“পশ্চিমের সহকর্মী দেশ গুলি সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ডকে নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করতে শুরু করেছে”, - এই রকমের ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান এশিয়াতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভরসা যোগ্যতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংগঠনের মন্ত্রী পর্যায়ের সাক্ষাত্কার সভার নেপথ্যে. লাভরভের কথামতো, সিরিয়াতে সদ্য ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসবাদী হানার সমালোচনা করতে না চাওয়া, বলে দিচ্ছে যে, পশ্চিম ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বহু সদস্য দেশ তাদের অবস্থান নীতিগত ভাবেই পরিবর্তন করেছে. সিরিয়ার সঙ্কট ছাড়া কাজাখস্থানের আস্তানা শহরে আলোচনা হয়েছে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে, আর তারই সঙ্গে বিশ্বের মঞ্চে এশিয়া অঞ্চলের ভূমিকা বৃদ্ধি নিয়ে.

আস্তানা শহরে বর্তমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের সাক্ষাত্কার এই সম্মেলনের বিংশতিতম জয়ন্তী বর্ষে করা হচ্ছে. বহু পাক্ষিক সহযোগিতা সংগঠন সৃষ্টি করা হয়েছিল এশিয়া মহাদেশে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য. এই সকল ঘোষিত কর্মসূচীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ও বিভিন্ন মতবাদের প্রসার. এই সংগঠনের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে - ২৪টি দেশ রয়েছে, তার মধ্যে আছে রাশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান, ভারতবর্ষ, পাকিস্তান, চিন, মঙ্গোলিয়া, ইজিপ্ট, তুরস্ক ইত্যাদি দেশ. পর্যবেক্ষকদের মধ্যে রয়েছে সেই সমস্ত দেশ যেমন, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, লেবানন, ভিয়েতনাম. আর তারই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থা, যেমন রাষ্ট্রসঙ্ঘ, আরব লীগ, ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ. আজকের অধিবেশনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, “আঞ্চলিক কাঠামো গুলির মধ্যে এই সংগঠন খুবই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এক প্রয়োজনীয় মঞ্চ হিসাবে নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছে ও এই মঞ্চ আধুনিক এশিয়ার রূপকার হতে পেরেছে”. লাভরভের কথামতো, এই এলাকা আধুনিক বহু কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিয়েছে.

কিন্তু মন্ত্রীর বক্তৃতার অধিকাংশই ছিল এই সংগঠনের সাফল্যের পরিসংখ্যান নিয়ে করা নয়, বরং এলাকার সমস্যার বিবরণ নিয়ে. তার মধ্যে প্রধান – সিরিয়াতে চলতে থাকা পারস্পরিক বিরোধ. সের্গেই লাভরভ সিরিয়াতে সন্ত্রাসবাদী হানাকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশ গুলির পক্ষ থেকে নিন্দা না করতে চাওয়ার বিষয়ে কড়া সমালোচনা করে বলেছেন:

“আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি অবিচল অবস্থান ছিল যে, সন্ত্রাস গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, তা যে কারণ দিয়েই নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা হোক না কেন. আলেপ্পো শহরের শেষ ঘটনা গুলি সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল সেখানে ২৭ জন নিহত হয়েছেন. আমাদের পশ্চিমের সহকর্মীরা প্রথমে সময় নিয়েছিলেন ও পরে একেবারেই এই সন্ত্রাসবাদী কাজের নিন্দা করা থেকে বিরত হয়েছেন, যা আমাদের ধারণা করতে বাধ্য করে যে, এবারে অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে. এখন, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, এই অবস্থান রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্য নির্ভর ভাবে করা হয়ে থাকে, আমাদের পশ্চিমের সহকর্মী দেশ গুলির পক্ষ থেকে বলতে চাওয়া হয়েছে যে, তাদের জন্য এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড চলতেই পারে. আমি খুশী হব, যদি আমার এই সন্দেহ মিথ্যা প্রমাণিত হয়. কিন্তু আপাততঃ আমার এই সন্দেহ বজায় রাখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই”.

মন্ত্রী পর্যায়ের সাক্ষাত্কারের সময়েই সের্গেই লাভরভ আবার করে সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য বিদেশী হস্তক্ষেপ থেকে নিরত হওয়া প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বলেছেন. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, বহু বাইরের শক্তি চেষ্টা করছে সিরিয়ার সঙ্কটকে ব্যবহার করে সমগ্র নিকট প্রাচ্যেই এক বিরোধের সৃষ্টি করতে, তাই তিনি আরও যোগ করেছেন:

“সিরিয়ার সঙ্কট - নিকট ও মধ্য প্রাচ্যের বহু নাটকীয় ঘটনার পরম্পরার অংশ মাত্র, যা নেতিবাচক ভাবেই বহু দেশের স্থিতিশীলতার উপরে প্রভাব ফেলেছে. এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে সেই বাস্তব যে, এই পটভূমিতে প্যালেস্তিনীয় সমস্যার সমাধান থেকে আরও বেশী করে সক্রিয় কর্মসূচী কম হচ্ছে. আমরা বিশ্বাস করি যে, আরব লীগের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য “চার পক্ষের” আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা পরিষদের সদস্যদের উচিত হবে এই আরব বসন্তকে সেই কারণে ব্যবহার করতে না দেওয়া, যাতে প্যালেস্তিনীয় রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে আলোচনা ভিতর থেকেই চলতে বাধা দেওয়া হয়”.

একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হল নিকট প্রাচ্যে সেই ধরনের এলাকা তৈরী করা, যা গণহত্যা অস্ত্র থেকে মুক্ত. সের্গেই লাভরভের কথামতো, এই দিকে কাজ – তার মধ্যে সম্মেলনের আহ্বান – শুরু হওয়া উচিত্ ২০১২ সালের শেষ হওয়ার আগেই. এই আলোচ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যাও. সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে রাশিয়া এই সমস্ত সমস্যায় আলোচনা ছাড়া অন্য কোনও পথ উন্নতির জন্য দেখতে পাচ্ছে না. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান কিছুদিন আগে প্রকাশিত সেই খবরকে অস্বীকার করেছেন যে, পশ্চিমের চাপে পড়ে মস্কো ও বেজিং ইরান সম্পর্কে অবস্থান আরও কড়া করেছে.

এশিয়া অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিয়ে সব মিলিয়ে বলতে গিয়ে সের্গেই লাভরভ বিশেষ করে রাশিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন. এখানে কথা হচ্ছে নিরাপত্তা বিষয়ে স্ট্র্যাটেজিক পদক্ষেপ নেওয়ার, যা মস্কো ও বেজিংয়ের পক্ষ থেকে সম্মিলিত ভাবে প্রস্তাব করা হয়েছিল. তথাকথিত, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সমানাধিকার বিশিষ্ট নিরাপত্তা কাঠামো গঠন. এই ধারণার সমর্থনে আজকের সম্মেলনেও অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন – বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী. এই এলাকার অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল এই বিষয়ে বিচার করা উচিত্ হবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল নিয়ে, বলেছেন মন্ত্রী.