ইয়াকুতিয়া থেকে যাই নেওয়া হোক না কেন –তা "সবচেয়ে" এই শব্দটা ব্যবহার না করে করা যায় না. আয়তন, খনিজ সম্পদ, আবহাওয়া, পরিবেশের সৌন্দর্য – সবই এখানে রেকর্ড পরিমানে. এই বছরের গরমের শেষে এই রাজ্য আরও একটি বিরল ব্র্যান্ডের অধিকারী হয়েছে – সাফল্যের সঙ্গে ইতিহাসে প্রথমবার "ইয়াকুতিয়া রাজ্যে হীরক সপ্তাহ" পালন করেছে.

ইয়াকুতিয়া – রাশিয়ার সবচেয়ে বড় রাজ্য. তার আয়তনই চমকে দেওয়ার মত – তিনটি টাইম ব্যান্ড জুড়ে এই রাজ্য. দেশের এক পঞ্চমাংশ জুড়ে এই রাজ্য, তার আয়তন তিরিশ লক্ষ স্কোয়ার কিলোমিটারের চেয়ে বেশী. এটা ফ্রান্সের চেয়ে ছয় গুণ বড়, গ্রেট ব্রিটেনের চেয়ে ১৩ গুণ বড়, এটা সমগ্র ইউরোপের আয়তনের দুয়ের তিন ভাগ জুড়ে.

ইয়াকুতিয়া – বিশ্বের জন বসতি অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে ঠাণ্ডা এলাকা, প্রায় অর্ধেক এই রাজ্যের এলাকা পড়েছে সুমেরু বৃত্তের অপর পারে. এখানের ওইমিয়াকন জনপদে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী ঠাণ্ডার রেকর্ডও হয়েছিল, মাইনাস ৭১, ২ সেন্টিগ্রেড, আবার তারই মধ্যে এই রাজ্যে গ্রীষ্মকালে গরম হয়ে থাকে চল্লিশ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি. সারা বছরে ঠাণ্ডা ও গরমের সময়ের মধ্যে তাপমাত্রার ব্যবধান একশ ডিগ্রীর বেশী, এটাও একটা রেকর্ড.

গরম কালে বিমান থেকে ইয়াকুতিয়া রাজ্যের প্রকৃতি – এক অবিশ্বাস্য রকমের তাইগা অঞ্চলের সবুজ ও স্বচ্ছ সুনীল জল রাশির মেল বন্ধন. এই রাজ্যে প্রায় দশ লক্ষ হ্রদ ও নদী রয়েছে – এটা প্রতি নাগরিকের জন্য একটি জলের উত্স, এই রকমের ব্যাপার! এখানে জল শুধুই হিমবাহ থেকে গলে পড়া জলের মতো স্বচ্ছ ও পরিস্কার নয়, তা আবার স্থল ভূমির চেয়ে অনেক বেশী প্রাণীর বাসস্থানও. এখানের সমস্ত বিরল স্বাদের মাছের ধরণ বহু সময় ধরেই বর্ণনা করা যেতে পারে, আর তার স্বাদ অন্যকে বুঝিয়ে দেওয়া – এক কথায় সম্ভব নয়.

আজকের দিনে ইয়াকুতিয়া রাজ্য এক গতিময়, ব্যবসায়িক ভাবে আগ্রাসী ও আচ্ছন্ন করে দেওয়ার মতো শক্তিমান রাজ্য. এখানে – এই নিন চিরন্তন হিমের সাম্রাজ্য! – রাশিয়ার সবচেয়ে বেশী সংখ্যক শিশুর জন্ম এখানেই হয়ে থাকে. যদি ধারণার জন্ম নিয়ে কোন রেকর্ড খোঁজা হত, তবে এই ব্যাপারেও ইয়াকুতিয়া এগিয়ে. বিশেষ করে পর্যটনের ক্ষেত্রে, যা উন্নতি করার জন্য এখানে প্রায় প্রত্যেকেই মনে হয় আগ্রহী, সরকারি কর্মচারী থেকে ট্যাক্সি চালক অবধি সবাই. এটা সাখা (ইয়াকুতিয়া) রাজ্যের প্রেসিডেন্ট ইগর বরিসভের প্রিয় কথা বলার বিষয়, তিনি বলেছেন:

“সাখা রাজ্য (ইয়াকুতিয়া) পর্যটকদের জন্য বড় ধরনের আগ্রহের বিষয়. বিশ্বের উদ্ভবের সমস্ত রহস্য, ইতিহাস, সমগ্র হিম যুগ, সমস্ত নৃতাত্ত্বিক বিষয় একেবারে চোখের সামনে দেখা যায় ইয়াকুতিয়া রাজ্যে. তাইতো এই কিছুদিন আগেই এই বিশ্ব বিখ্যাত লেনা নদীর অববাহিকায় লেনা নামের প্রাকৃতিক স্তম্ভ সমূহকে ইউনেস্কো সংস্থা বিশ্ব মানের স্মৃতি সৌধের আখ্যা দিয়েছে”.

বর্তমানের ইয়াকুতিয়া রাজ্যে সব বয়সের, মানসিকতার ও রোজগারের ট্যুরিস্টদের জন্য কি আগ্রহের বিষয়ের কথাই না ভাবা বাকি রাখা হয়েছে! লেনা নদী, যার সমস্ত রূপকথার মতো সুন্দর তীর ও প্রবাহ ধরে চলা চিরন্তন আরামের স্টীমার ক্রুইজ থেকে শুরু করে, যেখানে এক পার থেকে অন্য পারের গড় দূরত্ব এমনিতেই ১৫ কিলোমিটার ও অববাহিকাতে ২৫ কিলোমিটার, একেবারে চরম সমস্যা সঙ্কুল ট্যুর পর্যন্ত. এখানে পরিবহন ব্যবস্থা বল্গা হরিণে টানা স্লেজ গাড়ী থেকে হোভারক্র্যাফ্টের মতো স্লেজ পর্যন্ত ও তারই মধ্যে রয়েছে ভেলা থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার পর্যন্ত. এখানে মাছ ধরা ও শিকারের বিষয়ে সাফল্য হতে বাধ্য.

স্থানীয় ধর্ম বিশ্বাস ও সংস্কার – পর্যটন কোম্পানীদের জন্য স্বর্গের সঙ্গে তুলনীয়. ইয়াকুতিয়া রাজ্যে দুই বার নববর্ষ পালন করা হয়ে থাকে. গরম কালে পালন করা হয়ে থাকে গরমের সব চেয়ে দীর্ঘ সৌর অবস্থানের দিন, আর গত বছরে ২২শে জুন গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধিরা এখানে একটি রেকর্ড নথিবদ্ধ করেছিলেন, যখন তথাকথিত “ওসুহাই” অথবা “জীবনের বৃত্ত” নামের এক উত্সবের কোরাস নৃত্য গীতের সময়ে হাতে হাত ধরে গোল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ১৫ হাজার ২৯৩ জন লোক. তাদের মধ্যে অনেক লোকই অবশ্য ছিলেন ট্যুরিস্ট, যারা এখানে এসেছিলেন.

শীতের নববর্ষ এর থেকে খারাপ করে মোটেও পালন করা হয় না. ইয়াকুতিয়া রাজ্যের প্রান্তে রয়েছে “চিরন্তন হিম রাজ্যের রাজধানী”, এক অতিকায় গুহা, যেখানে বহু হিম ভবন রয়েছে, যার ভিতরে সাজানো রয়েছে বরফের আসবাব পত্র ও স্থাপত্য দিয়ে. নববর্ষের দিনে এখানে ইয়াকুতিয়া রাজ্যের পুরাণে বর্ণিত হিম সম্রাট চীস খানের বাস ভবন তৈরী করা হয়.

এই রাজ্যের পর্যটন ও ব্যবসা মন্ত্রণালয়ের অধুনা গৃহীত ধারণা হল “ইয়াকুতিয়া রাজ্যে হীরক সপ্তাহ” পালন, সেটাও এই ধরনের উত্সবের মধ্যেই পড়ে. এটা শুধুই নৃতাত্ত্বিক বা পরিবেশ সংরক্ষণের ট্যুর নয়, ব্যবসার ট্যুরও বটে. এরই মধ্যে "মিরনী"' নামের হীরের খনিতে ঘুরে আসা পড়ে, যেখান থেকে বিশ্বের শতকরা ২৫ ভাগ হীরে উত্পাদন করা হয়, এখানেই দেখানো হয় হীরে কাটা, পালিশ করা ও অলঙ্কার তৈরীর কারখানা, হীরের অকশন, শেষে থাকে হীরের প্রদর্শনী ও ক্রয় বিক্রয়ের উত্সব ও একটি বল নাচের আসর. প্রথম বারেই এই উত্সবের সাফল্যকে ইয়াকুতিয়া রাজ্যে মনে করা হয়েছে এই প্রকল্পের দীর্ঘস্থায়ী হওয়া ও সম্ভাবনাময় হওয়ার জন্য উপযুক্ত সম্পদ বলেই.