ওয়াশিংটন ঠিক করেছে সক্রিয়ভাবে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সাহায্য করবে ও তাদের সাথেই কাজ করবে, তার মধ্যে আবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এড়িয়ে. এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করেছেন পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন.

কয়েক মাস আগেই রাষ্ট্রসঙ্ঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি স্যুজান রাইস, যখন রাশিয়া ও চিন আরও একবার সিরিয়া সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত পাশ হওয়ার বিষয়ে ভেটো দিয়েছিল, তখন একই ধরনের ঘোষণা করে বক্তৃতা দিয়েছিলেন.

রেডিও রাশিয়া আমেরিকার কূটনীতিবিদদের কথা নিয়ে মন্তব্য করতে অনুরোধ করেছিল দামাস্কাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ বাস্সাম আবু আবদুল্লাকে, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“বাস্তবে এই সমস্ত ঘোষণায় নতুন কিছুই নেই. সমর্থন, যা ওয়াশিংটন সিরিয়াতে বিরোধী পক্ষকে করে চলেছে, তা দেখা যাচ্ছিল একেবারে বিরোধের শুরু থেকেই. আমেরিকার লোকরা সমস্ত রকম ভাবেই বাধা দিয়েছিল বিরোধী পক্ষদের আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে. তার ওপরে আবার তারা বিরোধী পক্ষকে স্পনসর করছে, যা সিরিয়াতে বিরোধ বৃদ্ধি ও অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতেই সহায়তা করছে”.

তা স্বত্ত্বেও, পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে, বিগত সপ্তাহ গুলিতে আমেরিকার সরকারি মুখপাত্রদের তরফ থেকে আসাদ বিরোধী ঘোষণা উল্লেখযোগ্য ভাবেই কমে গিয়েছে. আর এটাও ঠিক যে, ঘোষণার বাক্য বিন্যাসও কূটনীতির নিয়ম অনুযায়ী কাছাকাছি হতে শুরু করেছে, যে সব ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে হিলারি ক্লিন্টন নিজেই এক সময়ে খুব একটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে লজ্জা পান নি, তার চেয়ে. আর যদিও আসাদের হঠে যাওয়া উচিত্, এই ঘোষণা এখনও শুনতে পাওয়া যাচ্ছে, তা কিন্তু বেশী করেই দেখাচ্ছে যেন, বলতে হয় তাই বলা, হিসাবে,- এই রকমই মনে করেছেন বাস্সাম আবু আবদুল্লা, তিনি যোগ করে বলেছেন:

“এক দিক থেকে ওয়াশিংটন বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে গ্রহণযোগ্য কোন ব্যক্তিত্বকে প্রস্তাব করতে পারে নি, যিনি বর্তমানের সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির বদলে আসতে পারেন. অন্য দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই ভাল করে বুঝতে পেরেছে যে, দেশের জনগনের পক্ষ থেকে বাশার আসাদের জন্য রয়েছে যথেষ্ট রকমের সমর্থন. আর ঠিক এই কারণেই, এই সমর্থনের জন্যই আমেরিকার পক্ষে এখনও বর্তমানের সরকারকে পদচ্যুত করা সম্ভব হয় নি. বাস্তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি বিষয়ের সম্মুখীণ হয়েছে: আসাদকে শক্তি প্রয়োগ করে হঠানোর সম্ভাবনা না থাকায় ও সেই রকমের কোন ব্যক্তিত্বের উদয় না হওয়াতে, যিনি নিজের হাতে সমস্ত ক্ষমতা নিতে পারেন, তাই ওয়াশিংটন বাধ্য হয়েছে বর্তমানের সিরিয়ার রাষ্ট্রপতিকে এমন এক ব্যক্তি হিসাবে স্বীকার করতে, যার সঙ্গে কাজ করতেই হবে”.

প্রসঙ্গতঃ, এখানে খুবই বোকামি হবে মনে করলে যে, আমেরিকার লোকরা এত সহজে নিজেদের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যাবে. আর এখানে শুধু অসাফল্যের বাস্তবই সব নয়, যত না ওয়াশিংটনের সম্মান হানীর ভয় রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে, যারা নিজেরাই নিজেদের মনে করে থাকে সোভিয়েত দেশ পতনের পরে বিশ্বের একমাত্র এক মেরু বিশিষ্ট কেন্দ্র হিসাবে ও তা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে স্বীকৃতী আদায়ের সম্ভাবনা, রাশিয়ার ও চিনের রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে অবস্থানের সামনে ধাক্কা খেয়েছে, তাই অনেককেই ভাবতে বাধ্য করেছে: সত্যই কি বিশ্ব এত এক মেরু বিশিষ্ট.

অন্য দিক থেকে, সেই পরিস্থিতির নাম, যা এখন আমেরিকার লোকদের সামনে রয়েছে, তা কানাগলি বলাটা একেবারেই ঠিক হবে না. আপাততঃ, সমস্ত কিছু মোটেও তাদের স্বার্থ অনুযায়ী হচ্ছে না, কিন্তু এই অবস্থা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বের হয়ে যেতে পারে, নিজেদের সম্মান বজায় রেখেই. এর জন্য শুধু দরকার সিরিয়া সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের প্রাক্তন বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নানের পরিকল্পনা মেনে চলা ও সঙ্কট নিয়ন্ত্রণে জেনেভা সম্মেলনের চুক্তি পালন করা, - এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ ভিয়াচেস্লাভ মাতুজভ বলেছেন:

“রাশিয়া আমেরিকার লোকদের যেন হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, যাতে তারা এই কঠিন অবস্থা থেকে বের হতে পারে, যেখানে তারা উপনীত হয়েছে সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসনকে সামরিক উপায়ে উত্খাত করার জন্য খুবই জোর দিয়ে চেষ্টা করে. বাস্তব যে রকম দেখিয়ে দিয়েছে, এই পথ উপযুক্ত নয়. এই পথের শেষে আমেরিকার লোকরা টের পেয়েছে যে, সিরিয়ার সঙ্কট সমাধানে সামরিক সমাধান ত্যাগ করা প্রয়োজন. আর তাই রাশিয়ার নেতৃত্বের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব করা হয়েছে আলোচনার টেবিলে বসে রাজনৈতিক মাধ্যমে সিরিয়ার সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ বের করা, তা আজ অনেকটাই বাস্তব”.

বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, কোফি আন্নান, তাঁর বিশেষ প্রতিনিধির পদ ত্যাগ করতে গিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতি বিদায়ী বক্তৃতায় বলেছিলেন যে, সিরিয়ার সঙ্কটের সমাধান লুকিয়ে রয়েছে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তির উপরেই. আর এখানে প্রধান প্রশ্ন: ওয়াশিংটন মস্কোর সঙ্গে চুক্তি করতে কি তৈরী আছে?