আজ ভ্লাদিভস্তোকে এ্যাপেকের কর্মবৈঠক সম্পন্ন হয়েছে. এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানরা ও ৫০০-রও বেশি প্রথমসারীর শিল্পপতি সেখানে অংশ নিয়েছিলেন. মনোযোগের কেন্দ্রে ছিল রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ইগর শুভালভের বক্তৃতা. তারা উভয়েই অর্থনৈতিক ঐক্যবদ্ধতার উপর জোর দিয়েছেন.

এ্যাপেকের কর্মবৈঠকের উদ্বোধন করেছিলেন ভিটিবি ব্যাঙ্কের প্রধান আন্দ্রেই কোসতিন. বিশ্বের অর্থনীতি এইমুহুর্তে নড়বড়ে – এই মন্তব্য করে তিনি সংকট অতিক্রমনের জন্য বিকল্প পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন. এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির ঐক্যবদ্ধ হওয়া এর একটা প্রতিষেধক. Pricewantrhouse এর প্রধান ডেনিস নেল্লিও এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রেখেছেন. তার মতে এই এলাকার দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক পণ্য আদানপ্রদানের বৃদ্ধি ও একই রকম নিয়মাবলী প্রনয়ণ করা সবদেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে সহায়তা করবে.

রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনও তার বক্তব্যের মুল বিষয় হিসাবে রেখেছিলেন অর্থনৈতিক ঐক্যের প্রক্রিয়া. পুতিনের মতে, সংকটের সময়েই আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজন হয়েছিল.

সবার পক্ষে বোধগম্য ও সকলের স্বার্থরক্ষাকারী আঞ্চলিক অর্থনীতি পরিচালনার মুলনীতিই সংকটমোচনে সাহায্য করতে পারবে ও গোটা বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদ থেকে টেনে তুলতে সমর্থ হবে – বলছেন পুতিন.

রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ইগর শুভালভও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন. তিনি উল্লেখ করেছেন, যে মস্কো যেমন ইউরোপের সাথে, তেমনই এই অঞ্চলের দেশগুলির সাথে বাণিজ্য সক্রিয়তর করতে উত্সুক.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ও সরকার সর্বতোভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে মদত দিয়ে যাবে. এবং ভবিষ্যতেও আমরা আলাদা আলাদা দেশের সাথে অবাধ বাণিজ্য শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাব.

ভ্লাদিমির পুতিন স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যে মস্কো, আস্তানা ও মিনস্ক অভিন্ন বাণিজ্যিক ভুখন্ড সৃষ্টি করেছে. এই নমুনা এতটাই সফল হয়েছে, যে অন্যন্য প্রাক্তণ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের সাথেও এরকম চুক্তি স্বাক্ষর করার কথাবার্তা চলছে.

সম্প্রতি আমরা সি.আই.এসের অন্তর্ভুক্ত প্রায় সব সদস্যদেশের সাথে এরকম চুক্তি স্বাক্ষর করেছি ও ঐসব দেশের সংসদের তা অনুমোদন করার কথা. আমাদের ৩ দেশের সঙ্ঘ শুধুমাত্র সংকটের জবাব নয়, এ্যাপেকের দেশগুলির সাথেও অনুরূপ সহযোগিতা শুরু করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে. নিউজিল্যান্ডের সাথেও অবাধ বাণিজ্যের বিষয়ে কথাবার্তা চলছে. ভিয়েতনামের সাথেও অনুরূপ চুক্তি খুব সম্ভবতঃ স্বাক্ষরিত হবে. আমাদের কাছে কয়েক ডজন এরকম আবেদনপত্র জমা পড়েছে.

পুতিন রাশিয়ার উদ্যোগ সম্পর্কেও বলেছেন. তিনি বলেছেন, যে রাশিয়া ইউরোপ থেকে শুরু করে গোটা এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার জ্বালানীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রস্তুত. তিনি গ্লোনাস ব্যবহার করার সম্ভাবনার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন. তাছাড়া রাশিয়া খাদ্যদ্রব্যের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নিজস্ব অবদান রাখছে. পুতিন সেইসাথেই এ্যাপেকের সদস্য দেশগুলির কাছে বায়োরিসোর্সের রিসাইক্লিং শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন.