ভারতের “বিক্রমাদিত্য” (রাশিয়ার প্রাক্তন “অ্যাডমিরাল গর্শকোভ”) বিমানবাহী জাহাজের সমুদ্র যাত্রার পরীক্ষার সময় ত্রুটি দেখা দিয়েছে, সোমবার জানিয়েছে রাশিয়ার “কমের্সান্ত” পত্রিকা. বিমানবাহী জাহাজ “বিক্রমাদিত্য” ভারতকে হস্তান্তর করার কথা ছিল ৪ঠা ডিসেম্বর – ভারতের নৌবাহিনীর দিবসে. এখন তা ২০১৩ সালের অক্টোবরের আগে হস্তান্তর করা যাবে না. এক উত্স জানিয়েছেন যে, বিমানবাহী জাহাজটি জলে নেমেছিল বারেন্তস সাগরে “সেভমাশ”-এর ডক থেকে. কর্মসূচি পরিকল্পিত ছিল ১২৪ দিনের জন্য. বিমানবাহী জাহাজটি স্বল্প ও মাঝারী গতিতে যাত্রা করেছে স্থিতিশীলভাবে. তবে পরীক্ষার কর্মসূচি অনুযায়ী সর্বাধিক গতিতে যাত্রাও অনুমিত ছিল. সেই সময়েই সমস্যা শুরু হয়. জাহাজটি যেই ৩০ নট গতি তোলে এনার্জি সরঞ্জামে ত্রুটি দেখা দিতে থাকে. ক্রুজারটি, সহজ ভাবে বললে, থেমে যায়. পরে বোঝা যায় যে, আটটি স্টীম বয়লারের মধ্যে সাতটি অকেজো হয়ে গিয়েছিল. উত্স জানিয়েছেন যে, সমস্যাটি হল সমুদ্র যাত্রার পরীক্ষার সময় ভারতীয় পক্ষ স্টীম বয়লারগুলির ঐতিহ্যগত তাপ-রোধক হিসেবে অ্যাজবেস্টাসের ব্যবহার নিষেধ করে, কারণ তা কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত বিপদের উত্স হতে পারে. তাই অ্যাজবেস্টাসের বদলে বয়লারগুলিকে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল ফায়ার-ব্রিক দিয়ে. কিন্তু পরীক্ষার সময় এ আবরণ তাপমাত্রা সহ্য করতে না পেরে খসে পড়ে যায়. ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ ঘটনার কথা জানানো হয়েছে. রাশিয়ার “সেভমাশ” জাহাজ-নির্মাণ কারখানায় জাহাজটির ব্যাপক পুনর্গঠন করা হয়েছে. জাহাজটিকে সজ্জিত করা হয়েছে “মিগ-২৯কা” বিমানের উড়ান ও নামার জন্য ডেক রানওয়ে ও ট্রাম্পলিনে, সর্বাধুনিক নৌ-চালনা ও রেডিও-লোকেশন ব্যবস্থায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায়. ভারত ২০০৭ সাল থেকে রাশিয়ার অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির বৃহত্তম ক্রেতা, চীনকে ছাড়িয়ে গিয়ে, এবং নিকট ভবিষ্যতে এ স্থিতি সে বজায় রাখবে.