রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ভ্লাদিভস্তক শহরে উড়ে এসেছেন, যেখানে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার সপ্তাহ ব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন চলছে, আর শুক্রবারেই এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সম্মেলন চালু হতে চলেছে. এই অঞ্চলের অর্থনীতির প্রতিনিধিদের মধ্যে সাক্ষাত্কারের আগে ভ্লাদিমির পুতিন একটি বড় সাক্ষাত্কার দিয়েছেন রাশিয়া টুডে টেলিভিশন চ্যানেলে, আর তারই সঙ্গে দ্য ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল পত্রিকার এশিয় সংস্করণের জন্য একটি প্রবন্ধ লিখেছেন. দেশের নেতা খুবই পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বর্ণনা করেছেন এই শীর্ষ সম্মেলন নিজেদের দেশে আয়োজন করে রাশিয়ার কোন লক্ষ্যগুলি প্রাথমিক বলে সামনে রাখা হয়েছে ও নিজেদের সহকর্মীদের জন্য মস্কো কি ধরনের প্রস্তাব পেশ করেছে বিচারের জন্য.

আগামী তিন দিনে ভ্লাদিভস্তক হবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের কেন্দ্র. প্রথমে ব্যবসা শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বৃহত্তম কোম্পানী গুলির শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিরা ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং তার পরে বিশ্বের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার অর্থনৈতিক বিষয়ে নেতৃত্ব. রাশিয়া টুডে চ্যানেলের সাক্ষাত্কারে ভ্লাদিমির পুতিন এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, এই সম্মেলনের আলোচ্য তালিকা স্থির করার সময়ে, রাশিয়া অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার বিষয়েই বেশী করে জোর দিয়েছে. আর এর মুখ্য প্রশ্নই হবে বিশ্বের অর্থনীতির বাধাহীণ হওয়া, তাই তিনি বলেছেন:

“যখন আমি আমার সহকর্মীদের রাশিয়া প্রজাতন্ত্রেই একজোট হতে নিমন্ত্রণ করেছিলাম, এটা ছিল আজ থেকে পাঁচ বছর আগে, আমি সেই ধারণা থেকেই উত্সাহ দেখিয়ে ছিলাম যে, রাশিয়ার জন্য এই দিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ. এখানে বলতে চাওয়া হচ্ছে যে, রাশিয়ার এলাকার দুই তৃতীয়াংশ রয়েছে এশিয়াতে, আর প্রধান বাণিজ্য বিনিময় হয়ে থাকে পশ্চিম ইউরোপের দিকেই, তা প্রায় শতকরা পঞ্চাশ ভাগেরও বেশী, আমাদের মোট বাণিজ্যের মাত্র ২৪ শতাংশ হয়ে থাকে এশিয়ার দিকে. আর এটা এর মধ্যেই খুব দ্রুত ও ঘন সন্নিবদ্ধ ভাবেই উন্নতিশীল এলাকা. তাই আমরা চাই প্রাথমিক ভাবে অর্থনীতির সমস্যার দিকে মনোযোগ দিতে, আমি যেমন আগেও বলেছি, বিশ্ব অর্থনীতির বাধা অতিক্রম করতে, পরিবহনের ক্ষেত্রে, মানব সমাজের খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নেও”.

এই ধরনের শীর্ষ সম্মেলন, যেমন বৃহত্ আট বা কুড়িটি অর্থনৈতিক দেশের শীর্ষ সম্মেলনকে প্রায়ই সমালোচনা করা হয়ে থাকে, কোন রকমের বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না বলে অথবা নির্দিষ্ট কিছু বলা হয় না বলে. কিন্তু ভ্লাদিমির পুতিন এই ধরনের দৃষ্টিকোণের সঙ্গে একমত নন. রাশিয়ার এখন বাণিজ্যের পথে বাধা নিরসন ও অর্থনৈতিক সমাকলনের বিষয়ে দেখানোর মতো উদাহরণ রয়েছে. রাশিয়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার বর্তমানের সমস্যা গুলির সমাধানের পথ প্রস্তাব করতেই পারে সমাধানের প্রতি নতুন ভাবে দৃষ্টি পাতের মাধ্যমে. এটা এর আগে উল্লিখিত বাণিজ্যিক বাধা দূরীকরণ ও অবাধ বাণিজ্য এলাকা নির্মাণ আর খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নেও বলা যেতে পারে. মস্কো, পুতিনের কথামতো, শুল্ক জোটের সহকর্মীদের সঙ্গে তৈরী আছে ইউরো এশিয়ার সমগ্র অঞ্চলেই ঐক্যবদ্ধ নিয়মাবলী গ্রহণের জন্য, আর তা হতে পারে সমগ্র এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার জন্যও, ফলে তৈরী হতে পারে নতুন বাণিজ্যের পথ. আর এই সব প্রশ্নই রাশিয়া এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য উপস্থিত করেছে.

রাশিয়া, যেমন ইউরোপে, তেমনই এশিয়া জুড়ে রয়েছে, আর অতলান্তিক এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক এলাকার জন্য তাদের মধ্যে সেতুর কাজ করতে সক্ষম. এই প্রসঙ্গে মস্কো সাইবেরিয়া ও সুদূর প্রাচ্যের অর্থনৈতিক বিকাশের প্রকল্প তৈরী করেছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করেই.