রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন আজ ঘোষণা করেছেন, যে তিনি ভ্লাদিভস্তকে এ্যাপেকের শীর্ষসম্মেলনের ফলাফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট. সমাপ্তিমুলক সাংবাদিক সম্মেলনে পুতিন বলেছেন, যে এই সংস্থার ইতিহাসে এটা সবচেয়ে সফল শীর্ষসম্মেলন. সেই সাথেই আজ ২১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অর্থনৈতিক এক ঘোযণাপত্র স্বাক্ষর করেছেন.

আমন্ত্রক হিসাবে রাশিয়া আলোচ্য বিষয়সূচী নির্ধারন করেছিল ও সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অগ্রাধিকার জানিয়ে ছিল. উপোরক্ত ঘোষণাপত্রেও তা প্রতিফলিত হয়েছে. মুখ্য ফলাফল হল- রাশিয়া এশিয়ার দিকে মুখ ফেরাচ্ছে ও আগে যেমন ইউরোপীয় সঙ্ঘের সাথে ছিল, তেমনই এ্যাপেকের সদস্য দেশগুলির সাথে সক্রিয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়তে চাইছে. এই প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন, যে এই অভিমুখে রাশিয়া একা নয়, বেলোরুশ ও কাজাখস্তানের সাথে একসঙ্গে অগ্রসর হবে.

আঞ্চলিক অর্থনীতির ঐক্যবদ্ধতা – এটা রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক নির্বাচন. আমরা একে বাস্তবায়িত করবো আমাদের অভিন্ন শুল্ক সঙ্ঘের শরিকদের সাথে একত্রে. ইউরোশিয়া অর্থনৈতিক সঙ্ঘ ভবিষ্যতে গঠনের পরিপ্রেক্ষিত মাথায় রেখে. আমি বলতে চাই, যে ভ্লাদিভস্তকে শুধু রাশিয়ার স্বার্থ সম্পর্কে আমি বলিনি, বলেছি তিন দেশ – রাশিয়া, বেলোরুশ ও কাজাখস্তানের সম্মিলিত স্বার্থ সম্পর্কে.

এ্যাপেকের রাষ্ট্রপ্রধানদের দ্বারা স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রের মুল মতবাদ হচ্ছে – বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উদারপন্থা, অর্থনৈতিক ঐক্যবদ্ধতা, খাদ্যদ্রব্যের নিরাপত্তাকে জোরদার করা, পরিবহণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা. পুতিন উল্লেখ করেছেন, যে কৃত্রিমভাবে পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো লক্ষ্য রাশিয়ার নেই.

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার সাথে সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া. এক্ষেত্রে আমরা কৃত্রিমভাবে কোনোকিছু করতে চাই না. এটা বাস্তবে ঘটা উচিত. বর্তমানে রাশিয়ার পণ্য আবর্তনের ৫১ শতাংশ ইউরোপের সাথে. এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার সাথে – ২৪ শতাংশ. তবে এই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতের সাথে, এই দিকে আমাদের বাণিজ্য বাড়বে. সেজন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে. পরিকাঠামো সম্প্রসারন করে আমরা তা করবোও.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বিষদ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, যে বৈকাল-আমুর রেলপথ, ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথের আধুনিকীকরন ও নতুন নতুন বন্দর ও জ্বালানী কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে.