মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আইন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যা হল – সামাজিক অধিকার কেড়ে নেওয়া, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও আইন রক্ষী বাহিনীর অপব্যবহার. এই ধরনের তথ্য রাশিয়ার গণতন্ত্র ও সহযোগিতা ইনস্টিটিউট থেকে তৈরী করা রিপোর্টে বলা হয়েছে. তাদের গবেষণা অনুযায়ী এই ধরনের আইন ভাঙা হচ্ছে নিয়মিত ভাবেই ও তাদের তীক্ষ্ণতা কম হচ্ছে না.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও সহযোগিতা ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নতুন তৈরী হওয়া রিপোর্ট ইতিমধ্যেই চার নম্বর. গবেষণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ মানবাধিকার সংক্রান্ত সমস্যা গুলি নিয়ে একটি পর্যালোচনা দেওয়া হয়েছে.আজকের দিনে আইন ভাঙা যে সমস্ত ক্ষেত্রেই হচ্ছে, তা বলা যেতে পারে. এখানে মানুষের প্রধান অধিকার নিয়ে শুধু কথা হচ্ছে না, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” এক সাক্ষাত্কারে রিপোর্ট তৈরী যাঁরা করেছেন, তাঁদের মধ্যে একজন নিকোলাই পাখোমভ বলেছেন:

“দুঃখের বিষয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে আর আলাদা ঘটনা বলা যায় না. এখানে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির কথা হচ্ছে আর সামাজিক অধিকার লঙ্ঘনের কথাও হচ্ছে. প্রসঙ্গতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশীর ভাগ দেশের চেয়ে আলাদা হয়েই কোন রকমের সামাজিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির অংশীদার নয়. আমরা আমেরিকার জনগনের সেই সমস্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার কথাও উল্লেখ করে থাকি, যখন তা করে থাকে আইন রক্ষার জন্য নিযুক্ত কর্মীরাই, নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে”.

বর্তমানের রিপোর্ট ছাড়াও, পুলিশের পক্ষ থেকে গণ হারে দুর্নীতি করার অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংস্থার কর্মীরাও একাধিকবার জানিয়েছেন. আলাদা করে উকিলরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন শহরে রাস্তার বিক্ষোভ দমনের ক্ষেত্রে পুলিশের এই সব অতিরিক্ত নৃশংসতা দেখানোর বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখিয়েছেন. বহু সংখ্যক সাংবাদিকদের তদন্ত ব্যাখ্যা করে বলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের কর্মীরা প্রায়ই অপরাধে জড়িত থাকে, যেগুলির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা মাদক ব্যবসা থেকে মাফিয়া, সবই. পুলিশ ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শক্তি প্রয়োগ করতে পারে এমন বাহিনীতেও দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা প্রচুর. সবচেয়ে বেশী এই অভিযোগে অভিযুক্ত এফবিআই সংস্থা. অনেক বেশী অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বর্ণ বিভেদের জন্য ও বেআইনি অভিবাসন নেওয়া মানুষদের উপরেই, এই কথাই বিশেষ করে উল্লেখ করে নিকোলাই পাখোমভ বলেছেন:

“আমরা যে গুলি দেখতে পাচ্ছি, সেই প্রতিটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ রয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, অন্যান্য আমেরিকার আইন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং চুক্তিরই ভিত্তিতে সমস্ত নাগরিকের জন্য ভরসা দিয়ে বলা হয়েছিল. আমরা মনে করি না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য, যে কোন লোক, যারাই তাদের কাছে আসতে চাইবে, তাদেরই নিজেদের দেশে আসতে দিতে. কিন্তু আমরা মনে করি যে, বেআইনি ভানে অভিবাসিত হওয়া লোকরা – একই রকমের মানুষ আর অন্যদের মতো তাদেরও অধিকার রয়েছে, নিজেদের প্রতি মানবিক সম্পর্কের দাবী করার, কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তারা সব সময়ে এই ধরনের সম্পর্ক নিজেদের প্রতি দেখতে পায় না”.

প্রসঙ্গতঃ, বিভিন্ন সংস্থার থেকে মানবাধিকার রক্ষা কর্মীরা একাধিকবারই উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে খুবই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি দপ্তর গুলিতে আগে থেকেই ধরে নেওয়া মানুষ সম্বন্ধে ধারণা করা, বিশেষত এই বিষয়ে পুলিশের তরফ থেকে সেই সমস্ত মানুষদের সম্বন্ধেই বলা হয়ে থাকে, যারা ইসলাম ধর্মীয়. এই ব্যাপারটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে চরমপন্থী মুসলিম বিরোধী সামাজিক কাঠামোকে বেশী করে শক্তিশালী করে দিচ্ছে. এদের মধ্যেই রয়েছে – প্রসঙ্গতঃ, প্রকাশ্যে কোরান পোড়ানোর মত নিন্দিত ঘটনার জন্য কুখ্যাত যাজক টেরি জোনস ও তার সৃষ্ট সঙ্ঘ, এরাই বর্তমানে স্ক্যান্ডাল সৃষ্টিকারী ফিল্ম “মুসলমানেরা নির্দোষ” প্রচারের কাজে জোর দিয়েছে.