সের্বিয়ার প্রশাসন এক নতুন সাক্ষীকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছেন, যে বর্তমানে কোসভা রাজ্যে কালো টাকার বিনিময়ে বেআইনি ভাবে মানুষের প্রত্যঙ্গ নিয়ে কারবারের বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে. এই সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত হয়েছেন এক প্রাক্তন “কোসভা স্বাধীনতার সেনা বাহিনীর” যোদ্ধা, যে নিজেই বন্দীদের শরীর থেকে নানা জীবন্ত প্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়ার কাজে জড়িত ছিল. তার সাক্ষ্য শীঘ্রই প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে উত্থাপন করা হবে.

বহু দিন আগে থেকেই জানা রয়েছে যে, কোসভা বিরোধের সময়ে মানুষের প্রত্যঙ্গ নিয়ে খুবই সক্রিয় কারবার চলেছিল. এই ধরনের অপরাধ নিয়ে খবর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিত্ব মূলক সভার সদস্য ডিক মার্টি তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেছিলেন ২০১০ সালেই. আর তার থেকে দুই বছর আগে গাগ আদালতের প্রাক্তন তদন্ত বিষয়ে কর্মী কার্লা ডেল পন্টে বই প্রকাশ করেছিলেন: “আমি ও সামরিক অপরাধ” নামেই. তাতে ১৯৯৯ সালে ৩০০ জন কোসভা রাজ্যের সের্ব, জিপসি ও অন্য দেশের নাগরিকদের অপহরণ করার কথা লেখা হয়েছিল, তাদের মধ্যে সকলকেই জোর করে আলবানিয়া দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে তাদের শরীর থেকে প্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়া হয়েছিল. আর দেল পন্টে ও মার্টি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই সব কাজ করেছিল বর্তমানের কোসভা রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হাসিম তাচির কাছের লোকরা. এই ইতিহাসে এত উচ্চপদস্থ লোকের সংযোগই সের্বিয়ার প্রশাসনকে বাধ্য করেছে নতুন সাক্ষীর নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ করে মনোযোগ দিতে, এই কথা উল্লেখ করে সের্বিয়ার অভিশংসক দপ্তরের সামরিক অপরাধ বিভাগীয় উপ প্রধান ব্রুনো ভেকারিচ বলেছেন:

“তদন্তের ক্ষেত্রে বিপদ হতে পারে এই ধরনের কোন রকমের খুঁটিনাটি আমি জানাতে অক্ষম. কিন্তু আমি বলব যে, এটা যেন এক রকমের সিনেমার মতো গল্প, আমরা যে ভাবে এই সাক্ষীকে খুঁজে পেয়েছি, সেটা. এর প্রধান ব্যাপারটাই ছিল যে, সে নিজেই বিপদ টের পেয়েছিল, নিজের জীবন বিপন্ন হতে চলেছে, এই খবর সে টের পেয়েছে তারই কিছু প্রাক্তন সহকর্মীর দিক থেকে. এই মুহূর্তেই আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি ও এখন চলছে সত্ভাবে তার সঙ্গে সহযোগিতা”.

নতুন সাক্ষীর ব্যক্তি পরিচয় নিয়ে যতটুকু জানা রয়েছে, তা হল যে, সে “কোসভা স্বাধীনতার সেনা বাহিনীর” প্রাক্তন সৈন্য. তাছাড়া, সের্বিয়ার “সান্ধ্য দৈনিক সংবাদপত্রে” প্রকাশিত হয়েছে যে, সে প্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল প্লাস্টিক নির্মিত পুতুলের উপরে অভ্যাস করে. তারই সঙ্গে সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হয়েছে এই সাক্ষীর খুবই হতবাক করে দেওয়ার মতো জবানবন্দি. যেমন, তারই কথামতো, একটি হৃতপিণ্ড কেটে নেওয়ার অপারেশন করা হয়েছিল, যখন ব্যক্তির জ্ঞান ছিল. প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের অপরাধের বিষয়ে সমস্ত রকমের পৈশাচিক বিবরণ ও তার বিষয়ে আবার সাক্ষীর উপস্থিতি স্বত্ত্বেও সেই সমস্ত অপরাধ থেকে যেতে পারে শাস্তির উর্দ্ধে, এই রকম মনে করে “কোসভা ও মেতখি রাজ্যে নিহতদের পরিবার দের সংগঠনের” প্রতিনিধি নাতাশা শ্চেপানোভিচ বলেছেন:

“এই সবই হয়েছিল আন্তর্জাতিক সমাজের চোখের সামনেই. সেই সময়ে আলবানিয়া রাষ্ট্রে বিবিসি সংস্থার সাংবাদিকরা ছিল, বহু শত রেড ক্রসের প্রতিনিধি, ন্যাটো মিশনের সদস্যরাও ছিল. আর এটা স্বাভাবিক ভাবেই ভাবা সম্ভব নয় যে, কেউই জানতো না, কোথায় কোসভা স্বাধীনতার সেনা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অথবা হাসপাতাল বা জেল, যেখানে প্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়া অপারেশন করা হত. এই সম্বন্ধে সেখানের সমাজের সকলেই জানতো, কিন্তু কেউই কিছু করে নি. সকলেই তখন অপহরণ করে ও বন্দী করে নিয়ে যাওয়া লোকদের সম্বন্ধে কোন তথ্য দিতে অস্বীকার করেছিল. আর এখন আমরা সেই সমস্ত লোকদের কাছ থেকে আসা করবো সত্য বিবরণ ও ন্যায়ের. তাই আমরা খুবই সন্দিহান হয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি সম্পর্ক রাখি: সের্বিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত লোকরা সব সময়েই একটা শ্রেনী বিভেদের কারণে বঞ্চিত হয়েছে: আর ক্রোয়েশিয়া রাষ্ট্রের যুদ্ধের পরে যেমন তা হয়েছে, তেমনই হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা যুদ্ধের পরেও, সমস্ত বিচারের ফল হয়েছে শূন্য”.

কিছু দেশ যে, কোসভা রাজ্যের কালো প্রত্যঙ্গ ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তদন্তের বিষয়ে উত্সুক নয়, সেই বিষয়ে একমত হয়েছেন সের্বিয়ার জাতীয় সভা, যেটি প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালতের সঙ্গে সহযোগিতা করছে, তার সভাপতি রাসিম ল্যাইচ. তাঁর কথামতো, এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হতে পারে আন্তর্জাতিক সমাজের সামনে খণ্ডন অযোগ্য এমন সব প্রমাণ উপস্থিত করা. সেই ধরনের, যা এই নতুন সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে পাওয়া যাচ্ছে. এই গুলিকে ল্যাইচ ঠিক করেছেন এই আদালতের প্রধান অভিশংসক সের্ঝ ব্রাম্মের্ত্স কে দেবেন, যিনি খুব শীঘ্রই বেলগ্রাদ শহরে আসছেন. (ছবিতে: হাসিম তাচি)