রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ক্রেমলিনের সর্ব বৃহত্ প্রাসাদের আলেকজান্ডার রাজ কক্ষে রাশিয়ার প্যারাঅলিম্পিক জাতীয় দলের লন্ডন থেকে ফিরে আসা প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছেন. দেশের প্রধান এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার হাতে তুলে দিয়েছেন. তাছাড়া প্যারাঅলিম্পিক প্রতিযোগিতায় প্রত্যেক স্বর্ণ পদক বিজয়ী পাচ্ছেন চল্লিশ লক্ষ রুবল অর্থ পুরস্কার (প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার ডলারের সমান).

রাশিয়ার খেলোয়াড়রা প্যারাঅলিম্পিক প্রতিযোগিতায় জাতীয় দলকে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন. একশটিরও বেশী পদক, তার মধ্যে ৩৬টি স্বর্ণ পদক, এটা শক্তির, মানসিক জোরের ও লক্ষ্য সাধনের উদ্দেশ্যের বিজয়, এই কথাই ক্রেমলিনে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করে বলেছেন:

“প্রত্যেক প্যারাঅলিম্পিক খেলোয়াড় আমাদের সকলের জন্যই – এক ইতিবাচক সত্ ও জীবনের প্রতি পৌরুষেয় সম্পর্কের লক্ষণ. নিজেদের উজ্জ্বল অংশগ্রহণে আপনারা আমাদের আসলে একটা দূরে যাওয়ার শক্তি দিয়েছেন আর সেই বিষয়েও তাঁদের মধ্যে একটা ভরসার উদ্রেক করেছেন, যাঁরা জীবনে কঠিন পরিস্থিতির সামনে উপস্থিত হয়েছেন, আমাদের বদ্ধমুল ধারণা ও ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং সব মিলিয়ে মানুষের সম্ভাবনার প্রতি সামাজিক মতকেই পাল্টে দিয়েছেন, আসার দিগন্তকে প্রসারিত করেছেন. এটাকেই বলা যেতে পারে প্যারাঅলিম্পিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের প্রধান উদ্দেশ্য”.

চার বছর আগে বেজিং শহরে প্যারাঅলিম্পিকের সময়ে রাশিয়ার দল সমস্ত মেডেল বিজয়ীদের তালিকায় ছিল অষ্টম স্থানে. আর এটা তখন কেউই ভাবতেও পারেন নি যে, রুশ লোকরা প্রথম দশটি দলের মধ্যে আসতে পারবে বলে. আর এবারে রাশিয়া – দ্বিতীয়. এটা সত্যিকারের প্রতিযোগিতা, আর সমস্ত খেলোয়াড়ের সামনেই রাখাতে হয় নির্দিষ্ট ও কঠোর সব কাজ, এই রকমই মনে করে সাংবাদিক আন্দ্রেই মিতকভ বলেছেন:

“সেই সমস্ত প্রতিবন্ধী লোকদের, যাঁরা খেলাধূলা করতে যাচ্ছেন, তাঁদের এখন নিজেদের প্রকাশের সম্ভাবনা অনেক বেশী হয়েছে. এই বছরে লন্ডনে আমরা প্রথমবার মেডেল জয় করেছি সাইকেল রেসে ও বাইচ নৌকার প্রতিযোগিতায়.

সেটা স্বর্ণপদক নাই বা হোক, তবুও যখন কথা ওঠে প্রতিবন্ধীদের জন্য খেলাধূলা নিয়ে, তখন মূল কথাটা ওঠে খেলাধূলা নিয়েই. এখানে যাঁরা আসেন তাঁদের মেরু দণ্ড ও হাত পায়ের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে, হাত থাকে না, পা থাকে না অথবা অন্য কোনও সমস্যা থাকে, তাও তাঁরা এই সবই নিয়ে এমন সব সাফল্য অর্জন করেন, যা আমরা বা আপনারা কোন দিনও করতে পারবেন না. এঁদের প্রতি সম্মানের সঙ্গে আচরণ করতে হয়, আর খেলাধূলার সময়ে নির্দিষ্ট কাজের লক্ষ্য স্থাপন করতে হয়: মেডেল জয় করা, বিশ্ব রেকর্ড ভাঙা. তাঁরা এই সব কাজ করার উপযুক্ত লোকই বটে”.

রাশিয়ার জাতীয় দলের খুবই ভাল ফল – রাষ্ট্রের সামাজিক রাজনীতির প্রতিফলন. আর তাই ভ্লাদিমির পুতিন সারা দেশ জুড়ে প্যারাঅলিম্পিক আন্দোলনের বিকাশের জন্য অবস্থা তৈরী করে দেওয়ার জন্য আশ্বাস দিয়েছেন. আর আপাততঃ বেশীর ভাগ প্রতিবন্ধী লোকদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই রয়েছে মস্কো ও তার উপকণ্ঠে.