বিশ্ব সংস্কৃতির স্মৃতি সৌধ গুলি সিরিয়াতে লুঠ হয়ে যাচ্ছে, যদিও দেশের প্রশাসন চেষ্টা করে চলেছে লুঠতরাজ বন্ধ করার ও ঐতিহাসিক জিনিষের চোরাচালান ঠেকানোর, যা জঙ্গী বাহিনী বর্তমানে অস্ত্রের বিনিময়ে দিয়ে দিচ্ছে. এই প্রসঙ্গে রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন সিরিয়ার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ সংস্থার ডিরেক্টর মামুন আবদুল করিম.

ঐতিহাসিক জিনিসপত্রের বাজারে নতুন জোয়ার এনেছে গৃহযুদ্ধ. স্মৃতি সৌধ গুলি লুঠ করা হচ্ছে, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে মূল্যবান বহু জিনিস জঙ্গীরা অস্ত্রের বিনিময়ে দিয়ে দিচ্ছে. এই ধরনের ঘটনা বর্তমানে হয়ে উঠেছে খুবই বেশী সংখ্যায় ও তা সিরিয়াতে সঙ্কট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে যাচ্ছে, এই কথা বলে সাবধান করে দিয়ে মামুন আবদুল করিম বলেছেন:

“সিরিয়াতে প্রায় ১০ হাজার সাংস্কৃতিক স্মৃতি সৌধ রয়েছে. বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বদমাস লোকরা সেই সমস্ত সৌধই ধ্বংস করছে, যা সাধারণতঃ বৃহত্ লোকালয় থেকে দূরে, কারণ সেখানে তারা বেশী স্বাধীন বলে অনুভব করতে পারছে, নিজেদের. বেশীর ভাগ অপরাধীই এই কাজ করছে লাভের প্রত্যাশায়. দেশের শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সামরিক বাহিনী চেষ্টা করছে, এদের থামাতে. একাধিকবার তাদের অপরাধের অকুস্থলেই ধরা হয়েছে কিন্তু তারা শাস্তি না পেয়েই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে. ক্ষতি করা হয়েছে বহু প্রাচীন দুর্গের. সেই গুলি যোদ্ধাদের গোলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে”.

যুদ্ধ চলা স্বত্ত্বেও, সিরিয়া সরকার চেষ্টা করে চলেছে জাদুঘর গুলির নিরাপত্তা বজায় রাখতে, যেখানে সবচেয়ে দামী ঐতিহাসিক বস্তু আছে, সেই গুলি. এই খবর দিয়েছেন সিরিয়ার এই সরকারি কর্মচারী. সেই গুলিকে বর্তমানে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে.

একই সময়ে সিরিয়াকে হুমকি দেওয়া হয়েছে. আর তা শুধু সেই সব জঙ্গীরাই দেয় নি, - যারা সহজ লাভের আশায় ঘুরছে, বরং পেশাদার চোরাচালান কারী লোকরাই দিয়েছে. এই রকম মনে করে নিকট প্রাচ্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

“সেখানে একই সঙ্গে রয়েছে প্রাচীন ও মধ্য যুগের সংস্কৃতির নিদর্শন, আছে রোমান, হেলেনিক যুগের দর্শনীয় জায়গাও. ইরাক, আফগানিস্তান ও লিবিয়া থেকে, যে সব দেশে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল্যবান জিনিষ লুঠ করার প্রচুর ঐতিহ্য রয়েছে, শুধুশুধুই বহু সহস্র জঙ্গী লোক সেখানে যায় নি. এই সব দেশে এক সময়ে প্রায় সমস্ত জাতীয় জাদুঘর ও সংগ্রহশালা লুঠ হয়ে গিয়েছিল, প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্যান গুলিও বাদ যায় নি. এই ধরনের পেশাদার লুঠ করার লোকরা এখানে আসাতে বিশ্বের “প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে কালো বাজারে” এক অত্যন্ত প্রকাণ্ড আকারে জিনিসের চালান দেওয়ার সুযোগ হয়ে গিয়েছে”.

যুদ্ধ নতুন – ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরনো বিষয়ই, এই প্রসঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও প্রাচ্য বিশারদ সের্গেই দেমিদেঙ্কো জোর দিয়ে বলেছেন:

“ঐতিহাসিক মূল্যবান জিনিসের চোরাচালান – এটা সেই সমস্যা, যা অস্থিতিশীল যুগে সবচেয়ে বেশী করেই বেড়ে যায়. এই রকমই হয়েছিল ইরাকে, লিবিয়াতেও তাই হয়েছিল. এখন সেই রকমই হচ্ছে সিরিয়াতেও. আর কোন সন্দেহ নেই যে, এই ধরনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র গুলিকে রক্ষা করার দরকার রয়েছে. আমার মতে সমস্যা খুবই তীক্ষ্ণ ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ. আর তার সমাধান করার দরকারও আছে”.

আগে সিরিয়াতে পর্যটন থেকে দেশের বাজেটের শতকরা ১২ শতাংশ আয় হত. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লুঠ হয়ে যাওয়ার ফলে নতুন করে পর্যটনের বিষয়ে জোয়ার আসার সম্ভাবনাও চির কালের জন্যই শেষ হয়ে যাচ্ছে. আর বিশ্বের সংস্কৃতি অফেরতযোগ্য ভাবেই হারাতে চলেছে অসীম মূল্যবান সব ঐতিহাসিক স্মৃতি সৌধ, যা মানব সমাজেরই সভ্যতার বিবর্তনের প্রতীক.