পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসা সামরিক দল হাক্কানি এবারে আমেরিকার সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তালিকায় যুক্ত হয়েছে. এই হাক্কানি দলকে ব্ল্যাক লিস্ট করার তথ্য পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে ভ্লাদিভস্তকে দিয়েছেন.

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন: ইসলামাবাদের উপরে চাপ বাড়ানোর জন্যই এই ব্ল্যাক লিস্ট করা হয়েছে, যাদের এখনও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা হয় নি. এটাই যথেষ্ট হবে বললে যে বেন লাদেন ধ্বংস করার অপারেশন ও ২০১১ সালের মার্কিন বোমারু বিমানের আঘাতে ২৪জন সীমান্ত রক্ষী জওয়ানের মৃত্যুর কথা. আর ইসলামাবাদ শুধু হাক্কানি দলকেই ছাড় দিয়ে রাখে নি, বরং তাদের পরোক্ষ ভাবে ব্যবহার করছে আফগানিস্তানে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের অস্ত্র হিসাবে আর তালিবান দলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে.

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই তালিকাভুক্ত করা কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না, এই রকম মনে করে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

“পাকিস্তান হাক্কানি নেটওয়ার্ককে, যাদের তারা অভিভাবকত্ব করছে, তাদেরকে নিজেদের দূত হিসাবে স্বীকৃতী দিতে চায় না ও তা দিতেও পারে না. যদি এই ধরনের সমর্থন থাকেও, তবে তা রয়েছে বেসরকারি ভাবে. হাক্কানি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানেই নানা সন্ত্রাসের কাজকর্মে জড়িত ছিল. তাই তাদের সন্ত্রাসবাদী দলের তালিকায় যুক্ত করা হলে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে কোনও প্রত্যুত্তর আশা করা যায় না. যেমন, পাকিস্তানের আকাশ পথে পাইলট বিহীণ বিমানের উড়ান”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু রাজনীতিবিদের মতে, পশ্চিমের শক্তির আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পরে হাক্কানি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারত. তাদের এমনকি শান্তি প্রক্রিয়ায় টিকিট বিক্রেতার খেতাবও দেওয়া হয়েছিল, যেমন প্রাক্তন আততায়ীর হাতে নিহত রাষ্ট্রপতি বরখানুদ্দীণ রব্বানি সম্বন্ধে বলা হয়েছিল. কিন্তু আধুনিক আফগানিস্তান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ নিকিতা মেন্দকোভিচ বিশ্বাস করেন যে, হাক্কানি সম্বন্ধে এই ধরনের অতিরিক্ত ধারণা একটা ভুল বোঝার ফল, তাই তিনি বলেছেন:

“হাক্কানি ছিলেন এই ধরনের ভূমিকার জন্য এলাকার সবচেয়ে বাজে ব্যক্তিত্ব. সে একজন শান্তি প্রয়াসে বিমুখ ঐস্লামিক চরমপন্থী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার শত্রু, আর তার দল – তালিবান দলের চরমপন্থী গোষ্ঠী. হাক্কানি শান্তি প্রয়াসের নির্বাচিত ব্যক্তিত্ব হলে, সেটা হত চরম ভুল আর তা পরিস্থিতি অনুযায়ী খুবই অযৌক্তিক ও অতি সরলীকরণ করার প্রচেষ্টা মাত্র. আমি মনে করি যে, ওয়াশিংটনের অবস্থান পাল্টানোর অর্থ হল যে, তারা বেশী বাস্তব করেই আফগানিস্তানের পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পেরেছে”.

সুতরাং, মনে হয় না যে, হাক্কানি দলের লোকদের কাবুলের ভবিষ্যত নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তালিবান দলের কোন না কোন গোষ্ঠী সেখানে প্রতিনিধিত্ব করতেই পারে, এই রকম একটা সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞরা দেখতে পেয়েছেন. কিন্তু ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজনে পাল্টে ফেলা যেতেই পারে, তাই পিওতর তোপীচকানভ ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“২০১৪ সালে সামরিক বাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে অনেক রকমের বিষয় হতে পারে: তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, চাপ দেওয়া, প্রকাশ করা, খবর বের হতে দেওয়া ইত্যাদি. এখন ওয়াশিংটনে ও আফগানিস্তানে প্রক্রিয়া চলছে খুবই জরুরী ভিত্তিতে কম বেশী স্থিতিশীল একটি রাজনৈতিক ও সামরিক শ্রেনী আফগানিস্তানে তৈরী করার, যারা পশ্চিমের সেনা প্রত্যাহারের পরে ভরসা যোগ্য হবে”.

ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের পরে, যা কাবুল থেকে সমর্থন করা হয়েছে, এই দলের প্রতিনিধিরা আফগানিস্তানে পশ্চিমের পক্ষ থেকে শান্তি সংক্রান্ত জোর দেওয়া বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে. তারা জানিয়েছে যে, ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে বন্দী করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া আমেরিকার সার্জেন্ট বোয়ে বের্গডাহলের বিষয়ে আর কোনও রকমের গ্যারান্টি দিতে পারছে না. (একটা খবর পাওয়া গিয়েছে যে, বর্তমানে বের্গডাহল তালিবদের বোমা বানানো শেখাচ্ছে, যদিও পেন্টাগন থেকে এই ধরনের খবরকে বলা হয়েছে তালিবদের অপপ্রচার).

বিশেষজ্ঞরা কোন রকমের সন্দেহই প্রকাশ করছেন না যে, হাক্কানি দলের সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ চলবে. শনিবারে তাঁদের এই ধরনের পূর্বাভাসের একটা প্রমাণ হিসাবেই এক আত্মঘাতী কাবুলে ন্যাটো জোটের সদর দপ্তরের সামনে একটা মাইন পাতা ট্রাক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে. এই বিস্ফোরণের ফলে মারা গিয়েছে, রাস্তায় খেলতে থাকা ছয়টি আফগানিস্তানের শিশু.