নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্বের দুই বৃহত্ ক্রীড়নক হল রাশিয়া ও ন্যাটো জোট, এই ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো. মতামতে সমস্ত রকমের অমিল হলেও, তারা একে অপরের জন্য সহকর্মী ও ভারসাম্য বজায় রাখার উপযুক্ত শক্তি হিসাবেই প্রয়োজনীয়. অন্তত, রাশিয়া ছাড়া ন্যাটো জোট বদলে যেতে পারে এক বিশ্ব জোড়া পুলিশ বাহিনী হয়ে, যারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের উপরেই নিজেদের স্বার্থ চাপিয়ে দিতে পারে.

ন্যাটো জোট – সব চেয়ে পুরনো আন্তর্জাতিক সংস্থা নয়. কিন্তু অন্যান্য অনেক সংস্থার মতই, তারা আধুনিক বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে বদলানোর প্রয়োজনের বিষয়ে ধাক্কা খেয়েছে. ১৯৮০ সালে এই জোট সব সময়ে চিন্তা করত ওয়ারশ চুক্তি অন্তর্গত দেশ গুলির সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনার বিষয়ে. কোন নির্দিষ্ট বিপদ বা সিদ্ধান্ত ছিল না, কিন্তু উত্তেজনা সব সময়েই বজায় থাকত. সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পতনের পরের থেকে ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে অনেক কিছুই পাল্টে গিয়েছে, পরিস্থিতি ভাল হয়েছে, কিন্তু আগের মতই তা আদর্শের থেকে অনেক দূরে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও ন্যাটো জোটে রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি আলেকজান্ডার গ্রুশকো বলেছেন:

“আমি বলতে চাই যে, আজকের দিনে দুটি বিষয় বিশেষ অর্থবহ – একদিকে আমরা সম্মিলিত এলাকা ও ন্যাটো জোটের সঙ্গে এক হওয়ার জায়গা বার করতে বাধ্য, সেই সমস্ত বিষয়েও সহযোগিতা করতে বাধ্য, যেখানে এই সহযোগিতা একটা বাড়তি মূল্য প্রদান করে. কিন্তু একই সময়ে আমাদের উচিত্ ন্যাটো জোটের সঙ্গে একসাথে ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ের পুরু আস্তরণ খসিয়ে দেওয়া. একে অপরের বিষয়ে পূর্বানুমানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে বাধ্য, সামরিক কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগ কমানোর প্রয়োজন, যা ন্যাটোর দেশ গুলি করছে, আর সহযোগিতার আধুনিকীকরণ করাও দরকার, যে ভাবে এই সম্বন্ধে উল্লেখ করা হয়েছিল লিসবন শহরের শীর্ষ সম্মেলনে, যা ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে হয়েছিল”.

বর্তমানের সবচেয়ে বড় হোঁচট খাওয়ার পাথর – এটা ইউরোপ ব্যাপী রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রবর্তন. দীর্ঘ সময় ধরেই দুই পক্ষেরই অবস্থান বদলাচ্ছে না. রাশিয়া ঐক্যবদ্ধ ব্যবস্থা তৈরীর পক্ষে, ন্যাটো চায় নিজেদের আলাদা ব্যবস্থা তৈরী করতে, নিজেদের অধিকারেই তার কাঠামো নির্ণয়ের বিষয় রাখতে ও অন্যান্য দেশকে এই ব্যবস্থার সূচক ও মান নিয়ে বিচার করতে না দিতে, এই ঘোষণা করে আলেকজান্ডার গ্রুশকো বলেছেন:

“আমরা মনে করি যে, যে এই ব্যবস্থার কাঠামো সম্বন্ধে কোন রকমের নির্দিষ্ট বিষয় বস্তু নিয়ে আলোচনাই শুরু হওয়া দরকার এক গ্যারান্টি দিয়ে, যে তা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে করা হয় নি, যা স্ট্র্যাটেজিক ভাবে ভারসাম্য রক্ষার জন্যই করা হয়েছে. কারণ পারমানবিক ভারসাম্যই হচ্ছে বিশ্বের নিরাপত্তার গ্যারান্টি, অন্তত বিগত কয়েক দশক ধরেই. প্রসঙ্গতঃ এই গ্যারান্টি কোন কথা বলা দিয়েই দেওয়া যেতে পারে না, বরং তা থাকা উচিত্ সামরিক – রাজনৈতিক শর্ত হিসাবেই. সেনা বাহিনীর লোকরা জানেন, এখানে কি নিয়ে কথা হচ্ছে, আর তা হল – ঠিক কোন জায়গায় রকেট প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থা বসানো হবে, রেডিও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা থাকবে, প্রতিরোধের জন্য ছোঁড়া রকেটের অস্ত্র অংশের গতিবেগ কি হবে, এই ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতগুলি থাকবে. আমরা এই ধরনের কাজ করতে তৈরী. কিন্তু আবারও এই ধরনের কাজের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তৈরী থাকা প্রয়োজন ও ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে দেওয়ার দরকার আইন সম্মত গ্যারান্টি. আজকের দিনে সেই ধরনের গ্যারান্টি দিতে ন্যাটো জোট অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেউই তৈরী নয়”.

দুঃখের বিষয় হল যে, ন্যাটো জোট সেই ধরনের সংস্থা নয়, যাদের সঙ্গে স্রেফ কথা বার্তা বলেই চালানো যায়. বিগত সময়ের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে, সফল সহযোগিতার জন্য প্রয়োজন সেই ধরনের গ্যারান্টি দেওয়ার, যা রাশিয়ার পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে, তাই আলেকজান্ডার গ্রুশকো বলেছেন:

“১৯৯৯ সালে যুগোস্লাভিয়াতে বোমা বর্ষণ ও লিবিয়াতে ন্যাটো জোটের অপারেশন প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ন্যাটো জোটের এক বিশ্ব জোড়া সেই ধরনের পুলিশ বাহিনীতে পরিণত হওয়ার বিপদ, যারা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর বাইরে কাজ করে, তা রয়েছে. এই প্রশ্ন স্ট্র্যাটেজিক ভাবে সমাধান করা যায় নি. কারণ রাশিয়া ন্যাটো জোটের সঙ্গে সহযোগিতা করবে শুধু আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই, আর যখন রাশিয়া- ন্যাটো জোটের সমস্ত দেশই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রাথমিক অধিকার মেনে নেবে”.

রাশিয়া – ন্যাটো জোট কাঠামোর মধ্যে কাজ চলাকালীণ, তা বাদ দিয়ে আলেকজান্ডার গ্রুশকো উল্লেখ করেছেন, উত্তর অতলান্তিক জোটের সঙ্গে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও. বাস্তবে কোন রকমের বাধাই এই ক্ষেত্রে একমাত্র আদর্শ গত বাধা ছাড়া নেই. ন্যাটো জোট স্রেফ নিজেদের মতোই অন্য কোন সংস্থাকে মেনে নিতে চায় না. যদিও যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার ক্ষেত্রে এটা একেবারেই নিরর্থক জেদ মাত্র, কারণ দুটি সংস্থাই সার্থক ভাবে সহযোগিতা করতে সক্ষম, অন্তত আফগানিস্তানের থেকে পাচার হয়ে আসা মাদক মোকাবিলার ক্ষেত্রে.