রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন আজ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, যা ভ্লাদিভস্তক শহরে হচ্ছে. ভ্লাদিমির পুতিন শুধু এই এলাকার দেশ গুলির নেতৃত্বের আলোচ্য বিষয় গুলি নিয়ে নিজের দৃষ্টিকোণের কথাই বলেন নি, বরং ব্যবসায়িক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন. পুতিন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা উল্লেখ করেছেন, স্পষ্ট করে বুঝিয়েছেন প্রশান্ত মহাসাগর থেকে অতলান্তিক মহাসাগর পর্যন্ত এলাকার সমাকলনের সম্ভাবনা সম্বন্ধে, খাদ্য দ্রব্যের সমস্যা ও জ্বালানী নিরাপত্তার সম্পর্কে, রুশ সুদূর প্রাচ্যের বিকাশের লক্ষণ সম্বন্ধেও.

এই সংস্থার ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনের আজকের প্রধান বিষয় হয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তৃতা. এই সম্মেলনে এসেছেন ৫০০ জনেরও বেশী নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকার কর্পোরেশন গুলির প্রধানরা. তাঁদের প্রতি উদ্দেশ্য করে পুতিন তাঁর মত প্রকাশ করেছেন যে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির সদস্যরা বিশ্ব অর্থনৈতিক নীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে বাধ্য, তিনি প্রসঙ্গতঃ বলেছেন:

“বর্তমানে আমাদের সকলেরই প্রয়োজন নতুন ভাবে অগ্রসর হওয়ার, অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন মডেল গ্রহণ করা. বিশ্ব অর্থনীতির চিত্রপট চোখের সামনেই বদলে যাচ্ছে. বিশ্বের ঐতিহ্যশালী উন্নত অর্থনীতি গুলির চেয়ে আগামী দুই দশকে উন্নতিশীল অর্থনীতি গুলি অনেকটাই এগিয়ে থাকবে. এর পরেই অপরিহার্য ভাবেই আসতে বাধ্য পণ্য ও বিনিয়োগের ধারা”.

ভ্লাদিমির পুতিনের মতে, শুধু সমাকলন প্রক্রিয়াই এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলিকে সফল ভাবে বিশ্বের বাজারে প্রতিযোগিতায় উপস্থিত করবে. উদাহরণ হিসাবে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তির কথা বলেছেন, শুল্ক সঙ্ঘ গঠন ও অবশ্যই, মূল সমাকলন প্রকল্পের কথাও – যা ইউরোপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর অবধি বিস্তৃত হয়েছে সেই রাশিয়া বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থানের সম্মিলিত অর্থনৈতিক এলাকা সৃষ্টির কথা. আর, পুতিনের কথামতো, আগামী সময়ে এই ধরনের প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বেড়ে যেতেই পারে.

ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পুতিন এই সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের একটি প্রধান বিষয়কে স্পর্শ করেছেন – খাদ্য নিরাপত্তা, তিনি বলেছেন:

“রাশিয়া আগেও খাদ্য সরবরাহের বিষয়ে স্থিতিশীলতা রাখার জন্য বিশ্বে ও তারই সঙ্গে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিজেদের কাজ করেছে ও এখনও তা করবে. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী ২০২০ সালে আমাদের দেশ উত্পাদন করবে ১২- ১২, ৫ কোটি টন দানাশষ্য, আর এর ফলে রপ্তানীর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে ৩ থেকে ৩, ৫ কোটি অথবা এমনকি ৪ কোটি টন অবধি. বোঝাই যাচ্ছে যে, আমরা মোটেও খাদ্য শষ্য রপ্তানিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকতে চাই না. আমাদের সকলের স্বার্থেই কৃষি বিষয়ে পারস্পরিক বিনিয়োগে জোর দিতে হবে, স্থিতিশীল ভাবে কৃষি সম্ভব এই রকমের এলাকার প্রসার করতে হবে, অন্যান্য কৃষি উত্পাদন সংক্রান্ত প্রকল্পকে বাস্তবায়ন করতে হবে সেই ভিত্তিতে, যা একান্ত ভাবেই সর্বাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্মত”.

একই সঙ্গে রাশিয়া তৈরী রয়েছে এই এলাকায় জ্বালানী সংক্রান্ত স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দিতে. পুতিন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মস্কো নিজেকে এক দায়িত্বশীল সরবরাহকারী হিসাবে প্রমাণ করতে পেরেছে, যারা নিজেদের সহকর্মীদের সঙ্গে যেমন প্রাকৃতিক জ্বালানী উত্পাদনের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছে, তেমনই সমগ্র এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতেই ভরসা যোগ্য পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরীর কাজ করছে.

একই সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন ব্যাখ্যা করেছেন সুদূর প্রাচ্যের বিকাশের সম্ভাবনাকেও, মনে করিয়ে দেবো যে, রাশিয়া বিনা কারণেই ভ্লাদিভস্তকে এই শীর্ষ সম্মেলনের ব্যবস্থা করে নি, প্রসঙ্গতঃ পুতিন বলেছেন:

“প্রথম, যা আমাদের করা দরকার আর যা আমরা করব – এটা হল পরিবহনের পরিকাঠামোর উন্নতি: সড়ক পথ ও রেল পথের বিকাশ, বিমান পরিবহনে উন্নতি. অবশ্যই এখানে প্রয়োজন পড়বে বুদ্ধি প্রসূত কাজকর্মে উন্নতির. এখানে আমুর এলাকায়, আমরা তৈরী করব দ্বিতীয় (এই ক্ষেত্রে অসামরিক ব্যবহারের জন্য) মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র “ভস্তোচনি”. আমরা এখানে রাশিয়া প্রজাতন্ত্র ও আমাদের সহকর্মীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মহাকাশ উড়ানের কাজ করব. আমরা অবশ্যই, এই প্রসঙ্গে এখানে বুদ্ধি উত্কর্ষের কেন্দ্র গড়বো. আর এই গুলির মধ্যে একটি হল এটি – যেখানে আজ আমরা রয়েছি”.

ভ্লাদিমির পুতিন, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার ব্যবসায়িক শীর্ষ সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনার সময়ে আবারও গ্যারান্টি দিয়েছেন যে, রাশিয়ার প্রশাসন পরম্পরা মেনেই রাজনীতি চালিয়ে যাবে, যাতে রাশিয়ার বিনিয়োগ ও ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়, রুবলকে আঞ্চলিক মুদ্রা হিসাবে স্বীকৃতী দেওয়ানোর প্রয়াসে কাজ করবে ও বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও ভাল করবে.