লন্ডনে শেষ হয়েছে ২০১২ সালের প্যারাঅলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা. এই প্রথম বার রাশিয়ার জাতীয় দল পেয়েছে সমস্ত দলগুলির মধ্য পদক প্রাপ্তির তালিকায় দ্বিতীয় স্থান: ৩৬টি স্বর্ণ পদক, ৩৮টি রৌপ্য পদক ও ২৮ টি ব্রোঞ্জ পদক. প্রথম স্থানে রয়েছেন চিনের ক্রীড়াবিদরা, তারা জয় করেছেন ৯৫টি স্বর্ণ পদক. প্যারা-অলিম্পিকের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যা শেখার, তা হল জয়ের জন্য আকাঙ্ক্ষা ও মনের জোর.

এই প্রতিযোগিতার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে রাশিয়ার দল শারীরিক ভাবে সীমিত ক্ষমতা অধিকারিদের ফুটবলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে. সব কটি খেলার একটিতেও তাঁরা পরাজিত হন নি. বাস্তবে প্রত্যেকটি স্বর্ণপদকই, যা রুশীরা জিতেছেন – এটা নতুন রেকর্ড. অক্সানা সাভচেঙ্কো সাঁতারে পাঁচটি প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেছেন ও চারটি বিশ্ব রেকর্ড করেছেন. আর অ্যাথলেট আলেক্সেই আশাপাতভ ডিস্কাস থ্রো প্রতিযোগিতায় বিশ্ব রেকর্ড আরও উন্নত করেছেন ও হুইল চেয়ারে বসা প্রতিযোগীদের মধ্যে শট পাটে প্যারাঅলিম্পিক প্রতিযোগিতার বিশ্ব রেকর্ড করেছেন. তীরন্দাজী দলের খুবই ভাল ফল হয়েছে আর রিলে রেসে পাওয়া হয়েছে রৌপ্য পদক. এই বিজয় গুলি কেউই আশা করেন নি আর তাই এইগুলি হয়েছে আরও বেশী মূল্যবান, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার প্যারাঅলিম্পিক কমিটির সাধারন সম্পাদক মিখাইল তেরেন্তিয়েভ বলেছেন:

“প্যারাঅলিম্পিকে প্রতিযোগিতা বর্তমানে প্রতি বছরেই আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে. খেলাধূলা এই রকমই ব্যাপার. এখানে প্রত্যেকেই জিততে চায়. রাশিয়ার ফেন্সিং প্রতিযোগিতায় পাঠানো দল এবারে শুধু পঞ্চম হতে পেরেছে. এক দিক থেকে এটা হেরে যাওয়া, আর অন্য দিক থেকে এটা জয়. কারণ এই খেলায় যোগ দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা, বাছাই পর্ব পার হতে পারা – হুইল চেয়ারে বসা খেলোয়াড়দের জন্য ছিল খুবই কঠিন বিষয়”.

রাশিয়ার প্যারাঅলিম্পিক ফেন্সিং কমিটির সভাপতি এলেনা বেলকিনা উল্লেখ করেছেন যে, লন্ডনের প্রশাসন সব কিছুই করেছে, যাতে দল তাদের প্রতিযোগিতার প্রতি মনোযোগ থেকে বিচ্যুত না হয়, তাই তিনি বলেছেন:

“অলিম্পিক ভিলেজ সম্বন্ধে যা বলা যায়, সবই খুব আরামদায়ক ও সুবিধাজনক. ঘর গুলি ছোট, কিন্তু সেই গুলি হুইল চেয়ারে বসা প্রতিবন্ধীদের জন্য ভেবে তৈরী করা. সব কিছুই চারপাশে নাগালের মধ্যে. এমনকি সেখানে আমাদের খেলোয়াড়রা দাঁতের ডাক্তার দেখাতে পেরেছে ও চশমা তৈরী করাতে পেরেছে. আমরা খুব ভাল যে, কোন রকমের আঘাত ছাড়াই এবারে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরেছি. আমরা প্রস্তুতি ও প্রধান বিষয় - বাছাই পর্ব সাফল্যের সাথেই পার হতে পেরেছি. তারপরে আমাদের খেলোয়াড়রাও দারুণ ফেন্সিং করেছিল”.

প্যারাঅলিম্পিকের খেলোয়াড়দের সমস্ত খেলাই যেন নিজেদের সঙ্গেই যুদ্ধ. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল বরং সকলকে প্রমাণ করা যে, প্রতিবন্ধী হওয়ার মানে সব শেষ নয়. আর যখন ষ্টেডিয়ামে লোকে লোকারণ্য থাকে, তখনই খেলোয়াড় জেতার জন্য একটা উত্সাহ পায়, এই রকমই বিশ্বাস নিয়ে মিখাইল তেরেন্তিয়েভ বলেছেন:

“আমরা ব্রিটেনের কাজে খুশী, যারা এই রকম একটা সফল প্রতিযোগিতার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন. আর সকলেরই ভাল লেগেছে যে, প্রত্যেক দিনই ষ্টেডিয়ামের সব গ্যালারি ভর্তি ছিল. একটা টেলিভিশন চ্যানেল তৈরী করা হয়েছিল, যেখানে সারা দিন রাত ধরে বলা হয়েছে প্যারাঅলিম্পিক আন্দোলন কি ব্যাপার. আর ট্রাফালগার স্কোয়ারে একটা বিশাল টেলিভিশন স্ক্রীণ রাখা হয়েছিল, আর এখানে প্রত্যেক সন্ধ্যাই লোকে ভর্তি থাকতো, যারা প্যারাঅলিম্পিকের খেলোয়াড়দের ফ্যান. এটা খুবই দারুণ ব্যাপার”.

এবারের লন্ডনের খেলায় বেজিংয়ের তুলনায় প্যারাঅলিম্পিকের খেলোয়াড়রা দ্বিগুণ বেশী সোনার মেডেল জিতেছেন. সামনে রয়েছে চার বছর ধরে রিও ডি জেনেইরো শহরে প্যারাঅলিম্পিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি. এই সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়দের শুধু বিজয়ের জন্যই প্রচেষ্টা করতে হবে না, বরং সব রকমের শক্তি প্রয়োগ করে বিশ্বের সেরা একটি প্যারাঅলিম্পিক দলের খেতাব বজায় রাখতে হবে.