পূর্ব চীন সাগরে বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মীমাংসা করতে জাপানকে আলোচনায় বসার আহবান জানিয়েছে চীন. পূর্বে একই উদ্দ্যোগ নেওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল টোকিও থেকে. তবে উভয়পক্ষ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছে না.

নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বন্ধ রাখার, তবে পিছনের দিকে নয়. ইতিমধ্যে চীনে জাপানবিরোধী নানা বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে এবং ঠিক একই ঘটনা ঘটছে জাপানে. বিরোধপূর্ণ পাঁচটি দ্বীপপুঞ্জের ৩টি বেসরকারি মালিকানা থেকে কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে জাপান এখনও ফিরে আসে নি. অন্যদিকে বেইজিং বলছে যে, ওই দ্বীপপুঞ্জে নিজেদের সার্বভৌম জড়িয়ে আছে. যদিও তা বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে জাপান. আর জাপান আগামী ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় এ প্রশ্ন নিয়ে কোন মতামত জানাতেও রাজি না. এমন পরিস্থিতিতে কি কোন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে?. তবে দূরপ্রাচ্যের ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইয়াকোভ বেরেগ্রের কিন্তু অনেকটাই আশাবাদী.

“আমি মনে করি এটা সম্ভব যদি জাপানী পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে কিছুটা ছাড় দেয়. উভয় দেশের মধ্যে সত্যিকারেই উত্তেজনাটা ছিল. চীনা সরকার জনগনকে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌম রক্ষার জন্য চুড়ান্ত বিরোধে না জড়ানোর জন্য আহবান জানিয়েছে. উত্তেজনা ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে. সুতরাং উভয়পক্ষই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে এবং অবশ্যই কোন না কোন উপায় এ প্রশ্নের মীমাংসা করা যাবে”.

এদিকে ‘বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়া’ ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফেওদর লুকইয়ানোভ একমত পোশন করে বলেন, “ভাল বৈরীর চেয়ে খারাপ পৃথিবী ভাল. যুদ্ধ শুরু হচ্ছে না কারণ হচ্ছে- প্রথমত, এখানে বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি জড়িত যা দুটি দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য. দ্বিতীয়ত, মনে করেন যে, চীন নিজেদের শক্তি যুদ্ধ দিয়ে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাহলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপহার. তবে যে কোন দিক দিয়েই বর্তমান পরিস্থিতি প্রতিরোধের একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তা সামরিক শক্তি দিয়ে অর্জন করা যাবে না. চীনারা তা ভাল করেই বুঝতে পারেন”.

দ্বীপের দখলকে কেন্দ্র করে চীন-জাপান উভয় দেশই বিপুল পরিমান অর্থনৈতিক ক্ষতির স্বীকার হয়েছে. জাপানের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি ও ইলেকট্রোনিক চীনে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে. সেই সাথে জাপানীজ পণ্যের দোকানপাট ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. অন্যদিকে চীন এর জবাবে জাপানে পর্যটক খাতে মন্থর গতি এনে দিয়েছে. কোন কোন সময় বিমানের ফ্লাইট পরিবর্তন করা হচ্ছে আবার কখনও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বিমান ছেড়ে যাচ্ছে. এমনকি জাপানকে নিয়ে বই প্রকাশ না করার জন্য বেইজিং এর প্রকাশনাগুলোকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে. এমন তথ্য জানালেন বিশেষজ্ঞ ইয়াকোভ বেরেগ্রের. তিনি বলেন, “উভয় দেশেরই অনেক ক্ষতি হয়েছে. যদি জাপানের কথা বলা হয়, তাহলে সত্যিকার অর্থে সমালোচনার যোগ্য. জাপানের অর্থনীতি এত শক্তিশালী হওয়ার পরও বিশ্ব মন্দার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারে নি. সেই সাথে সুনামি দেশের পারমানবিক শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছে. জাপানের জন্য চীন হচ্ছে প্রথম এবং ও অন্যতম ব্যবসায়িক সহযোগী. যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও জাপানের কাছে চীনের গুরুত্ব অনেক বেশী. বিশ্বে চীনের বাজার অনেক প্রসারিত, শক্তিশালী ও বৃহও. অন্যদিকে চীনের জন্য জাপানও সমান গুরুত্বপূর্ণ”.

চীন-জাপানের এই উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টা দুই দেশ সফর করেন. বেইজিং মনে করছে যে, জাপানের সাথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ও বিরোধপূর্ণ দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি বাড়ানোর ঘোষণা তা আগুনে তেল দেওয়ার মতই. চীন পেন্টাগন প্রধানের কাছ থেকে নিশ্চিত করে জানতে চেয়েছিল যে, দুই দেশের বিরোধে ওয়াশিংটন যেন কোন পক্ষের দিকে না যায়. বস্তুত, যুক্তরাষ্ট্র অনাধিকারচর্চা থেকে বিরত থাকলে চীন ও জাপান নিজেরাই ঠিক করতে পারবে যে, বিরোধপূর্ণ এলাকায় নিজের আচরণ কেমন হওয়া উচিত.