ভারতের সুপ্রীম কোর্ট পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের বিরোধীদের দাবী অনুযায়ী পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র কুদানকুলামের প্রথম রিয়্যাক্টরে জ্বালানী ভরা বন্ধ করা নিয়ে মামলায় নেতিবাচক রায় দিয়েছে. একই সঙ্গে আদালত পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি উত্পাদনের বিরোধী পক্ষের উকিল প্রশান্ত ভূষণের পিটিশন বিচার করে দেখার জন্য গ্রহণ করেছে. তার ২০শে সেপ্টেম্বর শুনানী হবে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

রিয়্যাক্টরে জ্বালানী ভরা শুরুর আগে রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি দিন. তারই সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতিবাদ আন্দোলন. পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের কাছে কয়েক শত মানুষ সমুদ্রের জলে নেমে ঘোষণা করেছে যে, তারা জল থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত উঠবে না, যতক্ষণ না কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়. পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে কোন রকমের যুক্তি সঙ্গত কথাই তারা শুনতে রাজী নয়. যারা এই কাজ করছে, তারা বিশেষজ্ঞদের দোষ দিচ্ছে যে, তাঁরা জনতার ভয়ের মূল্যায়ন করছেন না. বিশেষজ্ঞরা উত্তর দিচ্ছেন যে, সমস্ত ভয়ই কোন রকমের বিজ্ঞান সম্মত ধারণার উপরে ভিত্তি করে করা হয় নি, অন্য কিছুর উপরে ভিত্তি করেই হয়েছে. কিন্তু কিসের ভিত্তিতে? এই প্রসঙ্গে, অবশ্য বিশেষজ্ঞরা সযত্নে এড়িয়ে যাচ্ছেন, চুপ করে থেকে. তবে রাজনীতিবিদরা ও ভারতের গুপ্তচর বিভাগের প্রাক্তন কর্মীরা এর উত্তর অনেক দিন ধরেই সরাসরি দিচ্ছেন এই বলে যে, ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের দেশ থেকে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে.

সামাজিক- রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ মনে করেন যে, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র কুদানকুলামের চারপাশে এই শোরগোল তোলা হয়েছে কৃত্রিম ভাবেই, আর তা করা হয়েছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই, তাই তিনি বলেছেন:

“আমি মনে করি যে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা তৈরী করা হয়েছে কল্পিত কারণে, খুব সম্ভবতঃ লবি করার স্বার্থ নিয়ে. প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের লবি করার লোকরা প্রচুর বড় মাপের আর্থিক সহায়তা পেয়েছে, যা তারা ব্যবহার করতে পারছে, তার মধ্যে আবার ভারতের দেশের মধ্যেই”.

ভারতের টাইমস অফ ইন্ডিয়া সংবাদপত্র কয়েক মাস আগেই লিখেছিল যে, পশ্চিমের খ্রীষ্টান সংস্থা গুলি ভারতে প্রায় ৬৩ কোটি ডলার অর্থ পাঠিয়েছে, যাতে এই দেশের পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়. আমেরিকার জার্নাল সায়েন্সকে দেওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সাক্ষাত্কার খুবই প্রসারিত ভাবে সকলেই জানেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, কুদানকুলামে পারমানবিক প্রকল্প তৈরীর বিরুদ্ধে রয়েছে ভারতেই সক্রিয় ভাবে কাজ করা নানা ধরনের বেসরকারি সংস্থা, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অনেক গুলি স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশ থেকে অর্থ সহায়তা পাচ্ছে. ভারতের সংবাদপত্র ইকনমিক টাইমস পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের বিরুদ্ধে কাজ করছে ষোলটি পশ্চিমের বেসরকারি সংস্থা, বিদেশী তহবিলেরই আর্থিক সাহায্যে. ভারতের টেলিভিশন কোম্পানী এনডিটিভি একই সঙ্গে জানিয়েছে যে, ভারত থেকে এক জার্মান নাগরিক বিতাড়িত হয়েছে, যে পারমানবিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অর্থ সাহায্য করছিল.

এই ধরনের খবর আরও অনেক রয়েছে. তারা বলে দিচ্ছে যে, ভারতের বাইরে প্রচুর প্রভাবশালী শক্তি রয়েছে, যারা আগ্রহী এই কারণে যে, পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প যাতে কাজ করতে শুরু না করে. কিন্তু এই ধরনের শক্তি ভারতেও রয়েছে. এই বিষয় খুবই সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক সংগ্রামে. এখন মনমোহন সিংহের প্রশাসনকে সমালোচনা করা হচ্ছে যে, তাঁরা পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের নিরাপত্তার বিষয়ে খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছেন না. আর যদি এই কেন্দ্র কাজ করতে শুরু না করে, তবে বলা হবে যে, সরকার দেশের বিদ্যুত শক্তির চাহিদা মেটাতে অক্ষম আর তাদের কঠোর সমালোচনার প্রয়োজন. আগামী নির্বাচন যো কেন রকমের সামাজিক ভাবে সংজ্ঞাবহ সমস্যার উপরেই নিজের প্রভাব ফেলেছে. কিন্তু রাজনীতিবিদদের খেলা নিজে থেকে তামিলনাডু রাজ্য ও ভারতের সমস্ত দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুত শক্তির চাহিদা মেটাতে পারবে না, অর্থনৈতিক বিকাশের পথে নতুন করে ধাক্কা দিতে পারবে না আর নতুন কাজের জায়গাও তৈরী করে দেবে না. এটা করতে পারে শুধু খুবই দ্রুত এই কাজের জন্য সম্পূর্ণ ভাবে তৈরী কুদানকুলাম বিদ্যুত কেন্দ্রের চালু হওয়া.