ভারতের পরিবহন কর্মীদের সবচেয়ে বড় ট্রেড ইউনিয়ন এআইএমটিসি আজ এক দিনের ভারত বন্ধের ডাক দিয়েছে, যেখানে বাস ও ট্রাক চালকেরা দেশে ডিজেল জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশের সরকারের প্রতি সাবধান করে দেওয়ার জন্য হরতাল করছে. একই সঙ্গে বিরোধী দক্ষিণ ও বাম পন্থী দল গুলি একজোট হয়ে দাবী করেছে সরকারের অর্থনৈতিক সংশোধন নীতি প্রত্যাহারের. এখানে কথা হচ্ছে বিদেশী বহুজাতিক বৃহত্ কোম্পানী গুলিকে দেশের খুচরো বিপণন ব্যবসায়ে শতকরা ৫১ ভাগ শেয়ার থাকার সুবিধা ও পরিবহনের ক্ষেত্রে শতকরা ৪৯ ভাগ শেয়ার রাখার সুবিধা নিয়ে. এই সিদ্ধান্ত ভারতের বাজার সেই ধরনের আন্তর্জাতিক কোম্পানী গুলির জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে, যেমন ওয়ালমার্ট, ইকেআ, ক্যারেফুর, টেসকো, মেট্রো ইত্যাদি নেটওয়ার্ক কোম্পানীগুলি ও তার ফলে এই সংশোধনের বিপক্ষের লোকদের মত অনুযায়ী ভারতবর্ষের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ে নিযুক্ত লোকরা দেউলিয়া হয়ে যাবেন. এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

ভারতবর্ষ থেমে গিয়েছে: বহু শহরেই জন জীবন স্তব্ধ, শহরের পরিবহন ব্যবস্থা কাজ করছে না, রেলগাড়ী দাঁড়িয়ে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতিতে অগ্নি সংযোগ করা হচ্ছে, খবর দিয়েছে “হিন্দুস্থান টাইমস” সংবাদ সংস্থা. দেশের বৃহত্তম দক্ষিণ ও বামপন্থী দল গুলি এই হরতালকে সমর্থন জানিয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে বিজেপি, কমিউনিস্ট পার্টি, বহু সংস্থা ও আন্দোলন গোষ্ঠী. দেশের মানুষ খুবই সিরিয়াস ভাবে এই সবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন. “আমরা দেশকে বুঝতে দিতে চাই যে, আমাদের জন্য দেশের সরকার দাম বাড়িয়ে কি ক্ষতি করেছে”, - এই কথাই বলেছে ধর্মঘটে যারা সামিল হয়েছে. তারা সাবধান করে দিয়েছে যে, তারা সরকারকে ৩০ দিন সময় দিচ্ছে, যাতে এই অবস্থা থেকে ফিরে আসা যায়. দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের নেতৃত্ব যদি কোন রকমের প্রতিক্রিয়া না দেখায়, তবে ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব হুমকি দিয়েছে যে, দেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট ডাকা হবে. দেশের সরকারের উপরে চাপ বাড়ছে, এই কথা উল্লেখ করে ভারতের রাজনীতিবিদ বিক্রম বাহল বলেছেন:

“বিরোধী পক্ষের স্ট্র্যাটেজি – সরকারের উপরে চাপ ক্রমাগত বাড়িয়ে যাওয়া ও ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উপরেই চাপ দেওয়া. যদি বিরোধী পক্ষ নিজেদের সাফল্যের বিষয়ে নিশ্চিত থাকত, তবে তারা সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব আনত ও অন্তর্বর্তী কালীণ নির্বাচন চাইত. কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তারা এটা এখনও করছে না”.

এরই মধ্যে মন্ত্রীসভাতে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্সের মতোই ঐক্যমত নেই. ভারতের এই জোটের দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তৃণমূল কংগ্রেস ঘোষণা করে বসেছে যে, তারা এই জোট থেকে বের হয়ে যাবে এই সমস্ত সংশোধনের প্রতিবাদে, তাই মনে হচ্ছে যে, ক্ষমতাসীন জোটের পতন হতেও পারে. তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা ব্যানার্জ্জী তাঁরই কথামতো মন্ত্রীসভায় গৃহীত “জনগনের বিরোধী নীতি” সমর্থন করতে অস্বীকার করেছেন ও ঘোষণা করেছেন যে, তিনি এই দেশ বেচে দেওয়ার বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে রাজী নন. মমতা ব্যানার্জ্জী দেশের সরকারকে ৭২ ঘন্টা সময় দিয়েছেন, যাতে তাঁরা খুচরো ব্যবসা সংক্রান্ত নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে. তা না করা হলে শুক্রবারেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মন্ত্রীসভায় থাকা সদস্যরা পদত্যাগ ঘোষণা করতে পারেন.

ব্যানার্জ্জীর পিছিয়ে যাওয়ার ফলে দেশে লোকসভায় সঙ্কট উপস্থিত হতে পারে. ক্ষমতাসীন জোটের পতনের বিপদ রয়েছে ও তা ভারতের জন্য সম্পূর্ণ ভাবেই বাস্তব. ভারতের সংবাদ মাধ্যম এই ধরনের ঘটনার পরম্পরাকে বাদ দিতে পারে নি যে, তৃণমূল কংগ্রেস দল মন্ত্রীসভা ও লোকসভা থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করলে দেশে খুবই গভীর সঙ্কট দেখা দিতে পারে ও তখন অন্তর্বর্তী কালীণ নির্বাচন আবশ্যিক হতেই পারে.