কাবুলে আবার সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে. আত্মঘাতী এক নারী কেচ্ছামুলক ফিল্ম, যেখানে হজরত মহম্মদকে অপমান করা হয়েছে, তার বিরূদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নিজেকে বিস্ফোরণ করেছে. ফলশ্রুতিতে দক্ষিন আফ্রিকার একটা বেসরকারী ফার্মের ১২ জন কর্মচারী নিহত হয়েছে. অন্যান্য দেশেও প্রতিবাদী আন্দোলনের ঢেউ স্থিমিত হচ্ছে না. ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাশাপাশি নিকট প্রাচ্যের, উত্তর আফ্রিকার ও এশিয়ার বহু দেশে জনতা প্রতিবাদ করে চলেছে.

ভারত ও পাকিস্তানের পরে এবার বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া, যেখানে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করে ইউ টিউবের পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মবিশ্বাসীরা আর ঐ ফিল্ম দেখতে না পারে.

রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির আরব্য গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস দলগোভের মতে আগামী ১-২ দিন প্রতিবাদী আন্দোলন তীব্রতর হতে পারে.

 

জনাকীর্ণ মার্কিন-বিরোধী প্রতিবাদ ক্রমশঃই ছড়াচ্ছে. এটা আন্দাজ করা গেছিল. যদি বলতে হয়, যে মুসলমানরা বাড়াবাড়ি করছে, তাহলে মাথায় রাখতে হবে, যে আরব্য বসন্তের পর বহু দেশে শাসনক্ষমতায় এসেছে কট্টরপন্থী ঐস্লামিকেরা. এই প্রতিবাদী হাঙ্গামায় বহু জায়গায় ঢুকে গেছে উগ্রপন্থী ইসলামীরা.

রাশিয়ার মুসলিম সংস্থাগুলিও ঐ ফিল্মটি রিলিজ করার বিরূদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে. উপরন্তু রাশিয়ার সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য রুসলান গাতারোভ এমনকি প্রসিকিউটর দপ্তরে বার্তা পাঠিয়েছেন, এই দাবী করে, যে উপরোক্ত ফিল্মটা সন্ত্রাসবাদের বার্তাবাহক কিনা তা যাচাই করা হোক. যাচাই করে রাশিয়ার প্রসিকিউটর দপ্তর বাধ্য হবে ইন্টারনেট সাইটের মালিকদের সাইট ব্লক করতে বাধ্য করতে. কাজানের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐস্লামিক ধর্ম বিভাগের অধ্যাপক রেনাত বেক্কিন মনে করেন, যে এটা মুসলিম বিদ্বেষ উচ্ছেদ করার একটা ভালো নমুনা হতে পারে.

রাশিয়ার মুসলমানদের সামাজিক মতামতের ওপর ভদ্রস্থ চাপ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে. আজ নয় কাল ইসলামভীতিকে ইহুদীবিদ্বেষের সমান বলে গণ্য করা হবে. আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রশ্ন নিয়ে কথাবার্তা চলছে.

গতকাল লেবাননের ‘হেসবোল্লাহ্’ গোষ্ঠীর নেতা শেখ হাসান নাসিরুল্লা দাবী করেছেন, যে জাতিসংঘ বিশ্ব ধর্মগুলি ও তাদের সন্তদের অপমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে ঘোষণাপত্র সংকলন করুক. তার মতে এটা সালমন রাশদির ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ ও ১৯৬৯ সালে জেরুজালেমে মসজিদ অগ্নিদাহ করার থেকেও অনেক বেশি বিপজ্জনক. ভারতে জন্মজাত বৃটেনের এই লেখক আজকালের মধ্যেই তার নতুন বই প্রকাশ করবেন.