রাশিয়া এবং ভারত চুক্তি করেছে ভারতবর্ষে রাশিয়ার একসাথে অনেক গোলা ছোঁড়ার ব্যবস্থা সহ রকেট ব্যবস্থা “স্মের্চ” এর রকেট গোলা উত্পাদনের যৌথ প্রকল্প তৈরী করারও এই ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গোলার বিক্রয় পরবর্তী পরিষেবার ব্যবস্থা করার. এই বিষয়ে জানানো হয়েছে “রসআবারোনএক্সপোর্ট” সংস্থা থেকে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

দূরে উড়ে গিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম এই ধরনের রকেট গোলা ছোঁড়ার ব্যবস্থা “স্মের্চ” তৈরী করা হয়েছিল দূরের যে কোন ধরনের দলবদ্ধ লক্ষ্য ধ্বংস করার জন্য, তা হতে পারে – সৈন্য বাহিনী, সাঁজোয়া গাড়ীর সারি, কামান ব্যবস্থার দল, প্রকৌশলের রকেট, আকাশ প্রতিরক্ষায় উপযুক্ত রকেট ব্যবস্থা অথবা হেলিকপ্টার দল, যা মাটিতে রয়েছে, তাছাড়াও কম্যাণ্ডিং পোস্ট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্র আর সামরিক শিল্পের কল কারখানা. ১৯৮৭ সালে “স্মের্চ” রকেট ব্যবস্থা সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল ও এখনও অবধি মনে করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যবস্থা বলেই. কিছু নীতিগত ভাবে নতুন প্রযুক্তিগত সমাধান, যা এই ব্যবস্থার জন্য করা হয়েছে ও তাতে নতুন করে যোগ করা হয়েছে, তা এই ব্যবস্থাকে এই ধরনের অস্ত্রের সর্বাধুনিক প্রজন্মের করে তুলেছে. “স্মের্চ” ব্যবস্থা যুদ্ধের উপযুক্ত ভাবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করার সময় মাত্র তিন মিনিট. সম্পূর্ণ ভাবে গোলা বর্ষণ করতে লাগে ৩৮ সেকেন্ড. আর তার এক মিনিট পরেই এই যন্ত্র তার জায়গা থেকে সরে যেতে পারে. তাই প্রতিপক্ষের তরফ থেকে অগ্নি বর্ষণের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা একেবারেই ধ্বংসের অযোগ্য হয়ে থাকতে পারে.

এই “স্মের্চ” ব্যবস্থার জন্য যে রকেট গোলা বানানো হয়, তা গঠনের ক্ষেত্রে খুবই অন্য রকমের, যা বিদেশের এই ধরনের রকেট ব্যবস্থার চেয়ে লক্ষ্য ভেদ করার সম্ভাবনাকে দুই তিন গুন বাড়িয়ে দিয়েছে. এই ধরনের রকেট ব্যবস্থা তৈরী করার প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ভাবেই রুশ – ভারত যৌথ প্রকল্পের হাতে দেওয়া হবে.

নতুন রুশ – ভারত সামরিক শিল্প কারখানা ভারতে নতুন কোন ব্যাপার নয়. সেখানে এখনই অনেক গুলি একই ধরনের কারখানা কাজ করছে. যথেষ্ট হবে মনে করিয়ে দিলে যে, বহু ভারতীয় লোকই রুশ – ভারত যৌথ প্রকল্প “ব্রামোস” সম্বন্ধে জানেন. সেখানই বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন ডানাওয়ালা রকেট তৈরী করা হয়. এই ধরনের রকেটের গতি শব্দের চেয়ে প্রায় তিন গুন জোরে ওড়ে. এই কথা রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক প্রয়োজনের রকেট বাহিনীর প্রধান দপ্তরের কম্যান্ডার ভিক্টর এসিন মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন:

“ডানাওয়ালা রকেট ব্রামোস – ভারত ও রাশিয়ার সম্মিলিত প্রয়াসের একটি উত্কৃষ্ট উদাহরণ. এটা এমনকি এর নামেও প্রতিফলিত হয়েছে. রাশিয়া – ভারতের কারখানা ব্রামোস এরোস্পেস লিমিটেড, নাম দেওয়া হয়েছে ব্রহ্মপুত্র ও মস্কো নদীর নামের অংশ নিয়ে. এখানে উল্লেখ করব যে, এই কোম্পানীর সদর দপ্তর রয়েছে ভারতে. রকেট রুশ ও ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের সম্মিলিত প্রয়াসেই তৈরী হয়েছে, কিন্তু এখানে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় বিশেষজ্ঞরাই. এই রকেটের ভিত্তি হয়েছিল রাশিয়ার একই ধরনের শব্দাতীত গতি সম্পন্ন রকেট, যদিও ভারতে যে ধরনের রকেট এখন তৈরী করা হচ্ছে, তা পুরনো রকেটের চেয়ে বেশী গুণমান সম্পন্ন”.

রাশিয়ার থেকে পাওয়া লাইসেন্সের ভিত্তিতে ভারতে বর্তমানে তৈরী করা হচ্ছে যুদ্ধবিমান সু – ৩০ এমকাই ও ট্যাঙ্ক টি – ৯০. রাশিয়া ও ভারত একত্রে কাজ করছে বহুমুখী পরিবহন বিমান এমটিএ ও পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নিয়ে, আলোচনা করা হচ্ছে ভারতে বিশ্ব বিখ্যাত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র কালাশনিকভ ও “সাইগা – ১২” তৈরী করার কারখানা খোলার.

পশ্চিমের দেশ গুলি ভারতকে স্বেচ্ছায় অস্ত্র বিক্রী করে থাকে, কিন্তু কেউই তাড়াহুড়ো করছে না ভারতকে প্রযুক্তি দেওয়ার জন্য, আর তার ওপরে যৌথ প্রকল্প খোলার. ওয়াশিংটন যেমন, একাধিকবার দিল্লীকে আশ্বাস দিয়েছে সামরিক প্রযুক্তি দেওয়ার জন্য, যা ভারতীয়দের আগ্রহের বিষয়, কিন্তু বাস্তবে এই সব কার্যকরী করার জন্য কিছু হয় নি. একই রকম অন্য পশ্চিমের কর্পোরেশন গুলিও ব্যবহারে দেখিয়েছে.

ভারতের সংবাদপত্র “দ্য পাইয়োনিয়র” তাদের প্রকাশিত “রাশিয়া ভারতকে আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেটের লক্ষ্য নির্ণয়ের প্রযুক্তি দেবে” শীর্ষক এক প্রবন্ধে লিখেছে: “কিছু উন্নত দেশের ভারতে প্রতি বিমাতা সুলভ মনোভাবের কথা লক্ষ্য করলে, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা ভারতের সঙ্গে করছে আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময় নিয়ে গত কুড়ি বছর ধরেই, আমাদের রকেট প্রযুক্তি নির্মাতাদের জন্য এটা খুবই কঠিন হয়ে যেতে পারত, যদি না রাশিয়া আমাদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসত”.