আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (আইএইএ)এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে পরমাণু উত্পাদন অন্তত ২৫ ভাগ বৃদ্ধি পাবে. সেই সাথে উত্পাদিত পরমাণুর শ্রেনী বিভাগ সর্বোচ্চ ১০০ পর্যন্ত হতে পারে.

পরমাণু উত্পাদনে বিশেষজ্ঞদের এই পূর্বাভাসে মূলত দুটি চিত্রপট প্রধান ভূমিকা পালন করছে. পরমাণু শক্তির পক্ষে সব যুক্তি বিবেচনা করলে এর বিরোধিতা করা অনেকটা জটিল হয়ে দাঁড়ায়.

যদিও এক্ষেত্রে কিছু শর্তাবলী রয়েছে কিন্তু সেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়াও সম্ভব নয়. এমনটি মনে করছেন কুরচাতোবস্কী ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা আন্দ্রেই গাগারিনস্কী. তিনি বলেছেন, “পারমানবিক শক্তির হ্রাস হওয়ার ক্ষেত্রে যে কারণগুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে চেরনোবিল ও ফুকোসিমার মত ভয়াবহ দুর্ঘটনা. এই সব ঘটনার পর মনুষ্যত্বের মুখ থুবড়ে পরেছে. যদি অর্থনীতির কথা চিন্তা করা হয় তবে জৈব জ্বালানীর চেয়ে খরচের হিসেবে পরমাণু কেন্দ্রগুলো অনেক কার্যকরী এবং ওই জ্বালানী আবার নিয়মিত পরিবর্তন করা যায়. তাছাড়া সংশ্লিষ্ট উপকরণের দামও বেড়ে যাবে, তাই এখানে অর্থনৈতিক কারণই প্রধান বিষয় নয়”.

অবশ্য প্রতিটি দেশে পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র তৈরী করার জন্য অনুকূল পরিবেশ নেই, তাছাড়া এখানে বিশাল অংকের অর্থ জড়িত. অন্যদিকে, সর্বাপেক্ষা গরীব দেশও পারমানবিক শক্তির অধিকারী হতে যায়. যা একটি দেশকে জাতীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, খ্যাতি ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে সাহায্য করে.

যদিও অনেক ক্ষেত্রে অর্থনীতির প্রশ্নটি জড়িত. বস্তুত এটি পরমাণু উত্পাদন বৃদ্ধির পথ নির্ণয় করে থাকে. এমনটি উল্লেখ করেছেন পরমাণু কৌশল ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক অলেগ দভোইনিকোভ. তিনি বলেছেন, “সাফল্য বয়ে আনা প্রযুক্তি তখনই জীবন অর্জন করার অধিকার পায় যখন জনগন ও শিল্প বানিজ্যের জন্য কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম কমে যাবে. কেন্দ্র নির্মাণ করাও হচ্ছে একটি জটিল প্রক্রিয়া”.

যদি আগামী ১৫ বছরের কথা আমরা চিন্তা করি তাহলে বেশীরভাগ নতুন পারমানবিক চুল্লি তৈরী হবে এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে. এমনটি মনে করছেন আন্দ্রেই গাগারিনস্কী. তিনি বলেছেন, “পারমানবিক চুল্লি তৈরীর ক্ষেত্রে চীনের রয়েছে সবচেয়ে বড় আকারের পরিকল্পনা. এছাড়া ভারত, কোরিয়া, মধ্যপাচ্যেও দীর্ঘ পরিকল্পনা করেছে. সম্প্রতি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সংযুক্ত আরব আমিরাতে পারমানবিক চুল্লি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে. পরবর্তিতে তা এগিয়ে যাবে দক্ষিণ আমেরিকা এবং এমনকি আফ্রিকায়. যদি অর্থনৈতিক গত দিক দিয়ে সেখানে এটি বাস্তবায়ন করা কষ্টসাধ্য”.

 

প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা না করে যেখানে খুশি সেখানেই পারমানবিক কেন্দ্র স্থাপন করা যায় না. সেই সাথে উগ্রবাদীদের হতে বিদেশী প্রযুক্তি চলে যাওয়ারও একটি ঝুঁকি থাকে. উল্লেখ করেছেন অলেগ দোভোইনিকোভ. তিনি বলেছেন, “চলচিত্র প্রকাশ ও এর প্রতি মুসলমান বিশ্বের প্রতিবাদ নিয়ে আজকের দিনে যে আন্দোলনের ঢেউ বইছে

যা থেকে আমাদের চিন্তা করার বার্তা দিচ্ছে যে, প্রযুক্তির নানামুখী ব্যবহারের উন্নয়ন কিভাবে ঘটানো যাবে. কিভাবে ওই সব দেশে পারমানবিক অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে. তবে যে কোন ক্ষেত্রেই সব কিছু হতে হবে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার কঠোর নিয়মের মধ্যে থেকেই. নিরাপত্তাজনিত প্রশ্নাবলীর নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিশ্ব কেন্দ্র থাকতে হবে. সাধারণ প্রথায় পারমানবিক কেন্দ্রের বিস্তার তা কোনভাবেই মানব জাতির জন্য আপাতত আধুনিক বলে বিবেচনা কর হয় না”.

 

দ্রুত পরিবর্তিনশীল আজকের এ পৃথিবীতে শান্তিময় পারমানবিক প্রকল্পের উন্নয়নের গতিপথ বলা খুব কঠিন একটি কাজ. উল্লেখ্য, বুধবার জানা যায় যে, জাপানীজ সরকার তাদের কৌশলগত পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকার সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নি.