রাশিয়ার উত্তরের ইয়াকুতিয়া রাজ্যে পাওয়া এক বিরল উদাহরণের জন্য এবারে ম্যামথ ক্লোন করা সম্ভব হবে. আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম বিজ্ঞান অভিযানের এক দল বিজ্ঞানী, যাঁরা রাশিয়া ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, কানাডা, সুইডেন ও গ্রেট ব্রিটেন থেকে এসেছিলেন, তাঁরা এই প্রাগৈতিহাসিক জন্তুর দেহ খুঁজে পেয়েছেন, যাতে কিছু প্রত্যঙ্গ অটুট ছিল ও তার মধ্যে পেয়েছেন জীবন্ত কোষ.

“ইয়ানা – ২০১২” নামের আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম বিজ্ঞান অভিযান হয়েছে আগষ্ট মাসে. ইয়াকুতিয়া রাজ্যের উত্তরে সুমেরু বৃত্তের অপর পারে পাওয়া গিয়েছে ম্যামথ, বাইসন ও প্রাচীন ঘোড়ার জীবাশ্ম. আর তখনই বিশ্বের প্রমুখ জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা আলোচনা করতে শুরু করেছিলেন প্রাগৈতিহাসিক জন্তু দের ক্লোন তৈরী করা নিয়ে. কিন্তু তা করা নিয়ে অসুবিধা হচ্ছিল জীবাশ্মের ভিতরে জীবন্ত কোষ না থাকাতে.

এই বারের চমক জাগানো আবিষ্কার এই অভিযানের অংশগ্রহণকারীরা খুঁজে পেয়েছেন পাঁচ – ছয় মিটার গভীরে. বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, এর পেশীতে জীবন্ত কোষ রয়েছে, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” উল্লেখ করে অভিযানের নেতা ও ইয়াকুতিয়া রাজ্যের ম্যামথ জাদুঘরের ডিরেক্টর সিমিওন গ্রিগোরিয়েভ বলেছেন:

“আমরা খুবই ভাল রকমের সংরক্ষিত চর্বি, মজ্জাও লোমের নমুনা পেয়েছি. আমরা এই গুলিকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখে খুঁজে পেয়েছি একেবারে বড় একটা জীবন্ত কোষের অংশ. এটা আমাদের আশা দিয়েছে যে, এই ধরনের নমুনা আমাদের পরবর্তী কালে গবেষণায় সাহায্য করবে”.

কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আকিরা ইরিতানি প্রথম ম্যামথ ক্লোন করার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন. বিজ্ঞানী প্রস্তাব করেছিলেন হস্তিনীর ডিম্বাণুতে ম্যামথের ক্রোমোজোম সহ কোষের অংশ প্রতিস্থাপন করার. ইরিতানি তাঁর সহকর্মী তেরোহিকো ভাকাইয়ামার সাফল্যে উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন, যিনি ইঁদুরের ক্লোন করেছেন, যা ঠাণ্ডায় পড়েছিল ১৬ বছর ধরে.

এই বছরে ইয়াকুতিয়া রাজ্যের উত্তর পূর্ব রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ কোরিয়ার জৈব প্রযুক্তি গবেষণা কেন্দ্র সম্মিলিত ভাবে বৈজ্ঞানিক কাজকর্ম করার জন্য চুক্তি করেছে. এই প্রকল্পের লক্ষ্য – একই ধরনের জন্তুর মধ্যে ক্লোন তৈরীর প্রচেষ্টা, যখন হস্তিনীর ডিম্বাণুতে চেষ্টা করে হবে ম্যামথের কোষের অংশ প্রতিস্থাপন করে ২২ মাস পরে ম্যামথের জন্মের জন্য.

এই কথা সত্য যে, কিছু বিজ্ঞানী ম্যামথ ক্লোন করার বিষয়ে প্রক্রিয়ার পূর্বাভাস দেওয়ায় সমর্থ না হওয়া নিয়ে কথা তুলেছেন. তাঁরা বাদ দেন নি যে, ম্যামথের ক্রোমোজোমের ও কোষের অন্তঃস্থল থেকে তার মধ্যে নিদ্রিত কিছু ভাইরাসও জেগে উঠতে পারে, যেগুলি মানব সমাজ এর মধ্যেই ভুলে যেতে পেরেছে.

এই বিষয়ে বড় করে তথ্য ও ইয়াকুতিয়া রাজ্যে আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম বিজ্ঞান অভিযানের বর্ণনা আর ফলাফল আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশ করা হবে. আর যা খুঁজে পাওয়া গিয়েছে তার সম্বন্ধে ভিডিও, যা এই অভিযানে অংশ গ্রহণ করে ইংল্যান্ডের টেলিভিশন কোম্পানী তুলেছে, তা দেখানো হবে আগামী বছরে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক টেলিভিশন চ্যানেলে.