“আল কায়দা” পশ্চিমের দেশ গুলিকে একটা লেনদেন করার প্রস্তাব করেছে. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংস্থা আল কায়দার নেতা আইমান আজ-জওয়াহিরি এর ভাই মুহাম্মেদ পশ্চিমের দেশ গুলিকে প্রস্তাব করেছে, অংশতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে, যে ঐস্লামিকদের সঙ্গে একটা শান্তি চুক্তি করতে. পরিবর্তে তারা তৈরী রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের দেশ গুলির স্বার্থ বিরুদ্ধ আক্রমণ বন্ধ করতে.

মুহাম্মেদ আজ-জওয়াহিরি ঘোষণা করেছে যে, সে তার ভাইয়ের উপরে যথেষ্ট প্রভাব রাখে ও বিশ্বাস করে যে, “আল কায়দা” দলের নেতা তার কথা শুনবে. এই প্রসঙ্গে সে আরও বলেছে যে, তারা এই নিয়ে ১০ বছর ধরে একে অপরের সঙ্গে কথা বলে না.

বিশেষজ্ঞদের এখানে সন্দিহান করেছে দুই ভাইয়ের মধ্যে টানটান সম্পর্ক নয়, বরং প্রাথমিক ভাবে “আল কায়দা” দলকে ঐস্লামিক চরমপন্থী আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় দল বানানোর প্রচেষ্টা, আর এই সব ঐস্লামিকদের বহু মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের একটি শক্তি বানানোর চেষ্টা, এই কথা উল্লেখ করে সেন্ট পিটার্সবার্গের আধুনিক নিকটপ্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক গুমের ইসায়েভ বলেছেন:

““আল- কায়দা” মোটেও ঐস্লামিক শক্তির কোন নেতৃস্থানীয় দল নয়. সারা বিশ্ব জুড়ে কোনও একক ঐস্লামিক গোষ্ঠীই নেই. এটা বিশ্বের বিভিন্ন এলাকা ও দেশে বিভিন্ন ধর্মীয়- রাজনৈতিক দল. তাদের প্রত্যেকের নিজেদের লক্ষ্য ও কাজ রয়েছে. যদি কোন কিছু সকলের জন্য এক থাকে, তবে এটা সন্দেহ নেই যে, রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বিভিন্ন চরম মতবাদের প্রয়োগে. তাই স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, এটা নিজেদের মত প্রচারের জন্য খুবই জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা মাত্র. এই ধরনের ঘোষণার ঢঙ, খুবই মনে করিয়ে দেয় প্ররোচনা দেওয়াকেই. তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, পশ্চিমের বিশ্ব রয়েছে, ঐস্লামিক সংগঠন আছে আর আছে কোন এক সংগঠনের নেতার এক ভাই, যে একটা কল্পিত গঠনের সহযোগিতার কথা প্রস্তাব করছে, যেন কোন শর্ত সাপেক্ষ শান্তির ব্যবস্থা. এটা স্রেফ আরও একটি সংবাদ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া ফাঁকা আওয়াজ মাত্র”.

আর এই প্ররোচনা দেখা যাচ্ছে যে, রয়েছে, অংশতঃ, সেই বিষয়ে, যে পশ্চিম, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, “আল কায়দা” দলের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবে, যা অনেকটাই মনে করিয়ে দেয় একটা লেনদেন বলে. আর তারা এটা সুযোগ নেবে ও পশ্চিমের জায়গায় শান্তির বদলে তাদের লড়াই চালিয়ে যাবে. যার অর্থ হল যে, এই প্রস্তাব- আসলে আরও একটি নতুন পাক উত্তেজনার কুণ্ডলীতে, আবার ইরাকে সন্ত্রাস, আরও অন্য কোথাও, যেখানে নিহত হবে মোটেও শুধু আমেরিকার লোকেরা নয়, অন্তত শুধু আমেরিকার লোকরাই নয়.

এই প্রসঙ্গে বাড়তি হবে না মনে করিয়ে দিলে যে, “আল কায়দা” দলের আগের নেতা ওসামা বেন লাদেন একাধিকবার একই রকমের প্রস্তাব পেশ করেছিল. আর যখন তা মেনে নেওয়া হয় নি, তখনই নতুন করে সন্ত্রাসের ঢেউ উঠেছিল. অংশতঃ ২০০৪ সালে লন্ডনের মেট্রো রেলে সন্ত্রাসবাদী হানা, যার ফলে পঞ্চাশ জনেরও বেশী মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, তা হয়েছিল, ঠিক সেই ঘটনারই পরিস্থিতিতে, যখন পশ্চিম “আল কায়দার” সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে আপত্তি করেছিল.

তারই মধ্যে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক আলেক্সেই পদশ্যেরব মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন:

“পশ্চিম ঐস্লামিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই লেনদেন করে নিয়েছে. আভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিক থেকে দেখলে “আল কায়দার” সঙ্গে শান্তি স্থাপন করা পশ্চিমের জন্য মোটেও লাভজনক নয়. এখানে অন্য একটি দিক ইন্টারেস্টিং. লিবিয়াতে গণ অভ্যুত্থানের সময়ে ও এখন, যখন সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধ হচ্ছে, তখন ঐস্লামিক চরমপন্থীরা খুবই সংজ্ঞাবহ ভূমিকা পালন করছে. আর একই সময়ে তথাকথিত স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করছে, যাদের মধ্যে পশ্চিম এমনকি চরমপন্থী দেরও অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে, তারা আবার সাহায্য পাচ্ছে পশ্চিমের রাষ্ট্র গুলি থেকেই, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে. অর্থাত্ তারা এখন ব্যারিকেডের একই দিকে রয়েছে. আর এটা আশ্চর্য না করে পারে না. এক সময়ে আমেরিকার লোকরা একান্ত নিজেরাই আল কায়দা দলের সৃষ্টি করেছিল, যারা আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল আর কাবুলে করেছিল সরকারের বিরুদ্ধে. তারপরে “আল কায়দা” তাদের বিরুদ্ধেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল. এমন একটা ধারণা তৈরী হচ্ছে যে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের ও নিউইয়র্কের ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, ইংল্যান্ডের সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ, স্পেনের মৃত্যু বাহী রেল গাড়ীর কথা, সবই. পশ্চিম, ঐস্লামিকদের পক্ষে দাঁড়িয়ে আবারও বেল তলাতেই ন্যাড়া হয়ে গিয়েছে. এটাই আশ্চর্য করে দেয়”.

মুহাম্মেদ আজ-জওয়াহিরি, দেখাই যাচ্ছে যে, পশ্চিমের সঙ্গে একটা নতুন দাবার গেম শুরু করেছে আর চেষ্টা করছে তাদের নিজেদের খেলাতেই নিয়ে আসতে. আর পশ্চিম নিজেদের তরফ থেকেও সেই সমস্ত প্রশাসন, যা তাদের পছন্দ নয়, তাদের বিষয়ে স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সেই সব চরমপন্থীদের উপরেই বাজী ধরতে চাইছে, যাদের মধ্যে অনেক “আল কায়দা” গোষ্ঠীর লোক রয়েছে. এই রকমই হয়েছিল আফগানিস্তানে, লিবিয়াতে, এখন হচ্ছে সিরিয়াতেও. আর এটাই “আল কায়দা” দলকে সুযোগ দিয়েছে নিজেদের হাতে উদ্যোগ তুলে নিতে ও শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যস্থের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে.