সারা পৃথিবীজুড়ে স্বল্পমাত্রার আমেরিকান ফিল্ম ‘ইনোসেন্স অফ মুসলিম’ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সমানে চলেছে. পাকিস্তানে পুলিশকে অস্ত্রপ্রয়োগ করতে হয়েছে আর সব বড় শহরে মোবাইল কনট্যাক্ট অফ করে দেওয়া হয়েছে. ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিনী রাষ্ট্রদূতাবাস জাকার্তায় ও অন্যান্য শহরে সব কনসাল দপ্তর বন্ধ করা হয়েছে. আর টিউনিশিয়ার শাসক কর্তৃপক্ষ শুক্রবার কোনোরকম মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল. দুই সপ্তাহ ধরে ‘ইনোসেন্স অফ মুসলমান’ ফিল্মটি নিয়ে সারা বিশ্ব জুড়ে কেলেঙ্কারী সমানে চলছে. স্বল্প বাজেটের ফিল্ম, যেখানে অভিনয় করেছে অপরিচিত সব অভিনেতা অভিনেত্রী, তার রিলিজ হওয়ার কারণে বহু মানুষ মারা গেছে.

মুসলিম দেশগুলিতে এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি হাঙ্গামা হচ্ছে. তবে আন্দোলন ইউরোপেও ছড়িয়েছে. এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার মুসলমানদের প্রতিক্রিয়াকে অভিহিত করা যায় উদারপন্থী বলে. হ্যাঁ, ইন্টারনেটে ফিল্মনির্মাতাদের গালিগালাজ করা হচ্ছে, কিন্তু ক্ষুব্ধ জনতা এই ইস্যু নিয়ে রাস্তায় বেরোয়নি. রাশিয়ার মুফতি পরিষদ ঘোষণা করেছে, যে এ ধরনের ঘটনাবলী মুসলমানদের মনোযোগ বিকৃষ্ট করে ও পরিষদ মুসলমানদের প্ররোচিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে. ‘রেডিও মস্কো’র সংবাদদাতারা সুনিশ্চিত হয়েছে, যে মস্কোয় মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে এরকম মেজাজমর্জ্জি নেই, যদিও তারা উপরোক্ত ফিল্মটির তীব্র নিন্দা করছে শুধু মুসলমানদের পক্ষ থেকেই নয়, এমনকি খ্রীশ্চানদের পক্ষ থেকেও. তবে এটা হামলা করার অজুহাত নয় – বলছেন মুসলমান রশিদ.

আমাদের ঘনিষ্ঠ থাকা দরকার, কারণ আমাদের অভিন্ন রাষ্ট্র. সেইজন্যই খ্রীশ্চানদের সাথে আমাদের কোনো বিভেদ নেই. আমরা সবাই বসবাস করি এক দেশে, আমাদের সবার জন্য একই সব আইনকানুন. এরকম ফিল্ম বানাতে গেলে নিজের দেশের শত্রু হতে হয়.

এখন রাশিয়ার প্রসিকিউটর দপ্তর দেশের সেই সব এলাকায়, যেখানে বহু মুসলমানের বাস, সেখানে সেই সব সাইট ব্লক করে দিচ্ছে, যেখানে ঐ কেলেঙ্কারীভুত ফিল্মটি দেখা সম্ভব. এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন বয়স্ক মুসলিম ধর্মবিশ্বাসী মুস্তাফা.

অবশ্যই এ্যাকসেস ব্লক করা দরকার. ব্লক করে আর এই বিষয়ে ফেরার প্রয়োজন নেই. এমন পবিত্রতা আছে, যা ছোঁয়া উচিত নয়. আমার মতে না মহম্মদ, না যীশু খ্রীষ্ট – কাউকে নিয়ে অতিনাটক করা ঠিক নয়. এরা পবিত্র, এদের ভক্তরা শ্রদ্ধা করে. এদের নিয়ে ছেলেখেলা করা উচিত নয়. মুসলিম দুনিয়ায় যেমন মহম্মদকে অতুলনীয় বলে গণ্য করা হয়.

এই উপলক্ষ্যে মস্কোয় মার্কিনী দূতাবাসে প্রতিবাদ করতে যাওয়ার অভিলাষ নেই মুসলমানদের. তাদের মধ্যে কয়েকজনের মতে, এরকম প্রতিবাদ ফিল্মটির প্রতি আগ্রহ উস্কে দেয় ও ইসলাম ধর্মকে নৃশংস বলে ভাবমূর্তি তৈরি করে, আর এটা একেবারেই ঠিক নয়.