মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত মুসলমানদের দোষ নেই নামের সিনেমা, যাতে হজরত মহম্মদকে খুবই ন্যক্কার জনক অবস্থায় দেখানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ প্রথমে নিকটপ্রাচ্যের ও আফ্রিকার দেশ গুলিকে নাড়া দিয়ে, তার পরে সম্পূর্ণ শক্তিতে ছড়িয়ে পড়েছে হিন্দুস্থানের দেশ গুলির মুসলমান সমাজেও. হোয়াইট হাউস ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে মহাসচিব বান গী মুনের এই সিনেমাকে কড়া সমালোচনা করা হলেও উত্তেজনার কোনও প্রশমন ঘটে নি. আমেরিকা বিরোধী মানসিকতা সমস্ত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া জুড়েই আজ ছড়িয়ে পড়েছে. গত সপ্তাহের শেষে প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ সহ আরও বহু দেশে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে, পেশোয়ারে, লাহোরে ও করাচিতে মিছিলের জনতা আমেরিকার কূটনৈতিক কেন্দ্র গুলিকে আক্রমণ করেছে. আর এটা যে, হবে তা গেই বোঝা গিয়েছিল, কারণ পাকিস্তানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী উগ্রপন্থী মানুষের বসবাস ও তারা প্রায় সকলেই চরমপন্থীও বটে. বাংলাদেশেও বর্তমানে বহু চরমপন্থী দলের ঘাঁটি রয়েছে, যেমন রয়েছে ভারতের চেন্নাই ও কাশ্মীরে, যেখানে আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র গুলি. স্লোগান দেওয়া হয়েছে: “আমেরিকা মুদার্বাদ! আল্লার অবমাননা কারীরা মুদার্বাদ!” ঐস্লামিক চরমপন্থীরা ঘোষণা করেছে যে, এটা আমেরিকার মুসলমান বিরোধী চক্রান্তের অংশ বলে. যদিও শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী মনে হয়েছে যে, এটা আসলে আল- কায়দা ও সালাফিত মুসলমান চরমপন্থী গোষ্ঠী ও ইহুদী প্রতিক্রিয়াশীল চরমপন্থী গোষ্ঠীর চক্রান্তেই তৈরী করা হয়েছে. কারণ তারা সকলেই চায় বারাক ওবামার প্রশাসনকে সরিয়ে রিপাব্লিকান দলের মিট রোমনিকে আগামী ৬ই নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী করতে, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলের প্ররোচনায় সমগ্র আরব নিকট প্রাচ্যে ও উত্তর আফ্রিকায় বিশ্ব যুদ্ধের সূচনা করে ও ইরান এবং শিয়া মুসলিম দেশ গুলিকে ধ্বংস করে দেয়. পাকিস্তানে মিছিলকারীদের থামাতে পুলিশকে কাঁদুনে গ্যাস, জলের কামান সবই ব্যবহার করতে হয়েছে, এমনকি আকাশে গুলি করতে হয়েছে. ফলে পদপিষ্ট হয়ে এক জনের মৃত্যু ও কম করে হলেও ১১ জন আহত হয়েছে. স্থানীয় "এক্সপ্রেস ট্রিবিউন" সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে যে, পাকিস্তানের চরমপন্থীরা ঘোষণা করেছে, এই প্রতিবাদ চলবে. পাকিস্তানের পরিস্থিতি এখন আমেরিকার বিশেষ বাহিনী দিয়ে ওসামা বেন লাদেনের হত্যার অব্যবহিত পরের মতই. স্থানীয় জনতা একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করা, ড্রোন বিমান দিয়ে শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের হত্যা ও ধর্মের অবমাননা এই সমস্ত ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে.

এতটাই প্রতিবাদ তৈরীর চেষ্টা হয়েছে ভারতের মুসলিম চরমপন্থী সংপৃক্ত ও বাংলাদেশের বহু এলাকাতেও. আমেরিকার লোকদের এই ধরনের অমর্যাদার ব্যবহার ও ইসলাম ধর্মের প্রতি এই ধরনের অবজ্ঞা সমস্ত এলাকা জুড়েই সৃষ্টি করেছে ক্ষোভের – এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, আমেরিকার সারা বিশ্বকে তাদের পছন্দসই রাজনীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক নিয়ম ও ধর্মের প্রতি কোন রকমের গুরুত্ব না দিয়ে ওয়াশিংটনের স্বভাবজাত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া মেনে নিতে বাধ্য করতে বলায় এই যে প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে, তা আমেরিকার জন্যই ক্ষতিকর হবে. শেষমেষ, এই ধরনের রাজনীতির জন্য শুধু সারা বিশ্বের জনগনকেই দাম দিতে হচ্ছে না, বরং আমরা এখন যে রকম দেখতে পাচ্ছি, সরাসরি ভাবে আমেরিকার কূটনৈতিক মিশনের লোকদেরও দাম দিতে হচ্ছে. কিন্তু ওয়াশিংটনের রাজনীতিবিদরা, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, এতেও মনে করেছেন যে, এই ধরনের রাজনৈতিক পথ পরিক্রমা তাদের জন্য লাভজনকই হবে, কারণ এই সমস্ত বিশ্বের চরমপন্থীরাই তাদের অস্ত্র ব্যবসায়ের অংশীদার ও লাভের উত্স. যদিও এর জন্য নিহত আমেরিকার লোকের সংখ্যাই এখন বহু হয়েছে. তবু তারা এর থেকে বেরিয়ে আসতেই চাইছে না”.

দুঃখের বিষয় হল যে, আমেরিকার লোকদের ইতিহাস কোন শিক্ষাই দিতে পারে নি, এই রকমই মনে করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ.