‘ইনোসেন্স ইন মুসলিম’ নামের ইসলাম বিরোধী বিতর্কিত চলচ্চিত্রের জন্য বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিক্ষোভ চলছে. বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলার পর তা ছড়িয়ে পড়েছে জার্মান, যুক্তরাজ্য ও ইজরাইলের দূতাবাসে. বিক্ষোভের উত্পত্তি স্থল আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘পশ্চিমাবিরোধী জ্বর’ তা এশিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে.

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে. এ সব দেশের মধ্যে রয়েছে নাইজিরিয়া, লাগাস এবং এমনকি ইউরোপেরও অনেকে দেশ. লিবিয়ায় কর্মরত মার্কিন কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেন্টাগন জরুরি তত্পরতা গ্রহণ করেছে. প্রসঙ্গত, লিবিয়ার বেনগাজিতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিহত হয়. মার্কিনবিরোধী প্রতিবাদী জ্বর তা আগে অথবা পরে হলেও মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত. এমনটি বলছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টানিসলাভ তারাসোভ. তিনি বলছেন, “বেনগাজীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে হত্যা তা সত্যিকার অর্থেই একটি ট্রাজিডী ঘটনা. অন্যদিকে, মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজনীতি চর্চা করছে তারই একটি প্রতিফল. এই রাজনীতির কারণেই ইরাকে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে. একই চিত্র দেখা যায় আফগানিস্তানে. আমরা জানি যে, কি কারণে লিবিয়ার এ পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলো তখন নিশ্চুপ ছিল”.

ইউরোপে মহানবী হয়রত মুহাম্মদ(সঃ)কে নিয়ে যে ব্যঙ্গচিত্র করা হয়েছিল এবং তাই ছিল প্রথম সংকেত. ‘ইনোসেন্স ইন মুসলিম’ চলচিত্রে মহানবী হয়রত মুহাম্মদ (সঃ)কে ভিন্ন ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে এবং এটি ছিল এখানে নতুনত্ব. এমন বলছেন বিশেষজ্ঞ গুমের ইসায়েভ. তিনি বলেন, “মনোযোগ দিয়ে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, সম্প্রতি যে দেশগুলোতে সরকার পরিবর্তন ঘটেছে সেখানেই পশ্চিমাবিরোধী বিক্ষোভ চলছে. সেই সাথে চলচিত্রের মত শিল্পকলা ব্যবহার যা অবশ্যই উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে”.

ইউটিউব থেকে ইসলাম বিরোধী বিতর্কিত চলচ্চিত্রটির ভিডিও ক্লিপ সরিয়ে ফেলার হোয়াইট হাউসের অনুরোধকে প্রত্যাখ্যান করেছে গুগল. যদিও গুগলের এ সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন তেমন হতাশ হয় নি. হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেই কার্নি বলেছেন, “এ দেশের মানুষের স্বাধীন মতামতকে আমরা অবজ্ঞা করতে পারি না এবং তা করবে না”. গুগল যদিও ওই ভিডিও ক্লিপটি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার জন্য বন্ধ করে দিয়েছে এবং পূর্বে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল মিশর ও লিবিয়ায়. এই দুটি দেশেই সবচেয়ে বড় আকারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়. অন্যদিকে গুগল আরও জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওই ভিডিও ক্লিপ ওই সব দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক কারণ নেই.

এদিকে মার্কিনবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে. পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, পেশওয়ার, লাহোর, করাচিসহ অন্যান্য শহরে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়.

এ সব ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে মুসলিম বিশ্বের সাথে নিজেদের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে?. এর পূর্বাভাস দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের কূটনীতি একাডেমীর বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ভালোদিন. তিনি বলেছেন, “যে সব ঘটনা এখন ঘটছে তা হচ্ছে আরব বিপ্লবেরই একটি চলমান ক্রিয়াকলাপ যা কার্যত মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বেই পরিবর্তন ঘটাচ্ছে. এ ধরণের পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেমন একটা সুখকর অনুভব করছে না. তারা যা চায় বলতে পারে. কিন্তু সত্যিকার অর্থে তাদের এ পরিস্থিতি মেনে নিতে হচ্ছে. লিবিয়া, মিশরসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিনবিরোধী আন্দোলন থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরব বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সম্পর্ক অনেক নাজুক. আজকের দিনে আমরা দেখতে পাচ্ছে যে, মার্কিনীদের সেই কৌশল নেই এবং তাদেরকে পুনরায় তা প্রতিস্থাপন করতে হবে”.