ইরান যুদ্ধঘাঁটি পারচিন সহ আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সীর জন্য দুর্ভাবনার সব কেন্দ্র দেখাতে বাধ্য. এজেন্সীর সদর-দপ্তর থেকে তেহরানে এরকম বার্তা পাঠানো হয়েছে. রাশিয়া ও চীন এই মর্মে স্বাক্ষর করেছে. এই দাবীর উদ্যোক্তা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানী ও গ্রেট বৃটেন.

আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সী জানিয়েছে, যে তারা ইরানে হেভি ওয়াটার নিয়ে কাজ করায় ও ফার্দুতে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধিকরনের প্রক্রিয়ায় উদ্বিগ্ন. তবে এটা ইরানের জন্য রেড লাইন নয়. ঐ বার্তায় ইরানকে এই বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যে সে দেশ এজেন্সীর সাথে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করতে বাধ্য.

বিশ্ব জনসমাজের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানী ইরানের পারমানবিক সমস্যা নিয়ে বৈঠক করছে. এবং তারা যে অভিন্ন অভিমত খুঁজে পেয়েছে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. এ বিষয়ে রাশিয়ার স্ট্রাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুর্তভ বলছেন.

আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সী চায়, যাতে পারমানবিক শক্তি ও অস্ত্রের সমস্যা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসিত হয়. কোনোভাবেই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে নয়. এবং এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে আলাপরত সব পক্ষ. আর ইরানকে যে সঙ্কেত পাঠানো হয়েছে, তা প্রথম অথবা শেষ নয়. অবশ্যই ইরানের চিন্তাভাবনা করার দরকার, কারণ আলোচনার খাতিরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দীর্ঘকাল চলতে পারে না. অবশেষে তেহরানের আচরন তার মিত্রদের সংখ্যা ক্রমাগত কমিয়ে দিচ্ছে.

ইরানের পারমানবিক অস্ত্র সমস্যার অসামরিক সমাধান দরকার. শুক্রবার ইস্রায়েলের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডান মেরিডোর এই উক্তি করেছেন. তিনি আমেরিকার অনুমতি ছাড়াই একপাক্ষিক ইস্রায়েলের তরফ থেকে ইরানের ওপর অস্ত্রাঘাত করার অভিপ্রায়, যা প্রধানমন্ত্রী নেতানিহায়ু ব্যক্ত করেছেন – তার বিরূদ্ধে. মার্কিনী রাষ্ট্রপতি ইরানের সমস্যায় আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করার পরেই ইস্রায়েলের শীর্ষনেতৃত্বে মতবিরোধ তীব্রতর হয়েছে. বারাক ওবামা নেতানিহায়ুর ইরানের বিরুদ্ধে রেড লাইন জারী করার প্রস্তাবকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন. এবার ইস্রায়েলের শীর্ষনেতৃত্বে পেন্ডুলাম কোন দিকে দুলবে – এ বিষয়ে শুনুন রুশ বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির বিশেষজ্ঞ দমিত্রি মারিয়াসিসের বক্তব্য.

 

আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সীর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট সদর্থক, যদি তারা ইরানের কাছ থেকে কড়াভাবে দাবী করে ও সে দেশকে তার অবস্থান বদলাতে বাধ্য করে. ইস্রায়েল সামরিক আক্রমণ করার পথ থেকে অবশ্যই সরে আসবে. ইহুদীরা বুঝতে পারছে, যে এমন যুদ্ধ শুরু করলে তা হবে দীর্ঘকালীন ও ব্যাপক রক্তক্ষয়ী, শুধুমাত্র ইস্রায়েল ও ইরানের জন্যই নয়, প্রতিবেশী দেশগুলির জন্যও. সামরিক অভিযান স্থানীয় মাত্রা থেকে পুরোমাত্রার যুদ্ধে পর্যবসিত হতে পারে.

সামরিক সংঘাত এড়ানোর উদ্দেশ্যে পারমানবিক শক্তি এজেন্সী ইরানের কাছে তার শান্তিপূর্ণ পারমানবিক প্রকল্পের প্রমাণ দেওয়ার দাবী জানিয়েছে. অংশত ব্যাখ্যা করতে, যে সামরিক পারমানবিক প্রকল্পের তাত্পর্য্য কি. প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে সামরিক পারমানবিক ঘাঁটি পারচিনে এজেন্সীর পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করতে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে. তেহরান এখনো তার কোনো উত্তর দেয়নি.