রাশিয়ার মহিলা দাবা খেলোয়াড়রা বিশ্ব সেরা. তাঁরা এটাই প্রমাণ করে দিয়েছেন ইস্তাম্বুলে আয়োজিত বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে, খুবই জোর দিয়ে তাঁরা এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন. পুরুষ ও মহিলাদের খেলার শৈলীর পার্থক্য নিয়ে এক একান্ত সাক্ষাত্কারে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন রাশিয়ার জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও অলিম্পিকে দুবার স্বর্ণ পদক জয়ী এবং ২০১২ সালে দ্রুত দাবা খেলা প্রতিযোগিতায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভালেন্তিনা গুনিনা. তিনি বলেছেন:

“মহিলা ও পুরুষদের দাবা অনেকটাই আলাদা. আমি শক্তি প্রয়োগ করে যে সব খেলা হয় ও দাবার মধ্যে একটা তুলনার চেষ্টা করবো. বাস্তবে কেনও এক রকমের খেলাতেও পুরুষ ও মহিলারা একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না. প্রকৃতিই এই পার্থক্য সৃষ্টি করেছে. আমরা কখনও পুরুষদের চেয়ে বেশী বুদ্ধির পরিচয় দিতে পারি, কিন্তু সেই সমস্ত মহান পুরুষদের তুলনায় তা কিছুই নয়. যেমন, আমি কখনই সেই রকমের দাবা খেলতে পারবো না, যা বিশ্বনাথন আনন্দ (বর্তমানের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন) খেলেন. প্রথমতঃ, আমি সেই ধরনের প্রতিভাশালী নই. দ্বিতীয়তঃ, পুরুষ খেলোয়াড়রা দাবা বেশী খেলে থাকেন. তাদের খেলা শুরু করার প্রস্তুতি অনেক বেশী সিরিয়াস ধরনের. তাদের চিন্তা শক্তিও বেশী বিকশিত”.

“যদি মহিলা বিবাহিতা ও তাঁর সন্তান থাকে, তবে এহ বাহ্য যে, তাঁর অনেক ব্যক্তিগত সমস্যাও থাকবে, - উল্লেখ করেছেন মহিলা দাবাড়ু. তিনি নানা রকমের খেলার চাল মনে করতে চাইলেই, তাঁর হয়তো মনে পড়বে যে, ইস্ত্রী বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছেন, বাচ্চাদের খেতে দেওয়া হয় নি অথবা এই ধরনের আরও কিছু. আর পুরুষ মানুষরা শুধু দাবা নিয়েই ভাবতে পারেন. আমি দাবা থেকে বিশ্রাম নিয়ে থাকি, একটানা তা নিয়ে ভাবতেও পারি না. আমার মনে হয় মহিলাদের মাথাই এই রকমের যে একটানা এই নিয়ে চিন্তা করতেই সক্ষম নয়. এটা সত্যি যে, একজন ব্যতিক্রম রয়েছেন – ইউডিথ পলগার (হাঙ্গেরীর মহিলা দাবা খেলোয়াড়). তিনি পুরুষদের স্তরেই খেলেন. গত ২০১১ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশীপে, তিনি পুরুষ খেলোয়াড়দের মধ্যে তৃতীয় স্থানে ছিলেন. এটাই একমাত্র ব্যতিক্রম, যখন মহিলা পুরুষ সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন”.

আর আপনার কি এই রকম খেলাতে প্রতিযোগিতায় নামার ইচ্ছে হয় নি?

“আমিও পুরুষদের টুর্নামেন্টের খেলায় অংশ নিয়েছি, আমি অনেক সময়ে পুরুষ খেলোয়াড়দের সঙ্গেও খেলেছি. কিন্তু এটা খুবই কঠিন. দাবা শুধু একটা আর্ট বা স্পোর্টস নয়, এটা দুটি ব্যক্তিত্বের লড়াইও বটে. দুটি মানসিকতার মধ্যে লড়াই. আমি চেষ্টা করি সেই ব্যক্তির দিকে নজর না দিতে, যখন কারও সঙ্গে খেলি. সে পারে মুখ দেখে বুঝে ফেলতে, মনে কি আছে, আর চিন্তাধারাই নষ্ট করে দিতে পারে. আমি বাস্তবে সব সময়েই নিজেকে আবৃত করে ফেলি ও কখনই প্রতিদ্বন্দ্বীর দিকে তাকাই না. আর যদি লক্ষ্য করি যে, সে নার্ভাস হতে শুরু করেছে – তখন তা আমাকে আরও বেশী আত্মবিশ্বাসী করে তোলে”.

বিশ্বে ও রাশিয়াতে মহিলাদের দাবা খেলার উন্নতি নিয়ে ভালেন্তিনা গুনিনা তাঁর মত দিয়ে বলেছেন:

“দাবা –এটা এমন একটা খেলা, যা সব সময়েই নিজের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করবে. আর মেয়েদের দাবা খেলা আমার মনে হয়, অনেক বেশী আবেগ পূর্ণ খেলা, বেশী চিত্তাকর্ষক. যদি মেয়েদের মধ্যে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ দেখা হয়, তবে তা দেখা যাবে যে অনেক বেশী ইন্টারেস্টিং. আমরা অনেক বেশী আবেগ দিয়ে খেলি, আর আমাদের প্রত্যেক চালই আগে থেকে অনুমান করা জটিল. চিনের হোউ ইফান (বর্তমানের মহিলাদের মধ্যে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন), এখন সকলের চেয়ে বেশী শক্তিশালী. সে এখন পুরুষদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে থাকে, তবে আমার মতে উঁচু স্তরের দাবা খেলার চেয়ে সে এখনও অনেক দূরে”.