রাশিয়ার বাশকর্তোস্তান রাজ্য (বাশকিরিয়া) গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বইতে দুধের জন্য জায়গা পেয়েছে. সারা রাশিয়া জোড়া দুধের দেশ উত্সব, যেটি এই রাজ্যের রাজধানী উফা শহরে হয়েছে, তাতে এই উত্সবের অতিথিরা সকলে মিলে ৭ হাজার লিটার দুধ পান করেছেন.

এই উত্সবের শুরু হয়েছিল দুধের ফোয়ারা দিয়ে. আর তার পরেই বেশীর ভাগ উত্সবে আসা অতিথিরা রেকর্ড করতে শুরু করেছিলেন. তাঁরা চেষ্টা করছিলেন, কত বেশী ২০০ গ্রামের দুধের প্যাকেটের সংখ্যা কমানো যায়, পান করে. খালি কাগজের প্যাকেট গুলিও কাজে লেগেছিল. তা দিয়ে তৈরী করা হয়েছিল একটি বিশাল গোরুর মূর্তি – এই উত্সবের প্রধান বীরাঙ্গনার মূর্তি. সব মিলিয়ে এই উত্সবে পান করা হয়েছে ৩৫ হাজারেরও বেশী দুধের প্যাকেট. এই হিসাব রাশিয়ার জাতীয় দুগ্ধ উত্পাদক সংগঠনের সভাপতি আন্দ্রেই দানিলেঙ্কো উল্লেখ করে বলেছেন:

“অবশ্যই এটা ভাল যে, একটা রেকর্ড হয়েছে. কিন্তু আসলে এখানে মূল বিষয় হল যে, রাশিয়াতে জনপ্রতি দুধ ব্যবহারের পরিমান খুবই কম. চিকিত্সা শাস্ত্র অনুযায়ী বছরে জনপ্রতি হওয়ার কথা ৩৬০ কিলোগ্রাম. এই তো ২০- ৩০ বছর আগেও আমরা বছরে জনপ্রতি ৩৯০ কিলোগ্রাম দুধ ব্যবহার করতাম আর এখন তা কমে হয়েছে মাত্র – ২৩০ কিলোগ্রাম. এমন সব এলাকা রয়েছে, যেখানে এর থেকেও দুই ভাগ কম ব্যবহার হয়. তাই আমাদের মূল কাজ হল এই উত্সবের মাধ্যমে – দেশের লোককে সুস্বাস্থ্য অর্জনের উপযুক্ত প্রকৃতি থেকে উত্পন্ন পানীয় ব্যবহারে উত্সাহ দেওয়া”.

উফা শহরের উত্সবে দুধ শুধু স্বাভাবিকই ছিল, কোন রকম গুঁড়ো দুধ জলে গোলা নয়. আর কোথা থেকে মানুষের জন্য ভাল এই পানীয় আসে, তা দেখানো হয়েছিল গরু, ভেড়া, ছাগল ও ঘোড়া. সেখানে এমনকি এই সব জন্তু দের দুধ দোয়ান দেখানো হয়েছিল.

এই উত্সবের অতিথিরা খুবই সন্তুষ্ট হয়ে দুগ্ধ কারখানা দেখেছেন, এমনকি সুস্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য সৃষ্টিকারী দুধের সেলুন ও ক্যাফে দেখেছেন. এই উত্সবে দুধ ছাড়া চীজ, আইসক্রীম, দই ও আরও অনেক রকমের দুধ থেকে তৈরী খাওয়ার ও ব্যবহারের জিনিষ আনা হয়েছিল.

শিশুদের জন্য এক ১৭ মিটার উঁচু জাহাজের মতো দেখতে লাফালাফি করার জায়গা তৈরী করে দেওয়া হয়েছিল, যা সত্যিকারের দুধের নদীতে ভেসে বেড়িয়েছিল. আর যারা তাদের থেকে বয়সে বড়, তাদের জন্য স্পেনের মতোই এখানেও ষাঁড়ের শিং ধরে বশ করার প্রতিযোগিতা আর দুধ দোয়ান প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছিল.

দুধের উত্সব এই শহরে এই বারে দ্বিতীয় বার পালন করা হয়েছে, হেমন্তের শুরুতে. গত বছরেও এই উত্সবে ছয় হাজার লিটার দুধ পান করার জন্য গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা পাওয়া হয়েছিল. উফা শহর রাশিয়ার দুধের রাজধানী হতে চাইছে. কিন্তু এই উত্সব অন্য শহর গুলিরও আগ্রহের কারণ হয়েছে. একই ধরনের দুগ্ধ উত্সব পালনের কথা হয়েছে সাইবেরিয়ার তোমস্ক শহরেও.