রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রকের বিশেষ দূত আন্তন ভাসিলিয়েভ বলেছেন, যে মস্কোর মতে উত্তর মেরুতে পরিস্থিতি সদর্থক ও স্থিতিশীল. তার ভাষায়, খেলার আইনকানুন বদল না করলে ঐ এলাকায় সংঘাত তীব্রতর হওয়ার কোনো আশংকা নেই. এই উক্তি তিনি করেছেন রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলে আরখাঙ্গেলস্ক শহরে ‘উত্তর মেরুর উন্নয়ন ও অধ্যয়ন’ নামক সম্মেলনে.

সম্মেলনের লক্ষ্য হল – সুমেরুতে ঘটতে থাকা প্রক্রিয়াবলীর অধ্যয়ন ও ঐ এলাকার স্ট্র্যাটেজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা. সুমেরুতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারন করা – সম্মেলনে মুখ্য বিষয়. এই বিষয়ে কতখানি প্রগতি অর্জিত হয়েছে, সে সম্পর্কে বলছেন আন্তন ভাসিলিয়েভ.

পারমানবিক সংঘাতের আশংকা দূর করা গেছে, স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্রশস্ত্রের পরিমান কমছে. আজকের দিনে উত্তর মেরুতে দরকার বহুপাক্ষিক সহযোগিতা.

ভাসিলিয়েভ বলেছেন, যে খনিজ পদার্থের জন্য সুমেরুতে লড়াই কল্পনাপ্রসূত. তিনি উল্লেখ করেছেন, যে বর্তমান পরিস্থিতি সেখানে সংঘাতে প্ররোচনা দেওয়ার উপযুক্ত নয়. সব প্রশ্নের মীমাংসা সেখানে করা হচ্ছে সভ্যভাবে, বিশেষতঃ মজুত খনিজ পদার্থের বহুলাংশ সীমান্তবর্তী দেশগুলি ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়েছে. পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে তারাই, যারা এই সম্পর্কে কিছু বোঝে না, বা বুঝতে চায় না.

সম্মেলনে যোগদানকারীরা সুমেরুর পরিবেশ দূষণ নিয়েও আলোচনা করছেন. শীঘ্রই সেখানে দ্বীপপুঞ্জ ও উত্তর মহাসাগরের উপকূল পরিষ্কার করার কাজ শুরু হবে. এই প্রসঙ্গে আমাদের দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন প্রখ্যাত সুমেরুর উপর গবেষণাকারী আর্তুর চিলিনগারোভ.

আজকের দিনে কথাবার্তা বলার বহু বিষয় হয়েছে. আর্খাঙ্গেলস জেলার অন্তর্গত জোসেফ ফ্রান্স ভূমি সফরকালে ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর মেরুকে পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন. শীতল যুদ্ধের সময় সুমেরুকে মুলতঃ সামরিক ঘাঁটি হিসাবে দেখা হতো. আর তাই ঐ সব ঘাঁটির বহু জঞ্জাল সেখানে ছড়িয়ে আছে.

চিলিনগারোভের কথায়, উত্তর মেরুকে নিয়ে গবেষণা – বহু দেশের ইতিহাসেই আছে. এটাকে অগ্রাহ্য করা যায় না. তিনি বলছেন, যে রাশিয়া এক্ষেত্রে প্রথমসারিতে ও নিজের অধিকার কোনোমতেই ছাড়বে না.

সুমেরুকে আবিস্কার করার বিশাল পরিচ্ছেদ আছে অনেক দেশের গবেষণাবিদদের, কিন্তু দ্বীপগুলোতে আমাদের অধিকার দৃঢ়তর করার উদ্ধেশ্যে আমরা সেখানে আমাদের উপস্থিতি গাঢ়তর করবো. আমরা অন্য কারো জন্য নয়, রাশিয়ার জন্যই সুমেরুকে জঞ্জালমুক্ত করবো.

0সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইসল্যান্ডে রাশিয়া সহ উত্তর মেরুর সীমান্তবর্তী দেশগুলির সাংসদদের বৈঠক হয়ে গেল. সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যে ঐ এলাকায় খনিজ তেল নিস্কাষণের সব কর্মকান্ড বিজ্ঞানীদের মতামত নিয়ে তারপরে করা হবে.