“মিলিয়নের মিছিল” – কথাটা একটা জোরালো ব্র্যাণ্ড, যা প্রতিবাদ কাজকর্মের জন্য ভেবে বার করা হয়েছে. বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস যে, সারা রাশিয়া জুড়ে খুব বেশী হলে বিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার লোক এই ধরনের মিছিলে যোগ দেবেন, এই রকমের ভরসাই এই মিছিলের আয়োজকরা করতে পারেন. বিরোধী পক্ষের আরও একটি মিছিল হয়ে গেল ১৫ই সেপ্টেম্বর. বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই আন্দোলনের কোনও বোধগম্য লক্ষ্য এখনও জনতার সামনে রাখা হয় নি. আর তার থেকেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যে, বিরোধী পক্ষ সেই উদ্দেশ্য নিয়ে পরিকল্পনা করছে প্ররোচনা দেওয়ার, যাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যুত্তরে কঠোর কাজকর্ম করা হয়.

মস্কোর মেয়রের দপ্তর বিরোধী পক্ষকে স্বীকৃতী দিয়েছিল “পুশকিনস্কায়া” মেট্রো স্টেশন থেকে বুলভার্ড রিং রোড হয়ে একাডেমিশিয়ান সাখারোভ সরণী অবধি মিছিল করার, যেখানে মিটিং হবে বলা হয়েছিল.

বিরোধী পক্ষের নেতারা খুবই জোরালো সব ঘোষণা করলেও, বর্তমানে বিরোধী পক্ষের আন্দোলনে একটা যু্ক্তিসংগত সঙ্কটের সামনেই পড়েছে. মুখ্য সমস্যা হল, কোন বোধগম্য রাজনৈতিক পরিকল্পনার উপস্থিতি না থাকা, এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন বলেছেন:

“এই সব “মিলিয়নের মিছিলে”, মিলিয়ন লোকই আসে না. যায় কয়েক হাজার লোক. তাই আয়োজকদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে বর্তমানে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি করাই. কিন্তু এই প্রসঙ্গে তারা খুবই জেদ করে কোনও রাজনৈতিক অথবা সামাজিক কর্মসূচী তৈরী করতে রাজী নয়, যা এই বিরোধী মিছিলে যথেষ্ট পরিমানে লোককে সামিল করতে পারত. আর তার জায়গায় খালি সরকারের সঙ্গে বিরোধের ধারণাকেই তারা বলতে চায়, তাই তার থেকে স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, রাশিয়ার বিরোধী পক্ষের একটা রাজনৈতিক শক্তির অভাবই রয়েছে”.

এই ধরনের প্রতিবাদের মিছিল একটা নির্দিষ্ট ফল দিতে পারে, যদি সরকার কোন একটা প্ররোচনায় পা দেয় আর নিজের পক্ষ থেকে উল্লেখ যোগ্য রকমের কঠোর ভাবে কোনও কাজ করে. এটাই, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, প্রতিবাদ যারা আয়োজন করেছে, তারা আশা করছে, বলেছেন আলেক্সেই মুখিন, আর জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজভ নিজের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার বিরোধী পক্ষের আন্দোলন বর্তমানের এই ধারায় নীতিগত ভাবে কোন রকমের নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা বলে না অথবা রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথাও বলে না, তাই তিনি বলেছেন:

“গত বছরের শীতকালে নিজের সম্বন্ধে জাহির করা রাশিয়ার প্রথম প্রতিবাদী আন্দোলনকে, আমি তথাকথিত “রঙীণ বিপ্লব” গুলির সঙ্গে এক সারিতে বরং লসাতে চাইবো না, তার জায়গায় বসাবো “অকুপাই ওয়াল স্ট্রীট” মার্কা আন্দোলনের সঙ্গে. সেই আন্দোলনের খুবই বিমূর্ত ও খুবই কম বাস্তবায়ন যোগ্য দাবী রয়েছে. সঠিক করে বললে সেই রকমের দাবী রয়েছে, যা নিজের বাস্তবায়নের সময়ে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সরঞ্জাম বলেই মনে হয় না. অর্থাত্ এটা একটা বিরোধ, যার ভিত্তিতে রাজনৈতিক কাজকর্ম নেই, যা কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য সাধনের জন্য করা দরকার, বরং রয়েছে নিজেকে জাহির করার একটা ইচ্ছা”.

আর সত্যি করে বললে, একটা ধারণা তৈরী হয়েছে যে, এই ধরনের প্রতিবাদী লোকদের প্রধান উদ্দেশ্য - “অংশ গ্রহণের জন্যই অংশগ্রহণ”, নিজের মত এই ভাবেই ভাগ করেছেন সামাজিক মত তহবিলের সভাপতি আলেকজান্ডার অসলন:

“এই ধরনের অনুষ্ঠানে সব চেয়ে বেশী করে অংশ নিয়ে থাকে সেই ধরনের লোকরা, যারা এই প্রক্রিয়াতে নিজেদের জন্য শক্তি জোগাড়ের চেষ্টা করে. এই ধরনের অংশগ্রহণই এই ধরনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার মানে হয়ে দাঁড়িয়েছে. আমি মনে করি যে, এখন আরও বেশী করেই এই ধরনের মানসিকতার লোক দেখা যাবে. এরা আরও অল্পবয়সী, কম বুদ্ধির লোকজন, যারা নিজেরা দ্রুত আপ্লুত হয়ে থাকে ও অন্যদেরও নিজেদের আবেগে আপ্লুত করে থাকে”.

প্রতিবাদী মিছিলের সঙ্কট, যে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তা আবার সেই প্রতিবাদী পক্ষের লোকদের কথাবার্তাতেই প্রতিফলিত হয়েছে. কিছু ব্লগার ইতিমধ্যেই “ফাঁকা আওয়াজের মিছিলের” হুজুগের বিরুদ্ধে লিখে মত দিয়ে ফেলেছেন. তাদের কথামতো, সরকারের পক্ষ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ছাড়া ও প্রতিবাদী জনতার পক্ষ থেকে একটা হতাশা ছাড়া, এই মিছিল আর কোনও আবেগের সৃষ্টি করে না.