রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের বিমান সিরিয়াতে মানবিক সাহায্য নিয়ে পৌঁছেছে. এই ফ্লাইটের পরেও আরও অনেক এই ধরনের ফ্লাইট হবে. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” বলেছেন অপারেশন পরিচালনা দলের সিনিয়র প্রতিনিধি ও বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের অগ্নিকাণ্ড ত্রাণ বাহিনীর দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর আলেকজান্ডার বগদানভ, সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে বিমান অবতরণের পরে. তিনি উল্লেখ করেছেন:

“আজ দামাস্কাসের সময় সকাল ৯টা বেজে ৩৫ মিনিটে (মস্কো সময় ১০টা বেজে ৩৫ মিনিট) রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের বিমান সেখানে মানবিক সাহায্য নিয়ে অবতরণ করেছে. প্রাথমিক ভাবে এই গুলি হল শিশুদের জন্য আহার্য, মাংস ও মাছের টিন এবং চিনি. এই মালের ওজন ৩৮ টন, তা পাঠানো হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত জনগনের জন্য. এ মাল পাঠানো শেষ বারের জন্য নয়. কালকেও পরিকল্পনা রয়েছে আরও একটি বিমান ভর্তি করে মাল পাঠানোর, তাও যাবে বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের বিমানে. তাছাড়া পরিকল্পনা রয়েছে অক্টোবর মাসের শুরুতে তৃতীয়বার মাল পাঠানোর, যে সংস্থা এই মাল পাবে, তাদের সঙ্গে বর্তমানে তৃতীয় ফ্লাইটের দিনক্ষণ স্থির করা হচ্ছে”.

সিরিয়াতে যে সমস্ত খাবার জিনিস পাঠানো হয়েছে, তা দেওয়া বয়েছে রাষ্ট্রীয় সংরক্ষিত সঞ্চয় থেকেই., এই খবর “রেডিও রাশিয়াকে” দিয়ে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক কাজকর্ম দপ্তরের ডিরেক্টর ইউরি ব্রাঝনিকভ, তিনি বলেছেন:

“এই গুলি ভাল ধরনের খাওয়ার মতো জিনিস, তা প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য উপযুক্ত. এই গুলি সেই ধরনের জিনিস, যা এখন সিরিয়াতে খুবই প্রয়োজনীয়. এই মাল সিরিয়ার আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট সংস্থার মাধ্যমে বিলি করা হবে. এই সংস্থা বর্তমানে খুব ভাল করেই স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন সম্বন্ধে জানে, তাই আমরা এই পর্যায়েই, প্রথম বারের মতই এই সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করছি. দ্বিতীয় ফ্লাইটের সঙ্গেও আমরা একই ধরনের মাল পাঠাচ্ছি”.

“রেডিও রাশিয়াকে” রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যেমন বলা হয়েছে যে, সিরিয়াতে সঙ্কট শুরু হওয়ার পরে থেকে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৮০০ টন মানবিক সাহায্য পাঠানো হয়েছে. এর আগে সিরিয়ার রেড ক্রিসেন্ট সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল তাঁবু, কম্বল, বাসনপত্র ও হাল্কা আসবাবপত্র, শিশু খাদ্য ও খাবার দাবার.

এর আগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত ইউরোপের কমিশনার, যিনি মানবিক সহায়তা ও সঙ্কট কালীণ প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করেন, সেই ক্রিস্তালিনা গিওর্গিয়েভা রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রধান ভ্লাদিমির পুচকভের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ে উল্লেখ করেছিলেন যে, সিরিয়াতে রাশিয়ার ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে দেওয়া মানবিক সহায়তা রাজনীতির উর্দ্ধে থাকা উচিত্. তাঁর কথামতো, রাশিয়া ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যেন কাজ করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, বন্ধুর মতো. রাশিয়ার সাহায্যকে এই ক্ষেত্রে ঠিক এই রকমই মনে করা দরকার বলে উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“এটা মানবিক অপারেশন, যা করা হয়েছে সেই লক্ষ্য মাথায় রেখে, যাতে সিরিয়ার জনগনকে সাহায্য করা সম্ভব হয়. বহু ক্ষেত্রেই - সেই ধরনের একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা পশ্চিমের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে, সেই কারণেই আজ এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে. তার মধ্যে আবার একে বারেই কোন রকমের ভিত্তিহীন, সমস্ত নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে, কারণ জানাই আছে যে, সিরিয়ার সঙ্কটের মূল কারণ সরকার বিরোধী সশস্ত্র জঙ্গী বাহিনীর কাজকর্ম আর তাদের বাইরের শক্তির পক্ষ থেকে সমর্থন. অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কাজ করছে আসলে জনসাধারনের বিরুদ্ধেই. এই ধরনের মানবিক সাহায্য প্রমাণ করে দেয়, রাশিয়ার পক্ষ থেকে সিরিয়ার জনগনের প্রতি সহমর্মীতা”.

বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী সিরিয়া প্রায় কুড়ি লক্ষ লোক খাওয়ার জিনিসের অভাব বোধ করছেন. স্বাস্থ্য সংরক্ষণ সংস্থা গুলি খুবই বেশী করে অনুভব করছে ওষুধ পত্রের অভাব, চিকিত্সার অন্যান্য উপকরণ, যন্ত্রপাতির. নানা ধরনের টীকা প্রয়োজন, যাতে সম্ভাব্য মহামারী প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়, বিশেষত উদ্বাস্তুদের মধ্যে.