস্থায় তারা চেষ্টা করছে একটি এমন দ্রুত পরিবর্তন করিয়ে ফেলতে, যাতে নিজের অবস্থান আফগানিস্তানে মজবুত হয় ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়. একই সঙ্গে এটাও ঠিক যে, চিনের পক্ষে মোটেও লাভজনক নয়, যদি আফগানিস্তান সেই দেশে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের পরে ভেঙে পড়ে, কারণ এই ক্ষেত্রে তাদের বিনিয়োগ, যা এই দেশে তারা করেছে, তা হারাতে হবে”.

এই সফরের পরিনাম হিসাবে স্বাক্ষরিত চুক্তি গুলির মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি, সেই কারণেই মনে হয়েছে যে, হঠাত্ করেই করা হয় নি. এই চুক্তিটির ক্ষেত্র চ্ঝোউ ইউনকান নিজেই দেখেন. চিন কাবুলকে সাহায্য করবে আফগানিস্তানের পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে. চিন আফগানিস্তানের পুলিশ বাহিনীকে রসদ ও প্রস্তুতির কাজেও সাহায্য করবে, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে তাদের বহু দিনের অভিজ্ঞতাকেও দেবে.

চিনের এই ধরনের “সংবেদনশীল” ক্ষেত্রে সহায়তা আজ কাবুলের পক্ষ থেকে দেখা হয়েছে ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্ভর যোগ্য সাহায্য হিসাবেই. এই ভূমিকা পুলিশ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে পশ্চিম কখনই দিতে পারে না, কারণ আফগানিস্তানের সমাজেই তাদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ক্রমবর্ধমান, আর তা সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে মুসলিম বিশ্বেও.

চিনের জন্য আফগানিস্তানের পুলিশের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও এই কারণে মূল্যবান যে, চিনের কোম্পানী ও কর্মচারীদের, যাঁরা আফগানিস্তানে বর্তমানে কর্মরত, তাঁদের নিরাপত্তা দিতে এটার প্রয়োজন আছে. কাবুলে আলোচনার সময়ে চ্ঝোউ ইউনকান বিশেষ করে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইকে অনুরোধ করেছেন চিনের লোকদের নিরাপত্তা ও তাদের বিষয় সম্পত্তির বিষয়ে গ্যারান্টি দিতে. রাষ্ট্রপতি বলেছেন যে, তিনি সর্বতোভাবে সাহায্য করবেন ও একই সঙ্গে আফগানিস্তানে চিনের বিনিয়োগ বাড়াকে প্রশংসা করেছেন.

এই বিষয়েই “সবুজ” সঙ্কেত দিয়েছে স্বাক্ষরিত চুক্তি. এর ফলে চিনের ভূমিকা বৃদ্ধি পাবে জ্বালানী ও শক্তি বিষয়ে, খনিজ দ্রব্য উত্পাদনে, আফগানিস্তানের পরিকাঠামো নির্মাণে. চিন বহুদিন ধরেই তাদের প্রতিবেশী দেশের খুবই সম্পদশালী খনি ও বহুমূল্য ধাতু উত্পাদনের সুযোগ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে চলেছে.

কাবুলে চ্ঝোউ ইউনকানের সফরের প্রধান পরিনাম হয়েছে - রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই. প্রায় অর্ধ শতাব্দী পার হয়ে এখানে প্রথম চিনের কোনও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীর সফর বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ন্যাটো জোটের সৈন্যদের প্রত্যাবর্তনের পরে কোন দিকে কাবুলের রাজনৈতিক প্রাধাণ্যের অভিপ্রায় ঝুঁকতে পারে.

রাষ্ট্রপতি অবস্থায় হামিদ কারজাই পাঁচবার চিনে গিয়েছেন. তার মধ্যে এই বারের গরম কালেও তিনি গিয়েছিলেন, যখন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠক হয়েছিল. এই খানে আফগানিস্তান এইবারে পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবেই গিয়েছিল. বেজিং এই ধরনের মর্যাদা আফগানিস্তানকে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশী করে সক্রিয় হয়েছিল. এখন, মনে হচ্ছে বেজিং কাবুলের কাছ থেকে একই ধরনের প্রত্যুত্তর আশা করতে পারে.

হামিদ কারজাইকে এইবারে খুবই পরিশ্রম করতে হবে, যাতে চিনের সহকর্মীদের কাছে তাঁর মুখ নষ্ট না হয়. কারণ সেই আমেরিকার লোকরাই মোটেও রাজী নয় চিনের লোকদের জন্য পথ ছেড়ে দিতে.