অনেক বিশেষজ্ঞরা ঠিক যেমন পূর্বাভাস দিয়েছিলেন আর ঠিক তাই ঘটল. মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যনার্জী নিজের দেওয়া ওয়াদা রেখেছেন এবং ঐক্যবদ্ধ প্রগতিশীল জোট সরকার থেকে নিজের দলের মন্ত্রীদের সরিয়ে এনেছেন.

এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মূলত গত সপ্তাহে সরকারে কিছু সিদ্ধান্তের কারণে. ভারতীয় সরকার শীর্ষ আন্তর্জাতিক ব্যান্ডকে সে দেশের পাইকারী বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যারা ভারতে নিজস্ব দোকান খুলতে পারবে এবং ভারতীয় ব্যান্ডের পাইকারী বাজারের ওপরই নির্ভর করতে হবে না. এক্ষেত্রে বিদেশী মালিকানায় থাকবে ৫১ ভাগ শেয়ার. ভারতীয় বাজারে বিদেশী পাইকারি বাজার প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সাথে একই সঙ্গে সরকার ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করেছে. মূলত এ সিদ্ধান্তই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি করে এবং বিরোধী দলের বাম ও ডান পন্থি উভয় দলই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তোলে.

পাইকারী বাণিজ্যে পরিবর্তন আনার জন্য বিরোধী দলের পক্ষে থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে তা হল বৃহত সুপার মার্কেট চালু করার ফলে কয়েক কোটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গ্রামীন অর্থনীতির সাথে জড়িতরা ক্ষতির স্বীকার হবেন. আর এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারের ওপরই সামাজিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পরবে.

বৃহত বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরী করা তা শুধুমাত্র ব্যবসা ক্ষেত্রেই নয় বরং কার্যত প্রতিটি ক্ষেত্রেই এবং তা সবসময়ই ক্ষুদ্র ব্যবসাযীদের রোষানলে পরেছে.

তবে কয়েকটি ঘটনা এক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে. এমনটি বলছেন রাশিয়ার কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভোলখোনস্কী. তিনি বলেছেন, “প্রথমত, বৃহত পাইকারী বাজার তা শুধুমাত্র বড় বড় শহরেই চালু করা হবে. গ্রামীন কোন জনপদে তা চালু করা তা লাভজনক হবে না. আর এর অর্থ হচ্ছে, অধিকাংশ জনগনই এ ধরণের বড় মার্কেটের উপস্থিতি যে রয়েছে তার প্রভাব বুঝতে পারবে না.

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডের ওই সব পাইকারী বাজার ভারতে প্রবেশের জন্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুরোপুরি অনুমোদন প্রয়োজন হবে. মূলত তাদের কাছেই রয়েছে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত. চালু করা হবে কি না এবং কোনটি চালু করা হবে.

এদিকে প্রভাবশালী জোট দলের স্থানীয় অনেক নেতারাও সরকারের এ সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন. আর এর অর্থ হচ্ছে, স্থানীয় জনগনকে বিশ্বায়ন থেকেই সুরক্ষা করা নয় বরং পুরোটাই পরিষ্কার রাজনৈতিক অবস্থান”.

বস্তুত এ বিতর্কের পরই ভারতীয় সরকার ও জাতীয় কংগ্রেস দলের জনপ্রিয়তা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে. এ বছরের বসন্তে ভারতীয় বিধানসভা নির্বাচনে একসারি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভারতীয় কংগ্রেসের অনকেটাই ভরাডুবি ঘটেছে.

আগামী ২০১৪ সালে ভারতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে. তবে, বিশেষজ্ঞরা এখনই জরুরিভিত্তিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন. সত্য হলেও ভারতীয় কংগ্রেস দল এবং এর শরীক দলকে নিয়ে এখনও পার্লামেন্টে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন রয়েছে তাদের. কিন্তু মনে হচ্ছে, সরকারের প্রতি সামগ্রিক দিক দিয়ে যে বিশ্বাস হারানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সেই কারণে ওই শরীক দলে থাকে ছোট দলগুলো নিজেদের জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলার ভয়ে রয়েছে. মমতা ব্যানার্জীর ঘোষণায় এ কথাই বলা হয়েছে. এরই প্রভাবে সরকারকে সমর্থন করে এমন রাজনৈতিক দলের সংখ্যা পার্লামেন্টে কমে যেতে পারে. যা সঙ্গত কারণেই সরকারে প্রতি অবিশ্বাসের সংকেত ও জরুরী ভোটের ডাক দিতে পারে.

বিস্তারিত বর্ণনায় বলা হচ্ছে যে, জাতীয় পর্যায়ে স্থানীয় দলগুলো “ বড় খেলায়” মেতে উঠেছে এবং ভারতের অন্যতম বৃহত রাজ্য তামিলনান্দ থেকে এ ধরণের খবর পাওয়া গেছে. স্থানীয় দ্রাভিদ মুয়েন্তার কাজাগ দলের নেতা কারুনান্দি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দল জাতীয় ধর্মঘটে অংশ নিবে যা বিরোধী দল আগামী ২০ সেপ্টেম্বর আহবান করেছে. উল্লেখ্য, দ্রাভিদ মুয়েন্তার কাজাগ যা কিনা তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসর শরীক দল. তবে ঘটনা এমন ধারই এগিয়ে যাচ্ছে যার ফলে নিজেদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে দলের স্বার্থ নিয়ে পুনরায় চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন হতে পারে.

আর এর মানে হচ্ছে, নেতাদের জরুরী ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে.