কয়েকদিন আগে মস্কোর দামাদিয়েদোভা বিমানবন্দরে ল্যান্ডিং করেছে একটি বিমান ‘নেকড়ে-মানুষ’দের নিয়ে. এই কদাচিত ভয়ঙ্কর রোগের লোকে নামকরন করে – হাইপারট্রাইখোজিম. এই ডায়াগনোসিস অন্যদের কাছ থেকে লুকানো সম্ভব নয়. ঐ সব মানুষের সারা শরীর লোমে ঢাকা, এমনকি মুখও. রাউত বোনেরা, যারা মস্কোয় পৌঁছেছে মহারাষ্ট্রের ছোট্ট শহর সাঙ্গলি থেকে রাশিয়ার ডাক্তারদের আমন্ত্রণে, বাচ্চাবয়স থেকেই সবার মনোযোগ আকর্ষন করে, ও এইজন্য তারা মানসিক কষ্ট পায়. বোন তিনটির মা তার স্বামীকে প্রথম স্বচক্ষে দেখেছিল বিয়ের আসরে. ১২-বছর বয়সী অনাথ বালিকার পছন্দ করার কোনো সুযোগ ছিল না. উপরন্তু স্বামীর ঠাকুর্দা, ঠাকুমা ও মা-বাবা ছিলেন সম্পুর্ণ সুস্থ, ও অনিতা আশা করেছিল, যে বাচ্চাদের মধ্যে তথাকথিত ‘নেকড়ে-মানুষ’ রোগ সংক্রামিত হবে না. পরিবারে ৩টে সুস্হ শিশুর জন্ম হয়েছে আর ৩টে শিশু জন্মেছে ঐ ভয়ঙ্কর রোগ নিয়ে.

মস্কোয় এসেছিল সবিতা, মনীষা ও সাবিত্রী তাদের মায়ের সাথে ও সমাজকর্মী মনসুর চেতলার সাথে, যিনি দরিদ্র মেয়েগুলির সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন সাংবাদিকদের কাছ থেকে. মেয়েগুলি নিয়মিত যা হাতে পাওয়া যায়, তা দিয়ে রোগের প্রতিকার করতো – নিয়মিত দাড়ি কামাতো, লোম মোম দিয়ে তুলতো, হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা করতো. কিন্তু এই সবকিছুই সাময়িক প্রতিকার দেয়. কিছুদিন পরেই আবার লোম গজাতে শুরু করে. কোনো কোনো ‘নেকড়ে-মানুষের’ সার্কাসে ও শো-বিজনেসে অসাধারন কেরিয়ার গড়ে ওঠে. কিন্তু ঐ মেয়েগুলি চায় সাধারন মানবিক সুখ, চায় বিয়ে করতে, সন্তানদের জন্ম দিতে ও আকর্ষনীয় কাজ পেতে.

অস্বাভাবিক মুখচোখের জন্যে প্রতিবেশীরা হাসাহাসি করে, তাদের সমবয়সীরা স্কুলে তাদের সাথে মিশতে চায় না. পরিবার সমস্ত অবসর সময় কাটায় বাড়ির মধ্যে টিভি দেখে. সম্প্রতি ওদের পরিবারে সুখকর ঘটনা ঘটেছে – বড়মেয়ে সাবিত্রীর বিয়ে হয়েছে. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে অনিতা রাউত বলেছেন, যে তার মেয়ের শ্বশুর-শ্বাশুড়ির কাছ থেকে কিছুই গোপন করা হয়নি. বর বলেছে, যে মুখ ধুয়ে তো জল খাব না, একমাত্র যেন ভালো পরিবার কর্তৃ হয়. বিয়ের সময়ের ফোটোয় যুবতী সাবিত্রীর মেয়েলি মুখ পরিষ্কার, কিন্তু কয়েকদিন পরেই তার মুখে আবার গোঁফদাড়ি গজিয়ে উঠলো.

রাউত বোনদের নমুনা পৃথিবীতে কদাচিত দেখা যায়. এখনো পর্যন্ত ইতিহাসে এমন উদাহরণ তিনশোর কাছাকাছি. এই মুহুর্তে পৃথিবীতে ৫৪ জন এই রোগে আক্রান্ত. যেহেতু রোগীরা ডাক্তারের কাছে যেতে সংকোচ বোধ করে, তাই ধরা হয়, যে এ রোগ সারানো সম্ভব নয়. লোম নিকেশ করার কোনো ওষুধপত্রও নেই কোনোদেশে.

মনসুর চেতলা আমাদের সংবাদদাতাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, যে জেনেটিক গবেষণার পেছনে খরচ করার সামর্থ্য পরিবারের নেই, তাই পৃষ্টপেষকদের খুঁজতে হয়েছে. তিনি জার্মানী, আমেরিকা ও রাশিয়ার বহু ক্লিনিকের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন. প্রথম সাড়া দিয়েছিল মস্কোর এসথেটিক মেডিসিন ক্লিনিক, যেখানে ঐ মেয়েদের জেনেটিক গবেষণা পুরোমাত্রায় করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে রোগের কারণ নির্ণয় করা যায়. সবচেয়ে মুখ্য কথা হল এই, যে নির্ণয় করা গেছে, যে ঐ মেয়েগুলির হরমোনের কোনো ত্রুটি নেই. হাইপারট্রাইখোজিমের কারণ লুকিয়ে আছে জেনেটিক মিউটেশনে. তার মানে মেয়েগুলি স্বাস্থবান সন্তানদের জন্ম দিতে সক্ষম, আর শরীরের লোম আধুনিক লেজার এপিলেপ্সি ও ফোটো এপিলেপ্সির মাধ্যমে নিকেশ করা সম্ভব. চিকিত্সাকারী ডাক্তার নাতালিয়া গাইদাশ বলছেন, যে ঐ মেয়েরা কষ্টকর লেজার এপিলেপ্সি অম্লানবদনে সহ্য করেছে.

সমস্যাটা জেনেটিক, কোনো চর্মরোগ বা এন্ডোক্রিনের রোগ নয়. এই সমস্যা অবশ্যই ওদের স্বাভাবিকভাবে সমাজে বেঁচে থাকতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে. দুর্ভাগ্যক্রমে, আজকের দিনে জেনেটিক সায়েন্স এত উন্নত নয়, যাতে মানুষের জেনেটিক কোড নির্ণয় করা যায়.

মস্কোর ডাক্তাররা ইতিমধ্যেই প্রাথমিক চিকিত্সা করেছেন ও মেয়েগুলি সুন্দর হাসিখুশি মুখে প্রকাশ্যে বেরিয়েছিল. বিদায়কালে ঐ মেয়েরা ডাক্তারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যে ভারতেও ঐ ওষুধ ব্যবহার করবে, ভারতে ঐ ওষুধ পাওয়া যায়. সুতরাং ঐ মেয়েগুলির চিকিত্সা হবে কসমেটিক্সের মাধ্যমে, যেমন তাদের ধারনা ছিল, সেরকম কোনো বেদনাদায়ক পদ্ধতির মাধ্যমে নয়. মস্কোর ক্লিনিকে গবেষণার পরেই সেটা নির্দ্ধারিত হয়েছে.

‘রেডিও রাশিয়া’র ভারতীয় সম্প্রচার বিভাগ আন্তরিকভাবে সাবিত্রী, মনীষা ও সবিতার আরোগ্যলাভ কামনা করছে ও তাদের সাহসিকতার তারিফ করছে.