বিগত ৪ বছরের অর্থনৈতিক মন্দা যা ইউরোপ সামান্য কিছুটা হলেও অনুভব করতে পেরেছে, বিশেষকরে শুরু হওয়া নতুন অর্থনৈতিক মন্দা. চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় তহবিলের ভাগ্য আবার ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে যা নিজেদের অন্যতম অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানকারী দেশ জার্মানীর জন্য কিছুটা ভোগান্তির সৃষ্টি করতে পারে. অবশেষে চুড়ান্তভাবে বিশেষজ্ঞরা উত্কণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে গত ৪ বছরের অর্থনৈতিক মন্দার সারমর্ম প্রদান ও আগামী ভবিষ্যত সম্পর্কে অবহিত করতে পারতেন.

২০০৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী বাংক লেহমান ব্রাদার্সের পতন ঘটেছিল. কার্যত এই দিন থেকে অর্থনৈতিক মন্দার শুরুর দিন ধরা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে উন্নয়নশীল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশগুলোই বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়. গত ৪ বছরে অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা মন্দা মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন কৌশল তৈরী করেছেন. যেমন সর্বশেষ গঠন করা হয়েছে ইউরোপীয় স্থিতিশীল কৌশল. এই তহবিলে ৭০০ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে. ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ১৭টি দেশ থেকে এ অর্থ সরবরাহ কর হবে. শুধুমাত্র জার্মানি দিবে মোট অর্থের এক তৃতীয়াংশ. আর এই সিদ্ধান্তই পছন্দ করে নি অন্তত ৪০ হাজার জার্মান নাগরিক এবং সরকারের এ ধরণের কার্যক্রমকে আইন বিরোধী বলে উল্লেখ করে আদালতের শরণাপন্না হয়. যদি আদালত জনগনের পক্ষে এই রায় দেয় তাহলে ইউরোপকে উদ্ধারের সর্বশেষ আশাও হাতছাড়া হয়ে যাবে এবং জার্মানিতে হয়ত বা রাজনৈতিক মন্দা শুরু হতে পারে. তবে জার্মানি আবারও প্রমাণ করেছে যে, ইউরোপকে ত্যাগ করছে না. এমনটি বলেছেন বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ গিওর্গি ভারোনকোভ.

“জার্মানি নিজেদের ইউরো জোনেই দেখে এ কথা বোঝাতে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের রীতিমত গলাই বসে গেছে. তিনি দেখছেন যে, ইউরো জোন ভুক্ত প্রতিটি দেশই একত্রে রয়েছে এবং সবাই পরিকল্পনা করছে একে অপরকে সাহায্য করার. যেহেতু আঙ্গেলা ম্যার্কেল একজন রাজনীতিবিদ এবং তাই তিনি তার সমর্থকদের মতামতের মূল্য দিতে চাইবেন যারা মূল্য বৃদ্ধির বিপক্ষে নয়”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ বোর্ডের সভার শুরুতেই জার্মানির জন্য ভাল সংবাদ বয়ে এনেছে. ওই সভায় নিজেদের ৩য় কর্মসূচির বিরাট অংশ শিথিল করা হয়েছে. এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ভবিষ্যতে মার্কিন অর্থনীতিতে উন্নয়নের ঢেউয়ের আবির্ভাব হবে. যদিও এ সংবাদে খুশি হওয়ার সময় এখনই আসে নি. এমনটি বলছিলেন বিশ্ব অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইয়াকোভ মিরকিন. তিনি বলেছেন, “আমাদের এখন উপরে ওঠার পথ তৈরী করতে হবে. তবে এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই ছোট ছোট বাঁধা এবং কিছু ঝুঁকি রয়েছে. তবে আমারা আশা করছি ওই সব ছোট ছোট বাঁধা অতিক্রম করা সম্ভব হবে”.

ইউরোপীয় তহবিল গঠন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ বোর্ডের ৩য় কর্মসূচির সংকোচন যা থেকে অন্তত বোঝাই যাচ্ছে যে গত ৪ বছরের অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রাজনীতিবীদ ও অর্থনীতিবিদরা স্বল্পকালিন উন্নয়ন রূপরেখা তৈরী করতে পারে.

বিশ্ব অর্থনীতি ইতিমধ্যে ২ বার অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছে. ২০০৮ সালে ১ম মন্দায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল এশিয়া এবং ২০১০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে. এবারের শরতে অর্থনীতিবিদরা

0আবারও ৩য় অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দিয়েছেন. অক্টোবরে হয়ত গ্রীস ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করতে পারে. আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যে, বর্তমানে অধিকাংশ দেশই ইউরোপের সাথে সম্পর্ক শিথিল করে অন্যান্য নতুন বাজারের দিকে যাচ্ছে. বিক্সস দেশগুলোতে বিনিয়োগ করার জন্যই মার্কিন বিশেষজ্ঞরা সঙ্গত কারণেই প্রায় বলে থাকেন. সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর অনুষ্ঠিত এ্যাপেক সম্মেলনে রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছে যে এশিয়- প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় এবং যেন ইউরোপের ওপর কম নির্ভরশীল থাকতে হয়.