সেন্ট-পিটার্সবার্গের অবসরপ্রাপ্ত সামরিক নৌবাহিনী কর্মীদের ক্লাব বিশ্ববিখ্যাত সমরজাহাজ অরোরাকে আবার নতুন করে চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে. তাদের মতে জাহাজে নতুন মোটর বসিয়ে ওটা রাষ্ট্রপতির জাহাজে পরিণত করা যেতে পারে, যাতে ভাবী প্রজন্ম স্বচক্ষে তাকে অবলোকন করতে পারে.

যুদ্ধজাহাজ অরোরাকে জলে ভাসানো হয়েছিল ১৯০০ সালে. জাহাজটি বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, বহুবার দূরে পাড়ি দিয়েছে. তবে রাশিয়ায় এর প্রসিদ্ধি ১৯১৭ সালের বিপ্লবের প্রতীকস্বরূপ, যখন রাজতন্ত্রকে উচ্ছেদ করে বলশেভিকরা শাসনক্ষমতায় এসেছিল.

কিছু সোভিয়েত উত্স বলে, যে অরোরা থেকে ফাঁকা গোলাবর্ষন করে সরকারের সাথে শ্রমিক ও সৈনিকদের লড়াই শুরু হওয়ার সঙ্কেত দেয়া হয়েছিল. তত্কালীন জারেদের আবাসভবন তখন ছিল সেন্ট-পিটার্সবার্গের উইন্টার প্যালেসে. বিপ্লবকারীরা ঐ প্রাসাদ আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জারদের বরাবরের মতো উত্খাত করার লক্ষ্যে. ধরা হয়, যে অরোরা থেকে গোলাবর্ষনই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার সঙ্কেত দিয়েছিল. রাজপ্রাসাদ আক্রমণের সূত্রে রাষ্ট্রীয় অভ্যুত্থান ঘটেছিল তখন.

১৯৪৪ সালে অরোরাকে নগরের একটি নদীতীরে নোঙর করিয়ে, সেটাকে নৌবাহিনীর মিউজিয়ামে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়. তখন থেকেই জাহাজটি দ্রষ্টব্য মিউজিয়াম স্বরূপ সেখানেই নোঙর করে রয়েছে. এমনকি কিছুদিন আগে পর্যন্তও জাহাজটি যুদ্ধজাহাজ হিসাবে সামরিক নৌবাহিনীর তালিকায় ছিল. কিন্তু জাহাজের সুরক্ষা ও তার কাজকর্ম বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট অর্থসংস্থানের দরকার. ইতিহাসপ্রেমীদের আশঙ্কা, যে অর্থসংস্থানের ঘাটতিতে জাহাজটির পরমায়ু শেষ হয়ে যেতে পারে, সেইজন্যই অবসরপ্রাপ্ত নাবিকরা তাকে রাষ্ট্রপতির জাহাজে পরিণত করার প্রস্তাব দিয়েছে.

সেক্ষেত্রে অরোরা সরকারীভাবেই সামরিক নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারবে ও রাশিয়ার সামরিক নৌবাহিনীর পতাকা ওড়াতে পারবে, প্যারেডে অংশ নিতে ও যেকোনো স্তরের প্রতিনিধিদের গ্রহণ করতেও পারবে. তাদের কথায়, অরোরা পুরোপুরি কার্যকরী জাহাজ এখনো, শুধুমাত্র মোটর বদলানোর দরকার, যে কাজ রাশিয়ার কনস্ট্র্যাকশন ব্যুরোগুলি করতে প্রস্তুত. তবে সময়মতো ঐ কাজ না করলে উদ্যোক্তাদের মতে যুদ্ধজাহাজটির পরমায়ু শেষ হয়ে যেতে পারে.