“আল- কায়দা” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বিষয়ে অভিযুক্ত করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “আল- কায়দার” প্রতিনিধি অ্যাডাম গাডান আমেরিকার মুসলমানদের সাবধান করে দিয়ে বলেছে যে, “হলোকস্টের জন্য তৈরী হোন”. গত বছরে সে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী খোঁজ করা হচ্ছে এমন ১০ জন সন্ত্রাসবাদীদের একজন ছিল.

তার “আল- কায়দা” দলের নেতা আইমান আজ- জওয়াহিরির সঙ্গে একত্রে দেওয়া সাক্ষাত্কার ইন্টারনেটে ১১ই সেপ্টেম্বরের আগে ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘটা সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের বর্ষ পূর্তির আগে প্রকাশ করা হয়েছে. এই ভিডিও রেকর্ডিং এ বলা হয়েছে যে খুব শীঘ্রই নিউইয়র্ক ও লস- অ্যাঞ্জেলেসে মুসলমানদের উপরে অত্যাচার শুরু হতে চলেছে. গাডান, অংশতঃ, ঘোষণা করেছে যে, “আমেরিকার পক্ষ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্যই অনিবার্য”. “আজ মুসলমানেরা মারা যাচ্ছেন ইয়েমেনে, আর কাল তাদের মারা শুরু হবে নিউইয়র্কে ও লস অ্যাঞ্জেলেসে. হলোকস্টের জন্য তৈরী হোন”. বিশ্বে খুবই স্পষ্ট করে ইসলামের সম্প্রসারণের পটভূমিতে “আল- কায়দা” চেষ্টা করছে ইসলামের রক্ষা কর্তার ভূমিকা নিতে ও সারা বিশ্বের সমস্ত মুসলমানের হয়ে কথা বলতে. এই ব্যাপারটা খেয়াল করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন:

“বর্তমানে আল- কায়দা একটা নির্দিষ্ট পথের মোড়ে এসে পড়েছে. তারা খুবই মনোযোগ দিয়ে বিচার করে দেখছে যে, আরব বিপ্লবের ফলে কি হয়েছে. কিছু তথ্য অনুযায়ী “আল- কায়দা” আগের সমস্ত প্রশাসনের পতনের বিষয়ে সহযোগিতা করেছে, যেমন করেছে ইজিপ্টে, টিউনিশিয়াতে, ইয়েমেনে. তাদের যোদ্ধারা সিরিয়াতে লক্ষ্যের মধ্যে পড়েছে. “আল- কায়দা” এখন সেই সমস্ত নতুন শক্তি গুলির কাছ থেকে নির্দিষ্ট রকমের সুযোগ আশা করতেই পারে, যারা এখন ক্ষমতায় এসেছে, বা আসছে. অন্য দিকে “আল- কায়দা” দলের সদস্যরা ও নেতৃত্ব খুব ভাল করেই বুঝতে বাধ্য যে, তারা স্রেফ ব্যবহৃত হতেই পারে, আর নতুন ঐস্লামিক শক্তির অংশ গুলি নিজেদের রাষ্ট্র নিজেদের নীতি নিয়েই তৈরী করতে পারে, “আল- কায়দার” নীতিতে নয়”.

এর আগে “আল- কায়দা” দলের নেতার ছোট ভাই মুহাম্মেদ আজ- জওয়াহিরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের দেশ গুলিকে আহ্বান করেছিল ঐস্লামিকদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে, এই প্রস্তাব দেখানো হয়েছিল “সিএনএন” চ্যানেলে. সেখানে বলেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের দেশ গুলি ঐস্লামিক দেশ গুলির বিষয়ে কোন রকম নাক গলাবে না, আর তার বদলে ঐস্লামিক দল গুলিও পশ্চিমের স্বার্থের উপরে কোন রকমের আঘাত হানবে না.

এই সবেরই পেছনে দেখা যাচ্ছে “আল- কায়দা” দলের নিজেদের ব্যাপারে সবচেয়ে জোর গলায় বলার ইচ্ছা. বোঝাই যাচ্ছে যে, পশ্চিমের সঙ্গে কোন রকমের শান্তির বিষয়ে তারা যাবে না. বরং উল্টোটাই বেশী ঠিক. তারা আশা করেছে যে, পশ্চিম থেকে এই ধরনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা হবে ও তাদের নতুন সব সন্ত্রাসবাদী কাজ কারবারের পেছনে যুক্তি দেওয়া যাবে. আমেরিকার মুসলমানদের হলোকস্টের বিষয়ে সাবধান করে দেওয়াও তাদের একটা ধান্ধা, যেখানে তারা চাইছে যে, আমেরিকার মুসলমানরা দেশের প্রশাসনের বিরুদ্ধে যাক সেই নীতি থেকে যে, আমাদের দেখো এবারে মারা হচ্ছে.

ওবামা চেষ্টা করেছেন তাঁর প্রতি যে সব অভিযোগ করা হয়েছে, সেই বিষয়ে একটা জবাব দিতে গিয়ে, কারণ হিসাবে বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না, করছে “আল- কায়দা” নামের সন্ত্রাসবাদী দলের বিরুদ্ধে ও এই ধরনের সংগঠনের বিরুদ্ধে. কিন্তু বারাক ওবামা অর্ধ সত্য বলেছেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি খুবই পরস্পর বিরোধী, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“একদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আল- কায়দা দলের সঙ্গে আফগানিস্তানে ও ইয়েমেনে যুদ্ধ করছে. আবার অন্য দিকে তাদেরই প্রশ্রয়ে “আল- কায়দার” যোদ্ধারা আগে লিবিয়াতে আর এখন সিরিয়াতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে. “আল- কায়দার” বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে দুই রকমের মানদণ্ড একই সঙ্গে রেখেছে. যদি তাদের জন্য লাভজনক হয়, তবে তারা “আল- কায়দা” দলকে সমর্থন করছে, না হলেই, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে”.

“আল- কায়দা” দলের নেতৃত্ব নিজেদের প্রভাব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে বিচলিত, তা দেখাই যাচ্ছে. তার ফলে তাদের কাছে আর্থিক প্রবাহ কমতে পারে. এর থেকেই তারা চেষ্টা করছে বিশ্বের সমস্ত ঐস্লামিকদের সঙ্গে খেলার, সমস্ত মুসলমানদেরই “নিতে চাইছে” নিজেদের দলে, তাদের মধ্যে আমেরিকার মুসলমানরাও রয়েছে, তাদেরকেও দলের সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলছে. কিন্তু লিবিয়ার প্রাক্তন জঙ্গীদের দুটি দলের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেনগাজী শহরের কনস্যুলেটে হামলা ও ফলে রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কর্মীদের মৃত্যু সব কিছুকেই আবার জায়গা মতো বসিয়ে দিতে সক্ষম. বেনগাজী উপকণ্ঠের দুটি আধা জঙ্গী দল – খুবই ছোট লক্ষ্য. আর মার্কিন সেনেটে প্রতিনিধি কক্ষে গুপ্তচর পরিষদের প্রধান মাইক রজার্স ঘোষণা করেছেন যে, বেনগাজী শহরে মার্কিন কনস্যুলেটে হানা, সম্ভবতঃ, সেই ধরনের গোষ্ঠীর লোকদের কাজ, যাদের সঙ্গে “আল- কায়দা” দলের যোগ রয়েছে. লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ঘোষণা যে, এই আক্রমণ খুব সম্ভবতঃ নিহত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন দেশ নেতা মুহম্মর গাদ্দাফির দলের লোকদের কাজ, তা খুব সম্ভবতঃ মনোযোগ দিয়ে শোনাই হবে না. “আল- কায়দা” আবারও তাদের স্পনসরদের কাছ থেকে আর্থিক প্রবাহের আশা করতেই পারে.