রেডিও রাশিয়া! প্রিয় শ্রোতারা আপনারা শুনবেন আমাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ – রাশিয়ার আদ্যোপান্ত. অনুষ্ঠাণটি সংকলন করেছেন নিনা রুকাভিশনিকভা, আর স্টুডিওয় ভাষ্যকার ল্যুদমিলা পাতাকি ও কৌশিক দাস.

এই আসরে আমরা একান্তভাবেই আপনাদের জন্য আগ্রোহদ্দীপক প্রশ্নাবলীর উত্তর দিয়ে থাকি.

তাই ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মরিশাসে আমাদের শ্রোতাদের কাছে অনুরোধ যত বেশি সম্ভব প্রশ্ন পাঠানোর জন্য. লিখুন আপনাদের জন্য রাশিয়ার প্রসঙ্গে কোনসব বিষয় সবচেয়ে আগ্রোহদ্দীপক.

আজ আমরা উত্তর দেব নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলিরঃ

পাকিস্তানের শেখপুরের বাসিন্দা নাভিদ আব্বাস প্রশ্ন করেছেন – রাশিয়ায় কতগুলি প্রদেশ. ভারতের উত্তরপ্রদেশ থেকে বদ্রীপ্রসাদ ভার্মা জানতে চেয়েছেন রাশিয়ায় কতগুলি রাজ্য.

পাকিস্তানের শেখপুরের বাসিন্দা মেহরান আলি জানতে চেয়েছেন, যে রাশিয়ায় কোন কোন ভাষায় লোকে কথা বলে.

ভারতের ইসলামপুর থেকে সামসুদ্দিন সাকি জানতে চেয়েছেন – রাশিয়ায় জাতিগত ভিত্তিতে কি কোটা দেওয়া হয় কর্মসংস্থানের সময়?

আর সবশেষে আপনারা শুনবেন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের মঙ্গলাগিরি থেকে পাঠানো মহম্মদ আকবর খানের পাঠানো প্রশ্নের উত্তরঃ রুশবাসীরা কোন সব গৃহপালিত পশু পোষে?

আমরা ঠিক করেছি এই আসরে ৪টে প্রশ্নকেই একাত্মবদ্ধ করার. কারণ সব প্রশ্নই আমাদের দেশের বহুজাতিক নাগরিকদের সম্পর্কে.

উল্লেখ করতে চাই যে যেমন পাকিস্তানে প্রদেশ বা ভারতবর্ষে রাজ্য, রাশিয়াতে সেরকম নয়. রাশিয়ার পুরো নাম – রাশিয়ান ফেডারেশন, যেখানে ২১টি প্রজাতন্ত্র, ৪৬টি জেলা, ৯টি স্বায়ত্বশাসিত প্রান্তর, ৫টা স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল ও ২টি জাতীয়মাপের স্বয়ংশাসিত শহর – মস্কো ও সেন্ট-পিটার্সবার্গ.

ভারত ও পাকিস্তানের মতোই রাশিয়ায় বহু জাতির লোক বাস করে. এখানে ১৬০টি ভাষায় লোকে কথা বলে আর আমাদের দেশে ২১টি জাতিগত প্রজাতন্ত্র.

প্রায় ১৬০টি ভাষা আর মাত্র ২১টি জাতিগত প্রজাতন্ত্র – এটা কি করে সম্ভব?

ব্যাপারটা হচ্ছে এই, যে রাশিয়ার বহু প্রজাতন্ত্রে শত শত বছর ধরে বিভিন্নভাষী লোকজন বসবাস করে. ককেশাসে অবস্থিত দাগেস্তান প্রজাতন্ত্র এই বিষয়ে চ্যাম্পিয়ন. সেখানে ৩০ লক্ষেরও কম অধিবাসী, যারা ৩০টা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে. দাগেস্তানে খবরের কাগজ ও পত্রিকা ১৪টি বিভিন্ন ভাষায় ছাপা হয়. পার্ব্বত্য দাগেস্তানকে কখনো কখনো ‘ভাষার পাহাড়’ নামে আখ্যা দেওয়া হয়.

সবচেয়ে বড় প্রজাতন্ত্র হল তাতারস্তান ও বাশকরতোস্তান. ঐ দুই প্রজাতন্ত্রের জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষের কাছাকাছি. ঐ দুই প্রজাতন্ত্রে তাতার ও বাশকিররা ছাড়াও প্রচুর রুশী ও অন্যান্য জাতির মানুষ বাস করে.

সব প্রজাতন্ত্রে সরকারী ভাষা যেমন রুশী, তেমনই স্থানীয় ভাষা. স্কুলে ও উচ্চ শিক্ষালয়ে রুশী বা মাতৃভাষার মাধ্যমে পড়াশোনা করা যেতে পারে. শিক্ষার্থী বা তার অভিভাবকরাই ঠিক করে শিক্ষাপ্রাপ্তির ভাষামাধ্যম.

তবে রুশী ভাষা জানা আবশ্যক. কারণ এই ভাষায় সমস্ত জাতির মানুষ পরস্পরের সাথে বাক্যালাপ করে. ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় আমাদের দেশে খুব কম লোকই ইংরাজী ভাষা জানে. আমাদের পারস্পরিক বাক্যালাপের জন্য ইংরাজী ভাষার প্রয়োজন নেই.

আবার ফিরছি রাশিয়ায় জাতিগত প্রশ্নে. রাশিয়ায় বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বিবাহ প্রায়ই হয়ে থাকে. ১৪-বছর বয়সে রাশিয়ার প্রত্যেক নাগরিক পাসপোর্ট পায়. সেখানে জাতি উল্লেখ করা হয় না. শিক্ষাকেন্দ্রে ও কর্মকেন্দ্রে আবেদনপত্র পূরণ করার সময় জাতির উল্লেখ করতে হয়না. সংবিধান অনুসারে আমাদের দেশে সব নাগরিকের সমানাধিকার, সুতরাং বিভিন্ন জাতির নাগরিকদের জন্য কর্মনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনোরকম কোটা নেই.

হ্যাঁ, আমাদের দেশে কিছু কিছু মানুষ নিজেরাই ঠিক করে উঠতে পারে না, যে তারা কোন জাতির মানুষ. যেমন মস্কোয় আমার এক বান্ধবী আছে, যার পরিবারে তিন জাতির মেশাল – তাতার, ওসেতিন ও ইউক্রেনিয়ান. বান্ধবীটি নিজেকে রুশী বলে গণ্য করে ও রুশ ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষা জানে না. নিজের জন্য জাতি নির্বাচন করা – এটা রাশিয়ার প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত ব্যাপার.

অবশ্যই এরকম ঘটনা ঘটে, যখন লোকে একে অপরের সাথে বচসা করে. মাঝে মাঝে কেউ কেউ জাতিগত দ্বন্দ নিয়ে ঝামেলা করতে চায়. তখনই আইন চালু করা হয়. রাশিয়ায় এরকম আচরণকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয় ও রাষ্ট্রের বিরূদ্ধে অপরাধ বলে ধরা হয়.

আমাদের সংবিধানে বলা আছে, যে ঘৃণা বা শত্রুতার সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কান্ডকারকারখানা কোনোমতেই মেনে নেওয়া হবে না. অথবা সরকারী চাকরি থেকে ৩ বছরের জন্য তাকে বরখাস্ত করা হবে.

এখন আমাদের সংবাদ মাধ্যমগুলি এই ব্যাপারে শাস্তি আরও কঠোর করার দাবী জানাচ্ছে. রাশিয়ার শক্তি তার বহুজাতিক জনগণের একাত্মতার মধ্যেই. ১৯৪১-৪৫ সালে আমাদের নাগরিকরা জাতি নির্বিশেষে পিতৃভুমির জন্য প্রাণ নিবেদন করেছিল জার্মান ফ্যাসিস্টদের বিরূদ্ধে.

আর এবার উত্তর দেব পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ থেকে পাঠানো শাহ নওয়াজ জিসকানির প্রশ্নের – রাশিয়ায় কোন সব গৃহপালিত পশু পোষা হয়?

প্রথমে জানানো দরকার, যে রাশিয়ায় তিন-চতুর্থাংশ অধিবাসীরই গৃহপালিত পশু আছে. সাধারনতঃ এটা কুকুর অথবা বেড়াল. গ্রামে কুকুররা বাড়ি সুরক্ষা করে চোরদের হাত থেকে আর বেড়ালরা ইঁদুর, ছুঁচোদের নস্যাত করে.

বড় শহরে ফ্ল্যাটেও কুকুর ও বেড়ালদের পালন করা হয়. তাছাড়াও আছে টিয়াপাখি ও অ্যাকুরিয়ামে মাছ. আমাদের এখানে জীবজন্তুকে পরিবারের সদস্য হিসাবে ধরা হয়. অধিকাংশ সময়েই বাড়ির বাচ্চাদের আবদারে ওদের কেনা হয়. রুশবাসীদের দৃঢ়বিশ্বাস এই, যে গৃহপালিত পশুরা শিশুদের দয়া ও ও কর্তব্যপালন করতে শেখায়. একাকী বয়স্ক মানুষরাও পশু পালন করে, তাদের দরকার কথাবার্তা বলা. সবারই অগাধ বিশ্বাস, যে গৃহপালিত পশু অসুখ সারায়, স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয়.

ইদানীংকালে বাড়িতে এক্সোটিক জীবজন্তুকে পালার ফ্যাশন হয়েছে. তাদের হয় বেআইনিভাবে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশ থেকে পাচার করে নিয়ে আসা হয়, অথবা দোকানে তাদের লোকে কেনে. ইন্টারনেটে এ ধরনের দোকানের ঠিকানা পাওয়া যায়. আমরা এরকম একটা সাইটে গিয়েছিলাম, যেখানে ছোট্ট কুমীর, বাঁদর, বিষধর সাপ, ক্যাঙ্গারু ও অন্যান্য জীবজন্তু অফার করা হচ্ছে. দোকানগুলো যখন বিক্রি করছে, তার মানে কেউ সেগুলো কেনে.

প্রিয় শ্রোতারা! আর আপনাদের গৃহপালিত পশু আছে? লিখুন আমাদের এ সম্পর্কে.

‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’ নামক আমাদের এই আসর এখন আমরা শেষ করবো. তবে বরাবরের মতো অনুষ্ঠাণের শেষে একটা গান শোনাচ্ছি আপনাদের.

আমাদের ঠিকানা – রেডিও রাশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য সম্প্রচার বিভাগ, ২৫নং প্যাতনিত্স্কায়া স্ট্রীট, মস্কো, রাশিয়া-১১৫৩২৬. আমাদের ইন্টারনেট এ্যাড্রেস – Letters a RUVR. Ru. নমস্কার.