রাশিয়ার বিশাল প্রান্তর – সবুজ সব অরণ্য, সোনালি গমের ক্ষেত, গ্রীস্মকালে রঙবেরঙি ঘাষের আচ্ছাদন সব পার্কে, শরত্কালে পাতাছড়ার দিনগুলিতে রঙের হরেকরকম বাহার ও শ্বেত বরফের রুশী শীতকাল. নয়াদিল্লীতে রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে চলতি প্রদর্শণীতে ভারতীয় চিত্রকরদের রাশিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্যের ওপর আঁকা সব চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে. দর্শকদের চোখ আনন্দ পাচ্ছে, শিল্পীদের সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ছে. নয়াদিল্লীর রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের দ্বারা আয়োজিত ২য় বার্ষিকী ক্যাম্পে আমন্ত্রিত শিল্পীরা ঐ সব ছবি এঁকেছেন. এই প্রসঙ্গে বলছেন উপরোক্ত কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ইলেনা শ্তাপকিনা.

এই বছরে ক্যাম্পে গিয়েছিলেন ১৩ জন চিত্রকর, যেমন পেশাদার তেমনই অপেশাদার – বলছেন ইলেনা শ্তাপকিনা. প্রত্যেকে রাশিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর উপর দুটো করে ছবি এঁকেছেন. আমরা ওদের রাশিয়ার উপর ফোটো অ্যালবাম ও রুশী শিল্পের উপর বই দিয়েছিলাম সাহায্য করার জন্যে. এর উপর ভিত্তি করেই রাশিয়ার শিল্পীরা সৃষ্টি করেছেন, দেখিয়েছেন রাশিয়ার প্রাকৃতিক বিভিন্ন দৃশ্যপট. সবমিলিয়ে ৩০টারও বেশি ল্যান্ডস্কেপ আঁকা হয়েছে, যেগুলো এখন প্রদর্শণীতে দেখানো হচ্ছে.

অদ্ভুতজনক এই, যে প্রায় প্রত্যেক শিল্পী রাশিয়ার শীতের দৃশ্য এঁকেছেন. তাদের অধিকাংশই কখনো রাশিয়ায় আসেননি. প্রদর্শনীতে রাশিয়ার শীতের দৃশ্যাবলীর এত ছড়াছড়ি কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল পেশাদার শিল্পী, ডিজাইনার ও ফোটোগ্রাফ মিস আমন বক্সীকে.

ঘুর্ণী খাওয়া নীল-সাদা রঙের বরফপতন, বরফে ঢালাই বিশাল বিশাল সব স্তুপ – এসব ভারতীয়দের জন্য অত্যাশ্চর্যজনক. আর শীতের দৃশ্যপট আঁকা অত সহজ নয়, কারণ আমাদের মধ্যে অধিকাংশই কখনো বাস্তবে রাশিয়ার শীতকাল দেখেনি. তবে দেখেছি শীতকালে শ্যুটিং করা অনেক রাশিয়ান ফিল্ম, অজস্র ফোটো, বিখ্যাত রুশী শিল্পীদের আঁকা ছবি. আমার খুব ইচ্ছা হয়েছিল শীতকালের ল্যান্ডস্কেপ আঁকার. আমার একটা ছবিতে বরফে জমে যাওয়া একটা হ্রদের চিত্র আমি এঁকেছি.

মিস বক্সী বলছেন – আমার স্বপ্ন কোনো একদিন রাশিয়ায় যাওয়ার ও স্বচক্ষে সেখানকার শীতকাল দেখার. আর আপাততঃ আমি সানন্দে রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে যাচ্ছি. সেখানে রাশিয়ার বিভিন্ন জাতির ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়া যায়. চেষ্টা করি রাশিয়ার লোকনৃত্য ও ব্যালে ট্রুপগুলির অনুষ্ঠাণ মিস না করার. লক্ষ্য করেছি, যে রাশিয়ার কোনো কোনো এলাকার লোকনৃত্যের পোষাক-আষাক আমাদের দেশের মতো.

মিস আমান বক্সীর মতোই অক্ষত সিংও রাশিয়ার শীতের ওপর ছবি এঁকেছেন. তবে তিনি সত্যিকারের রুশী শীতকাল দেখেছেন. ১০ বছর ধরে মস্কোর গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন. তাই রুশ ভাষায় তিনি সাবলীল কথাবার্তা বলতে পারেন.

অক্ষত সিং বলছেন – রাশিয়া থেকে আমি মেক্যানিকাল ইঞ্জিনিয়ারের ডিগ্রী নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম ২০০০ সালে ও নিজের পেশায় কাজ করতাম. ছবি আঁকা ছিল বরাবরই আমার শখ, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা পেশায় পর্যবসিত হয়েছে. রাশিয়ার প্রতি আমার সম্পর্ক বিশেষরকম, তাই সানন্দে রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের সব অনুষ্ঠাণে যোগদান করি. রাশিয়ার দৃশ্যাবলী এঁকে আমরা চেষ্টা করেছি বিশাল দেশটির সমৃদ্ধ ও বৈচিত্রময় প্রকৃতিকে প্রতিফলিত করতে. ভারতীয় শিল্পীদের আঁকা রাশিয়ার ল্যান্ডস্কেপ প্রমাণ করে রাশিয়ার প্রতি আমাদের আগ্রহ, আমাদের আন্তরিক উষ্ণ সম্পর্ক রুশবাসীদের প্রতি তা প্রতিফলিত করে.

এই মাসের শেষদিকে উপরোক্ত চিত্র প্রদর্শণী স্থানবদল করে দিল্লীর উত্তরে পি.এস.কে. গ্যালারিতে যাবে আরও দিন দশেকের জন্য.