লিবিয়ার বেনগাজী শহরে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেন্সের হত্যার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল. তা স্রেফ নজর এড়ানোর জন্যেই করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে জনতার আক্রমণের সময়ে, আর তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদী হানার বর্ষ পূর্তির সময়ে যে হয়েছে, সেটা নিতান্তই কাকতালীয় ব্যাপার. এই ধরনের একটা ঘটনা পরম্পরা যেমন হোয়াইট হাউসের নাম করতে অনিচ্ছুক সরকারি মুখপাত্ররা দিচ্ছেন, তেমনই বের হচ্ছে ইজরায়েলের সংবাদ মাধ্যমে.

এই সব উত্সদের মতে, রাষ্ট্রদূতকে হত্যা “আল- কায়দা” দলের পেশাদার গোষ্ঠীর কাজ. তাদের যোদ্ধারা লিবিয়াতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য জেলে বন্দী ছিল ও গাদ্দাফির পতনের পরে সবাই ছাড়া পেয়েছিল. তাদের কাজের জন্য সঙ্কেত হয়েছিল “আল- কায়দা” দলের নেতা আইমান আজ- জওয়াহিরির এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগে ইন্টারনেটে প্রকাশিত যুদ্ধের আহ্বান. সন্ত্রাসবাদী লিবিয়াতে এই দলের নেতা আবু ইয়াহিয়া আল- লিবি নামক সন্ত্রাসবাদীর পাকিস্তানে ড্রোন বিমানের বোমা বর্ষণে মৃত্যুর বদলা নিতে আহ্বান করেছিল.

যখন মার্কিন কনস্যুলেটে বহু শত স্থানীয় জনতা ঘিরে ধরতে গিয়েছিল, যারা ইন্টারনেটে আমেরিকায় তোলা অবতার মহম্মদের প্রতি ব্যঙ্গ সহ সিনেমার উদ্ভবের জন্য প্রতিবাদে মুখর হয়েছিল, তখনই এই সব জঙ্গীরা ভীড়ের আড়ালে এসে তাদের অপারেশন শুরু করেছিল. একদল জঙ্গী এই বাড়ীটিতে গ্রেনেড হামলা করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে রাষ্ট্রদূতকে তাঁর দেহ রক্ষীদের নিয়ে বাইরে বের হতে বাধ্য হতে হয়েছিল. অন্য আরেকটি দল – অপেক্ষা করছিল যে, কখন তিনি গাড়ীতে উঠবেন, আর তার পরে তা বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেয়. এই ধরনের ঘটনা পরম্পরা দুই দেশের তরফ থেকেই তদন্তের সময়ে পরীক্ষা করে দেখা হবে.

সমস্ত পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে সমস্ত বিশ্লেষকরাই একমত হয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন বেশী করে ভাবার, যে, তারা কাদের এই এলাকায় ক্ষমতায় এনে বসাচ্ছে, আর কাদেরই বা সিরিয়াতে সহায়তা করছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক একাডেমীর রেক্টরের পরামর্শদাতা ওলেগ পেরেসীপকিন বলেছেন:

“আমেরিকার লোকরা খুবই এই মুহূর্তের কথা কৌশল করে ভাবে. মুবারক বা গাদ্দাফির পতন করাতে হবে, আর তারপর কি হবে – দেখা যাবে. আর এই ধরনের স্ট্র্যাটেজিক ভাবনা চিন্তা, যাতে স্পষ্ট করে বোঝা যায়, কাকে সাহায্য করা দরকার, আর কার জন্য দরকার নেই, তা দুঃখের বিষয় হল যে, ওদের সব ভেবে চিন্তে দেখার সময় থাকে না.”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই সমস্ত দেশের সঙ্গে, যেখানে ক্ষমতায় এসেছে ঐস্লামিক শক্তিরা, সেখানে রাজনীতি সংশোধন করবে, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির পানতিন বলেছেন:

“আমেরিকার লোকরা এবারে বেশী সাবধান হবে ঐস্লামিক প্রশাসন গুলিকে সমর্থনের বিষয়ে. কিন্তু আরও বড় কোনও বিশাল চাঞ্চল্যকর ঘটনার আগে পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ইজিপ্ট বা লিবিয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভাবে পাল্টাবে না. খুবই বড় সব শক্তি এই ক্ষেত্রে যুক্ত করা হয়েছে”.

রাষ্ট্রদূতের হত্যা অনেক প্রশ্নের উদয় করেছে, যার আপাততঃ কোনও উত্তর নেই: কেন ক্রিস স্টিভেন্স বেনগাজী চলে গিয়েছিলেন আর কেনই বা নানা ধরনের বিশেষ বাহিনী এই অন্তর্ঘাতের প্রস্তুতি সম্বন্ধে আগে থেকে কিছুই জানতে পারে নি.