রাশিয়ার অন্যতম স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রাক্তন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের বিভিন্ন শহরে আজ নানা পেশায় সুনামের সাথে কাজ করছেন. আর যারা কর্মসূত্রে রাজধানীতে অবস্থান করছেন তাঁরা একবার হলেও বার্ষিক পুনর্মিলনীর আয়োজন করেন. গত ৯ সেপ্টেম্বর দিল্লীর রুশ বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের এ ধরণের এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল.

ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও ফুটেজ করেন মস্কো থেকে আসা সাংবাদিক জামিল খান. ২০১১ সালে তিনি রাশিয়ার গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক বিভাগ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন এবং বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের গনমাধ্যমের জন্য রাশিয়ার সমাজ জীবন ও দক্ষিণ এশিয়ার সাথে রাশিয়ার সম্পর্কের ওপর প্রতিবেদন ও তথ্যচিত্র তৈরী করছেন. গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বর্তমান কর্মজীবন সম্পর্কে তথ্যচিত্র নির্মাণ করতে সম্প্রতি জামিল খান ভারত সফরে গিয়েছিলেন এবং তার সাথে সমন্বকারী হিসেবে ছিলেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ভ্লাদিমীর কোতছার. মস্কো ফিরে এসে রেডিও রাশিয়াকে জামিল খান জানান, “দিল্লীর রুশ বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের খন্ডচিত্র মূল চলচিত্রে স্থান পাবে তা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল. ওই অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য কিছু অংশের ভিডিও ফুটেজ নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম এবং আমার ধারণা ছিল না যে, পুনর্মিলনী এতটাই আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে. আর তা ১ ঘন্টারও বেশী সময় ধরে চলবে. বন্ধুত্বপূর্ণ অভ্যর্থনা, রাশিয়ার শিক্ষাজীবন নিয়ে সুখকর স্মৃতিচারণ, শিক্ষকদের কথা ও বিভিন্ন দেশের নানা প্রান্তে গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে অবকাশযাপনসহ আরও কতো কি, যা বলে শেষ করা যাবে না. চিকিত্সক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও চিত্রশিল্পীসহ নানা পেশার অন্তত ৫০ জন পুনর্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন. এরা সবাই আজ নিজ নিজ পেশায় সুনামের সাথে কর্মরত আছেন. তাদের সবার জন্যই সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা অর্জন যা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে”.

উপনিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়া এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরীর জন্য আজ থেকে অর্ধশতকেরও আগে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যলয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল. বর্তমানে বিশ্বের ১৬৫টি দেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারীরা কর্মরত আছেন. গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যলয়ে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন এবং ঐত্যিগতভাবে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালসহ এ অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীও রয়েছেন.

জামিল খান জানান, বিগত বছরগুলোতে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী ডিগ্রী লাভ করেছেন. এদের সবারই রয়েছে নিজস্ব জীবন কাহিনী.

“আমরা যে তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করতে যাচ্ছি সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করা বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাক্ষাত্কার থাকবে. নিজের পেশাগত জীবন গড়ার গল্প শোনান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আজমাত কারিম যিনি বর্তমানে দিল্লীর স্বনামধৈন্য বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে কাজ করছেন. গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালিন চিকিত্সা বিদ্যার মৌলিক ভিত্তির ও রাশিয়ার হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন তিনি. ভারতে বিশেষ নিয়ম থাকায় দেশে ফিরে এসে পুনরায় অতিরিক্ত পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন. রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যা ৪০ বছর যাবত অব্যাহত আছে আর সেই কথা শোনান দিল্লীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ সাহিত্যের প্রফেসর শংকর বাসু. গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যলয়ের এই প্রাক্তন শিক্ষার্থী যিনি গণমৈত্রী পদক লাভ করেছেন. তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে রুশ ভাষা শিখছে এমন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে”.

গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে হায়দ্রাবাদ, মুম্বাই, জয়পুরসহ আরো কয়েকটি শহরে. এদের মধ্যে ছিল গবেষক, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তা. আগামী নভেম্বরে গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোভিয়েত ও রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের যে বিশ্ব কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে তাতে অংশ নিতে এদের কেউ কেউ হয়ত মস্কো আসবেন. তাঁরা চাইছেন যে, তাদের সন্তানরাও যেন গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করে. “রাশিয়ায় গড়ে ওঠা আমদের ছাত্র জীবনের সেই বন্ধুত্ব আজও ধরে রেখেছি এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে আমরা খুবই আশাবাদী”, নিজের দেওয়া সাক্ষাত্কারে এমনটি বলেছেন মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরো-এশিয়ান গবেষণা সেন্টারের পরিচালক সঞ্জয় দেশপান্ডে.