ভারত ও পাকিস্তান ঠিক করেছে ভিসা ব্যবস্থা শিথিল করার. এই ধরনের চুক্তিতে ইসলামাবাদ শহরে স্বাক্ষর করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. এম. কৃষ্ণ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রেহমান মালিক. বিষয় নিয়ে বিস্তৃত করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটা অনুযায়ী কূটনৈতিক ভিসা তৈরী হতে এবারে তিরিশ দিনের বেশী লাগবে না. অন্য যে কোন ভিসাই – ৪৫ দিনের বেশী নয়. আগে এর জন্য অনেক বেশী দিন লাগত. তাছাড়া ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের নাগরিকদের, যার শুধু দেশ ভ্রমণে যেতে চান, তাদের ভিসা দেবে একবার প্রবেশ করার ও ছয় মাসের. আগে এটা পাওয়া যেত শুধু আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গেই দেখা করার জন্য. যাঁদের বয়স ৬৫ বছরের উপরে বা ১২ বছরের কম আর তারই সঙ্গ ব্যবসায়ীদের জন্য একে অন্যের দেশে পৌঁছে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না কোন পুলিশের থানায়. শেষোক্ত লোকেরা এবারে বহু বার প্রবেশের ভিসাই পাবেন ও তার সময় সীমা হবে এক বছর. পর্যটনের জন্য দল গত ভিসা, যেখানে দলে কম করে দশ জন ও কুড়ি জনের কম লোক রয়েছেন, তাদের দেওয়া হবে দল হিসাবে ভিসা. এই ধরনের ভিসার জন্য যারা যাবেন, তাঁদের হয়ে ট্যুরিস্ট কোম্পানী আবেদন করতে পারবে, যাদের দুই দেশেই রেজিস্ট্রেশন রয়েছে. তাছাড়া পরবর্তী কালে দুই দেশের ট্যুরিস্টরাই একবার গেলে আগের মতো তিনের জায়গায় পাঁচটি আলাদা জায়গা ঘুরে দেখতে পারবেন.

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভিসা ব্যবস্থা সহজ হওয়া বহু দিন ধরেই প্রতীক্ষিত বিষয় আর তা হওয়া উচিত্ ছিল, এই রকম মনে করে রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ফিওদর তোপীচকানভ উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনৈতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য যোগাযোগ বাড়বে, যা মানবিক পারস্পরিক যোগ সূত্রকেই মজবুত কবে, তাই তিনি বলেছেন:

“আসলে দুটি দেশই বেশ কয়েক বছর আগেই এই কাজ করতে তৈরী ছিল. কিন্তু ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা এই ধরনের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে বাদ সেধেছিল আর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ককে আবার কয়েক বছরের জন্যেই খারাপ করে দিয়েছিল. তাই এবারে যখন ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই এই প্রশ্নে আবার করে সহমতে এসেছে, তখন বলা যেতে পারে যে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হতে চলেছে ও তা আরও মজবুত হবে. তা দুই দেশেরই স্বার্থের পক্ষে অনুকূল. যখন দুই দেশের পক্ষেই কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক কারণে যোগাযোগ বৃদ্ধি হওয়া স্বার্থের অনুকূল, তখন কোন রকমের বিরোধ কাজের কথা নয় ও দুই দেশকেই এটা ক্ষতি করে”.

বিগত সময়ে ভারত – পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কে উন্নতি দেখতে পাওয়া গিয়েছে. দুই দেশের সর্ব্বোচ্চ নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ নিয়মিত হয়েছে. কয়েকদিন আগে ইরানের রাজধানী তেহরানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির মধ্যে সাক্ষাত্কার হয়েছে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলনের নেপথ্যে. এই দেখা করার পরেই ভারতে যে সমস্ত কোম্পানী ও ব্যক্তি উদ্যোগ ব্যবসা করে, তাদের দিল্লী থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানে ব্যবসায়িক প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে. বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রকল্প বাছাই ও যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কে এক বিশেষ পর্যবেক্ষক সভা তৈরী করা হয়েছে. এর আগে পাকিস্তান ভারতকে সবচেয়ে সুবিধাজনক ভাবে ব্যবসা করার ছাড়পত্র দিয়েছে. এই নীতির মধ্যেই বর্তমানে ভিসা সংক্রান্ত শৈথিল্য রয়েছে.